যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে শক্তিশালী সিন্ডিকেট; সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে চলছে তদন্ত
- আপডেট এর সময় : ০৩:১২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
- / 190
যশোর সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। বিগত সরকারের শাসনামলে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট দলিল সংরক্ষণ থেকে শুরু করে জমি রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি করে আসছে। দুর্নীতির চিত্র: নথি গায়েব থেকে ঘুষ বাণিজ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেট দলিল বালাম বই যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব করার মতো গুরুতর অনিয়মে জড়িত। অফিস চলাকালীন সময়ের বাইরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং সরকারি নথি চুরি বা ধ্বংস করার মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, জমির শ্রেণীবিভাগ পরিবর্তন ও চৌহদ্দি সংশোধনের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ নেওয়া এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার মতো অপরাধও নিয়মিত ঘটছে। সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও তাদের অপতৎপরতা এই দুর্নীতির নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে রয়েছেন যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রার আমিনা বেগম। যিনি তার কেরানি ভৈরব চক্রবর্তীর মাধ্যমে পুরো অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করেন। ভৈরব চক্রবর্তী বিগত সরকারের এমপি নাবিলপন্থী। দলিল লেখকদের মাধ্যমে ঘুষের টাকা আদায় করেন তিনি নেজই। অনুসন্ধানে সিন্ডিকেট সদস্যরা সাব-রেজিস্ট্রারের অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে উঠে আসে এই সিন্ডিকেটের বেশ কয়েজন সদস্যের নাম। তারা হলেন, মো. শাহিন আলম,শেখ নেসার আহমেদ,মো. শরিফুল ইসলাম চুন্নু,মো. সোহাগ হোসেন,মো. মাহাবুর রহমান,মো. মিরাজ হোসেন,শামসুজ্জামান শাহীন ও খায়রুজ্জামান সাগর। এদের কেউ দলিল লেখন, কেউ প্রকাশ্যে করেন দালালি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই সিন্ডিকেটের গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসেরে এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কেরানি ভৈরব চক্রবর্তী ঘুষের স্লিপ তৈরি করেন, যা উমেদার শাওন সংগ্রহ করেন। এছাড়া, মোহরার রমাপ্রসাদ দলিল বণ্টনের দায়িত্বে এবং পিয়ন আবু সাঈদ বালাম বই তিনতলা থেকে ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত। নকলনবিশ নুরুন্নবী, রাসেল ও আসমা খাতুন চুক্তির ভিত্তিতে বালাম নথিভুক্ত করেন এবং মোটা অংকের বিনিময়ে নথি গায়েব করেন। এই কর্মকর্তা আরও জানান, সাব-রেজিস্ট্রার আমিনা বেগম প্রতিদিন তার নিজ জেলা মাগুরা থেকে ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ ২০-৫৭৪০) ব্যবহার করে যশোর অফিসে আসেন। যা তার বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া যশোরে বিলাশবহুল বাড়িসহ কোটি টাকার জমিজমা রয়েছে তার। গুঞ্জন রয়েছে ঢাকাতেও ফ্ল্যাট কিনেছেন এই সাব-রেজিস্ট্রার। প্রশাসনের পদক্ষেপ ও তদন্তের অগ্রগতি জেলা রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আবু তালেব জানান, প্রাথমিক তদন্তে নকলনবিশ আসমা খাতুনকে সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সাব-রেজিস্ট্রার আমিনা বেগমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দোষী প্রমাণিত হলে আমিনা বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











