০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্র রাজনীতির এ কাল সে কাল

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০৮:২১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪
  • / 314

১৯ শতকের সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা সঞ্চারের লক্ষ্যে একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। একই সময়ে আনন্দমোহন বসু ছাত্রদের রাজনীতিতে যোগদানের আহ্বান জানান এবং ছাত্রদের রাজনীতি বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাদান শুরু করেন। কিন্তু বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, বিশেষত স্কুল ও কলেজ কতৃপক্ষের কড়া শাসন ছিল ছাত্রদের রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা। এছাড়া উনিশ শতকের শেষ ভাগের পূর্ব পর্যন্ত ঔপনিবেশিক সরকারের একটি চাকরির জন্য কিছুটা বিদ্যার্জন ছিল সব শ্রেণির ছাত্রের উচ্চাভিলাষ।
অতীত থেকেই ছাত্র রাজনীতি দেশের কাজে অনেক অবদান রাখছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসবের একটা বড় অংশে অবদান ছাত্রদের।ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করা এবং তাদের স্বার্থের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগ করাকে ছাত্ররাজনীতি বলে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে ছাত্র রাজনীতির সংজ্ঞা হচ্ছে, ‘ছাত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা তোলা, এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করানো এবং সেই এজেন্ডার পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে পরিচালিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ছাত্র রাজনীতি বলা যায়। সংজ্ঞাটি বৈশ্বিক। বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির সংজ্ঞা একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে ছাত্ররাজনীতি শুধুই ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণ নিয়ে কাজ করে না। 
এখানে ছাত্ররাজনীতির পরিধি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে দেশময় ছড়িয়ে আপামর জনতার কাছে পৌঁছে গেছে। এখানকার ছাত্ররাজনীতি প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখানে ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস ভিন্ন। এখানে ছাত্ররা দেশ স্বাধীন করে ফেলেছে। 
এখানে ছাত্ররা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করে। এখানে ছাত্ররা অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এখানে ছাত্ররা শোষিতের পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক অর্জন। সেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতির যেসব অর্জন আছে, তা বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই। এই জায়গাগুলোতেই মূলত আমাদের ছাত্ররাজনীতি অনন্য

28 July 2026

ছাত্র রাজনীতির এ কাল সে কাল

ট্যাগ :
abc

ছাত্র রাজনীতির এ কাল সে কাল

আপডেট এর সময় : ০৮:২১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪

১৯ শতকের সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা সঞ্চারের লক্ষ্যে একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। একই সময়ে আনন্দমোহন বসু ছাত্রদের রাজনীতিতে যোগদানের আহ্বান জানান এবং ছাত্রদের রাজনীতি বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাদান শুরু করেন। কিন্তু বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, বিশেষত স্কুল ও কলেজ কতৃপক্ষের কড়া শাসন ছিল ছাত্রদের রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা। এছাড়া উনিশ শতকের শেষ ভাগের পূর্ব পর্যন্ত ঔপনিবেশিক সরকারের একটি চাকরির জন্য কিছুটা বিদ্যার্জন ছিল সব শ্রেণির ছাত্রের উচ্চাভিলাষ।
অতীত থেকেই ছাত্র রাজনীতি দেশের কাজে অনেক অবদান রাখছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসবের একটা বড় অংশে অবদান ছাত্রদের।ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করা এবং তাদের স্বার্থের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগ করাকে ছাত্ররাজনীতি বলে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে ছাত্র রাজনীতির সংজ্ঞা হচ্ছে, ‘ছাত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা তোলা, এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করানো এবং সেই এজেন্ডার পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে পরিচালিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ছাত্র রাজনীতি বলা যায়। সংজ্ঞাটি বৈশ্বিক। বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির সংজ্ঞা একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে ছাত্ররাজনীতি শুধুই ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণ নিয়ে কাজ করে না। 
এখানে ছাত্ররাজনীতির পরিধি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে দেশময় ছড়িয়ে আপামর জনতার কাছে পৌঁছে গেছে। এখানকার ছাত্ররাজনীতি প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখানে ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস ভিন্ন। এখানে ছাত্ররা দেশ স্বাধীন করে ফেলেছে। 
এখানে ছাত্ররা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করে। এখানে ছাত্ররা অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এখানে ছাত্ররা শোষিতের পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক অর্জন। সেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতির যেসব অর্জন আছে, তা বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই। এই জায়গাগুলোতেই মূলত আমাদের ছাত্ররাজনীতি অনন্য

28 July 2026

ছাত্র রাজনীতির এ কাল সে কাল