বিএনপির ঘরে আওয়ামী লীগের সংসার
- আপডেট এর সময় : ০৩:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫
- / 79
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগের। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান দলটির সভানেত্রী ও
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দেখানো পথে দেশ ত্যাগ করেন দলটির শীর্ষ নেতারাও। ছাত্র-
জনতার তীব্র ক্ষোভ ও রোষাণলে বিপাকে পড়েন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
আত্মগোপনে চলে যান কেউ কেউ। কেউ আবার গাঁ বাঁচাতে নৌকা ছেড়ে উঠে পড়েন অন্যের ঘরে।
দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে ফেলেন
নিজের চেহারাও। এর বড় একটা অংশ আশ্রয় নেয় আওয়ামী লীগের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির
ছায়াতলে। তাদেরই একজন রাজধানীর পুরান ঢাকা এলাকার আমির হোসেন।
ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার এই আসামি এখন বিএনপির ছায়াতলে অটুট রেখেছেন নিজের দাপট। ৫ই
আগস্ট দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হওয়ার পর রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির
সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের ভাই বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মীর
আশরাফ আলী আজম, সাবেক কাউন্সিলর ও চকবাজার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার
পারভেজ বাদল, সাবেক ছাত্রদল নেতা জাফর ইকবাল বাবু, বিএনপি নেতা বাবলু, সাবেক যুবদল নেতা
কেয়ামসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। একটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজে
দেখা যায় এই আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে খোস মেজাজে গল্প ও পরে খাওয়া দাওয়া করেন বিএনপি
নেতারা।
পুরান ঢাকার অন্যতম বড় পলিথিন ব্যবসায়ী এই আমির হোসেন। সরকার পলিথিন নিষিদ্ধ করলেও
আমিরের নেতৃত্বে বিশাল সিন্ডিকেট এই ব্যবসা করছে প্রকাশ্যে। অভিযোগ রয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০
পলিথিন ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দেন আমির। এছাড়াও পুরান ঢাকায় যে কয়েকটি বাড়ি রয়েছে সেসব
বাড়িতে পলিথিন ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেন এবং তাদেরকে নিজের ছায়াতলে রাখেন এই আওয়ামী লীগ
নেতা। অবৈধভাবে এই পলিথিনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন
পলিথিন আমির নামে পরিচিত এই ব্যাক্তি।
একেতো নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসায়ী, তার ওপর জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামী,
তবে কিভাবে বিএনপির ঘরে নিজের সংসার পেতে বসেছেন, এমন প্রশ্নে আমির বৈঠকের কথা স্বীকার
করে বলেন এতো দিন হাজি সেলিম তাকে দেখে রাখতেন। এখন তিনি নেই। তাই বিএনপির পরিচিতদের
কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। তারাও এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
আমিরের কথায় প্রমাণ মেলে বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিচ্ছে। বিনিময়ে
পকেটে ভরছে মোটা অংকের টাকা।
একাধিক সুত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আমির নিজের প্রটেকশন চান। তার ব্যবসা
বাণিজ্য থেকে শুরু করে সবখানে নিরাপত্তা চান তিনি। এছাড়া ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় যেন তাকে
গ্রেপ্তার করা না হয়, সে বিষয়েও বিএনপি নেতাদের সহযোগিতা চান এই আওয়ামী লীগ নেতা। মোটা
অংকের টাকার বিনিময়ে দুপক্ষের সঙ্গে এই সমঝোতা হয় বলেও দাবি সুত্রটির।
বিষয়টি নিয়ে জানতে একাধিকবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর
নেওয়াজ আলী নেওয়াজের ভাই সাবেক কাউন্সিলর মীর আশরাফ আলী আজমের সঙ্গে যোগাযোগের
চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে হত্যা মামলার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়ে চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জকে
প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যদি কোন প্রমাণ মেলে সেক্ষেত্রে তার
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুধু রাজধানী নয় জুলাই-আগষ্ট যারা দেশের মুক্তিকামী মানুষের রক্তে নিজেদের হাত রাঙিয়েছে,
দেশজুড়ে সেই হত্যাকারী আওয়ামী দোষরদের নিজেদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি
করেছেন বিএনপির অনেক নেতা। বিএনপির ঘরে আওয়ামী লীগের এই সংসার শুধু জুলাই-আগষ্ট
শহীদদের সঙ্গেই বেইমানি নয়, দলটির হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের সঙ্গেও প্রতারণা বলে
মনে করছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দ্রুত দল থেকে সুবিধাবাদী, প্রতারক ও আওয়ামী
লীগের দোষরদের আশ্রয় দেয়া নেতাদের বহিষ্কারের দাবিও জানান তারা।




















