০৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজেদের বদলি ঠেকাতে প্রয়োজনে চেয়ারম্যানকেই বদলি করে দেয়

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ১১:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 74

জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবরই আলোচনায় থাকে ঘুষ-দুর্নীতি আর নৈরাজ্য নিয়ে। নিম্ন থেকে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, প্রায় সবখানেই চলে টাকার লেনদেন। বিভিন্ন সময় তাই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয় জগৃক। দুর্নীতির বিষবাস্পে ঘেরা এই দপ্তরে কর্তাব্যাক্তিরাও যেন অসহায়। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দুরের কথা, নিজের গদি বাঁচাতেই ব্যস্ত তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দপ্তরটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, অধস্তনদের বিরুদ্ধে জমা পড়েছেন অভিযোগের পাহাড়। বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে উল্টো উর্ধতন কর্মকর্তাকেই বদলি হতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট। ঘুষ বাণিজ্য, বদলি, পদোন্নতি সবকিছুই চলে সিন্ডিকেটের ইশারায়। এর বাইরে গেলে অন্যত্র বদলি অথবা থাকতে হয় কোনঠাসা হয়ে। এর পেছনে রাজনৈতিক নেতা, সচিবসহ রয়েছেন প্রভাবশালীরা। তারা আরও জানান, দুর্নীতিবাজদের বদলি করা হলে টাকার জোরে তারা বদলি ঠেকিয়ে দেয়। বছরের পর বছর একই জায়গায় বসে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে ঘুষ বাণিজ্য। তাদের দুর্নীতির খড়গ এসে পড়ে অন্যদের ওপর। কিন্তু তারা বহাল রয়েছেন নিজ জায়গাতেই। দুর্নীতিবাজ এই সিন্ডিকেট এতোটাই শক্তিশালী যে, ঘুষ-দুর্নীতির রাজত্ব চালিয়ে যেতে ও নিজেদের বদলি ঠেকাতে প্রয়োজনে চেয়ারম্যানকেই বদলি করে দেয়। সম্প্রতি জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. নুরুল বাসির দুর্নীতিবাজ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় তাকে বদলি করতে একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে বলে জানান জগৃকের কয়েকজন। তারা বলেন, “শুনেছি চেয়ারম্যানকেই নাকি বদলি করে দেবে। গৃহায়ন হলো টাকার জায়গা। এখানে শুন্য থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অনেকে। যখন চেয়ারম্যান তাদের ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করার চেষ্টা শুরু করছে, তখনই এই চক্র চেয়ারম্যানকে বদলির চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে”। বিষয়টি নিয়ে জানতো চাওয়া হয় জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. নুরুল বাসিরের কাছে। একান্ত সাক্ষাৎকারে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নিজের অসহায়ত্বের কথা অকপটে স্বীকার করেন তিনি। সৈয়দ মো. নুরুল বাসির বলেন, আপনি একটা লোক দেন যাকে বদলি করে দুর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তার চেয়ারে বসাবো। লোকবল সঙ্কট রয়েছে। এছাড়া আইনের কিছু ফাঁকফোকড় আছে যে কারণে দুর্নীতিবাজরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। তাদের সিন্ডিকেট এতোটাই শক্তিশালী যে তারা চেয়ারম্যানকেও বদলি করতে পারে। এরপরও দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান । তিনি বলেন, অভিযোগ প্রামাণিত হলে সেই কর্মকর্তার-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাম টানার উপায় কি? সচেতন মহল বলছে, দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এটা একার পক্ষে করা সম্ভব না। তবে সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখতে হবে সরকারকে। দুর্নীতি দমন কমিশনে নখ-দন্তহীন না বানিয়ে তাদেরকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। সরকারের স্বদিচ্ছা আর দুর্নীতি বিরোধী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপই পারে দুর্নীতির লাগাম টানতে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্তের নামে কালক্ষেপন না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের আওতায় আনতে হবে রাঘব বোয়ালদের। ছাড় দেয়া যাবে না চুনপুঁটিকেও। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ার প্রবনাতায় দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলেও মত সচেতন মহলের।

