১০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁ বন্ধু মিতালী গ্রাহকের ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও, আটক ৪

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০৮:৫০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪
  • / 118

নওগাঁ প্রতিনিধি: বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুনকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটক করে নওগাঁয় পুলিশে দিয়েছে। রোববার সকালে বগুড়া থেকে তাকে আটক করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তার আগে শনিবার মামুনুর রশিদ মামুনের স্ত্রী, ভাগনি জামাই এবং বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী (এমডি) নাজিম উদ্দিন তনুর বোন সুফাকে আটক করে পুলিশ। নাজিম উদ্দিন তনু নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর মহল্লার নজরুল ইসলামের ছেলে । মামুনুর রশিদ মামুন আটকের খবর জানার পর প্রায় দুইশ ভুক্তভোগীরা দুপুরে সদর থানায় গিয়ে ভীড় করে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠান। জানা যায়- নওগাঁ শহরের খাঁস-নওগাঁ পোষ্ট অফিস পাড়ায় গত কয়েক বছর থেকে বেসরকারি সংস্থা বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন ঋনদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এছাড়া জামানতকারীদের লাখে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা(লাভ) দিতেন। জেলার ১১ টি উপজেলাসহ জয়পুরহাট জেলার কয়েকটি উপজেলায় এ সংস্থার শাখা রয়েছে। উচ্চ মুনাফার ফাঁদে পড়ে গ্রামের সহজ-সরল শত শত মানুষ কোটি কোটি টাকা আমানত রাখে। এ সংস্থার সদস্য প্রায় সাড়ে ৫ হাজার জন। গত দুই মাস থেকে গ্রাহকদের মুনাফা দেয়া বন্ধ করে দেয় ওই সংস্থা। কিন্তু তারপরও সংস্থার প্রধান নির্বাহী (এমডি) নাজিম উদ্দিন তনু কৌশলে গ্রাহকদের ডিসেম্বর মাস থেকে মুনাফা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। কিছুদিন আগেও শহরের সরিষাহাটির মোড়ে একটি শাখা বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ পাওয়ায় শাখার শত শত গ্রাহকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। মুনাফা না পেয়ে কিছুদিন আগে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনী সহ প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করে। গত অক্টোবর মাসে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে এক সমাবেশে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সংস্থার পরিচালক ও চেয়ারম্যান। কিন্তু গত ১২ নভেম্বর সংস্থার সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে রাতের আধারে সাড়ে ৫ হাজার গ্রাহকের অন্তত ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় সংস্থার পরিচালক ও চেয়ারম্যান। শত শত গ্রাহক প্রতিদিন সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আদো টাকা পাবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় গ্রাহকরা। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। খাঁস-নওগাঁ মহল্লা বাসীন্দা মোসতাক আহমেদ পাপ্পু বলেন, অসুস্থ মানুষ কাজ করতে পারিনা। কর্ম জীবনে সঞ্চিত ৫লাখ টাকা গত ৩ বছর আগে এ সংস্থায় রেখেছিলাম। মাসে ১০ হাজার টাকা মুনাফা পেতাম। যা দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া সহ সংসারের খরচ মেটাতাম। গত দুই মাস আগে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেয়া হয়। বাঁকী টাকা তুলে নিবো আজকাল দিবো বলে কালক্ষেপণ করছিল তনু। হঠাৎ করে অফিস বন্ধ করে সবাই উধাও হয়ে যায়। এমাসেও মুনাফা পাওয়া যায়নি। এখন সংসার চালাতে ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। একই এলাকার গৃহবধু শারমিন বলেন, জমি বন্ধক রেখে গত এক বছর আগে এ সংস্থায় ৭লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। মাসে দুই হাজার করে লাভ পেতাম। বেশ কিছু সংস্থা পালিয়ে গেছে। এসব দেখে টাকা তুলে নিতে চেয়েছিলাম। ডিসেম্বর মাসে সংস্থা থেকে টাকাও দিতে চেয়েছে। কিন্তু তার আগেই পালিয়ে যায়। এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি। নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা মামুনুর রশিদ মামুনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাকে জিজ্ঞাবাদ করা হচ্ছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন- মামুনুর রশিদ মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। আগে তিনি কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এনজিও’র সাথে যুক্ত হন। তার কোন ব্যবসা বানিজ্য নাই। কোন যোগ্যতায় চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি জানেন না। এছাড়া কত টাকা সংস্থায় জমা আছে সেটাও জানেন না। এমন একজন মানুষ কিভাবে চেয়ারম্যান হতে পারে আর গ্রাহকরা কিভাবে এতো টাকা রাখতে পারে তা আমার বোধগম্য না।

27 July 2026

নওগাঁ বন্ধু মিতালী গ্রাহকের ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও, আটক ৪

abc

নওগাঁ বন্ধু মিতালী গ্রাহকের ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও, আটক ৪