27 July 2026

নিজেদের বদলি ঠেকাতে প্রয়োজনে চেয়ারম্যানকেই বদলি করে দেয়

ট্যাগ :
abc

নিজেদের বদলি ঠেকাতে প্রয়োজনে চেয়ারম্যানকেই বদলি করে দেয়

আপডেট এর সময় : ১১:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবরই আলোচনায় থাকে ঘুষ-দুর্নীতি আর নৈরাজ্য নিয়ে। নিম্ন থেকে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, প্রায় সবখানেই চলে টাকার লেনদেন। বিভিন্ন সময় তাই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয় জগৃক। দুর্নীতির বিষবাস্পে ঘেরা এই দপ্তরে কর্তাব্যাক্তিরাও যেন অসহায়। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দুরের কথা, নিজের গদি বাঁচাতেই ব্যস্ত তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দপ্তরটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, অধস্তনদের বিরুদ্ধে জমা পড়েছেন অভিযোগের পাহাড়। বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে উল্টো উর্ধতন কর্মকর্তাকেই বদলি হতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট। ঘুষ বাণিজ্য, বদলি, পদোন্নতি সবকিছুই চলে সিন্ডিকেটের ইশারায়। এর বাইরে গেলে অন্যত্র বদলি অথবা থাকতে হয় কোনঠাসা হয়ে। এর পেছনে রাজনৈতিক নেতা, সচিবসহ রয়েছেন প্রভাবশালীরা। তারা আরও জানান, দুর্নীতিবাজদের বদলি করা হলে টাকার জোরে তারা বদলি ঠেকিয়ে দেয়। বছরের পর বছর একই জায়গায় বসে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে ঘুষ বাণিজ্য। তাদের দুর্নীতির খড়গ এসে পড়ে অন্যদের ওপর। কিন্তু তারা বহাল রয়েছেন নিজ জায়গাতেই। দুর্নীতিবাজ এই সিন্ডিকেট এতোটাই শক্তিশালী যে, ঘুষ-দুর্নীতির রাজত্ব চালিয়ে যেতে ও নিজেদের বদলি ঠেকাতে প্রয়োজনে চেয়ারম্যানকেই বদলি করে দেয়। সম্প্রতি জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. নুরুল বাসির দুর্নীতিবাজ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় তাকে বদলি করতে একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে বলে জানান জগৃকের কয়েকজন। তারা বলেন, “শুনেছি চেয়ারম্যানকেই নাকি বদলি করে দেবে। গৃহায়ন হলো টাকার জায়গা। এখানে শুন্য থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অনেকে। যখন চেয়ারম্যান তাদের ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করার চেষ্টা শুরু করছে, তখনই এই চক্র চেয়ারম্যানকে বদলির চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে”। বিষয়টি নিয়ে জানতো চাওয়া হয় জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. নুরুল বাসিরের কাছে। একান্ত সাক্ষাৎকারে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নিজের অসহায়ত্বের কথা অকপটে স্বীকার করেন তিনি। সৈয়দ মো. নুরুল বাসির বলেন, আপনি একটা লোক দেন যাকে বদলি করে দুর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তার চেয়ারে বসাবো। লোকবল সঙ্কট রয়েছে। এছাড়া আইনের কিছু ফাঁকফোকড় আছে যে কারণে দুর্নীতিবাজরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। তাদের সিন্ডিকেট এতোটাই শক্তিশালী যে তারা চেয়ারম্যানকেও বদলি করতে পারে। এরপরও দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান । তিনি বলেন, অভিযোগ প্রামাণিত হলে সেই কর্মকর্তার-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাম টানার উপায় কি? সচেতন মহল বলছে, দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এটা একার পক্ষে করা সম্ভব না। তবে সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখতে হবে সরকারকে। দুর্নীতি দমন কমিশনে নখ-দন্তহীন না বানিয়ে তাদেরকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। সরকারের স্বদিচ্ছা আর দুর্নীতি বিরোধী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপই পারে দুর্নীতির লাগাম টানতে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্তের নামে কালক্ষেপন না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের আওতায় আনতে হবে রাঘব বোয়ালদের। ছাড় দেয়া যাবে না চুনপুঁটিকেও। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ার প্রবনাতায় দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলেও মত সচেতন মহলের।

27 July 2026

নিজেদের বদলি ঠেকাতে প্রয়োজনে চেয়ারম্যানকেই বদলি করে দেয়