আপডেট এর সময় : ০৮:৫০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪

নওগাঁ প্রতিনিধি: বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুনকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটক করে নওগাঁয় পুলিশে দিয়েছে। রোববার সকালে বগুড়া থেকে তাকে আটক করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তার আগে শনিবার মামুনুর রশিদ মামুনের স্ত্রী, ভাগনি জামাই এবং বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী (এমডি) নাজিম উদ্দিন তনুর বোন সুফাকে আটক করে পুলিশ। নাজিম উদ্দিন তনু নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর মহল্লার নজরুল ইসলামের ছেলে । মামুনুর রশিদ মামুন আটকের খবর জানার পর প্রায় দুইশ ভুক্তভোগীরা দুপুরে সদর থানায় গিয়ে ভীড় করে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠান। জানা যায়- নওগাঁ শহরের খাঁস-নওগাঁ পোষ্ট অফিস পাড়ায় গত কয়েক বছর থেকে বেসরকারি সংস্থা বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন ঋনদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এছাড়া জামানতকারীদের লাখে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা(লাভ) দিতেন। জেলার ১১ টি উপজেলাসহ জয়পুরহাট জেলার কয়েকটি উপজেলায় এ সংস্থার শাখা রয়েছে। উচ্চ মুনাফার ফাঁদে পড়ে গ্রামের সহজ-সরল শত শত মানুষ কোটি কোটি টাকা আমানত রাখে। এ সংস্থার সদস্য প্রায় সাড়ে ৫ হাজার জন। গত দুই মাস থেকে গ্রাহকদের মুনাফা দেয়া বন্ধ করে দেয় ওই সংস্থা। কিন্তু তারপরও সংস্থার প্রধান নির্বাহী (এমডি) নাজিম উদ্দিন তনু কৌশলে গ্রাহকদের ডিসেম্বর মাস থেকে মুনাফা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। কিছুদিন আগেও শহরের সরিষাহাটির মোড়ে একটি শাখা বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ পাওয়ায় শাখার শত শত গ্রাহকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। মুনাফা না পেয়ে কিছুদিন আগে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনী সহ প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করে। গত অক্টোবর মাসে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে এক সমাবেশে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সংস্থার পরিচালক ও চেয়ারম্যান। কিন্তু গত ১২ নভেম্বর সংস্থার সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে রাতের আধারে সাড়ে ৫ হাজার গ্রাহকের অন্তত ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় সংস্থার পরিচালক ও চেয়ারম্যান। শত শত গ্রাহক প্রতিদিন সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আদো টাকা পাবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় গ্রাহকরা। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। খাঁস-নওগাঁ মহল্লা বাসীন্দা মোসতাক আহমেদ পাপ্পু বলেন, অসুস্থ মানুষ কাজ করতে পারিনা। কর্ম জীবনে সঞ্চিত ৫লাখ টাকা গত ৩ বছর আগে এ সংস্থায় রেখেছিলাম। মাসে ১০ হাজার টাকা মুনাফা পেতাম। যা দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া সহ সংসারের খরচ মেটাতাম। গত দুই মাস আগে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেয়া হয়। বাঁকী টাকা তুলে নিবো আজকাল দিবো বলে কালক্ষেপণ করছিল তনু। হঠাৎ করে অফিস বন্ধ করে সবাই উধাও হয়ে যায়। এমাসেও মুনাফা পাওয়া যায়নি। এখন সংসার চালাতে ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। একই এলাকার গৃহবধু শারমিন বলেন, জমি বন্ধক রেখে গত এক বছর আগে এ সংস্থায় ৭লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। মাসে দুই হাজার করে লাভ পেতাম। বেশ কিছু সংস্থা পালিয়ে গেছে। এসব দেখে টাকা তুলে নিতে চেয়েছিলাম। ডিসেম্বর মাসে সংস্থা থেকে টাকাও দিতে চেয়েছে। কিন্তু তার আগেই পালিয়ে যায়। এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি। নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা মামুনুর রশিদ মামুনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাকে জিজ্ঞাবাদ করা হচ্ছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন- মামুনুর রশিদ মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। আগে তিনি কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এনজিও’র সাথে যুক্ত হন। তার কোন ব্যবসা বানিজ্য নাই। কোন যোগ্যতায় চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি জানেন না। এছাড়া কত টাকা সংস্থায় জমা আছে সেটাও জানেন না। এমন একজন মানুষ কিভাবে চেয়ারম্যান হতে পারে আর গ্রাহকরা কিভাবে এতো টাকা রাখতে পারে তা আমার বোধগম্য না।

27 July 2026

নওগাঁ বন্ধু মিতালী গ্রাহকের ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও, আটক ৪