জাগৃকে টাকার খনি! বদলি ঠেকাতে মরিয়া কর্মকর্তারা
- আপডেট এর সময় : ০৩:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 84
জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগ যেন স্বর্ণের ডিম পাড়া হাস। এই দপ্তরে একবার প্রবেশ করলে কেউই বের হতে চান না। ছলে-বলে কৌশলে চেয়ার আকড়ে ধরে রাখেন যেকোন মূল্যে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন মানষিকতার কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ফাঁস হয় মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের গোপন তথ্য। অনুসন্ধানে একটি চিঠি আসে এই প্রতিবেদকের হাতে। যেখানে গত বছরের ২১ অক্টোবর ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার পরিচালক (উপসচিব) মোঃ আহসান হাবীবকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে বদলি করা হয়। কিন্তু অজানা কারণে ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও নিজের চেয়ারে অটল রয়েছে এই কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, আমার কর্তৃপক্ষ এখনও অনাপত্তিপত্র দেয়নি। তাছাড়া এখানে লোকবল সংকটের কারণে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষিয়টি নিয়ে জাতীয় গৃহায়ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করতে বলেন মোঃ আহসান হাবীব। অভিযোগ উঠেছে টাকার বিনিময়ে বদলি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন এই কর্মকর্তা। এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এসব মিথ্যা। আমি কেন টাকার বিনিময়ে বদলি ঠেকানোর চেষ্টা করবো। আর আপনি আমাকে এভাবে হিট করতে পারেন না”। ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার উপ-পরিচালক -১ আর. এম সেলিম শাহনেওয়াজ। বদলির আদেশ হয়েছিলো তারও। কিন্তু কোন অদৃশ্য প্রভাবে বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বদলি ঠেকিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। দালাল চক্রের মাধ্যমে সেবা গ্রহিতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়া, ঠিকাদারদের সাথে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিলো। কিন্তু প্রভাবশালী আর. এম সেলিম শাহনেওয়াজ সবকিছুই ম্যানেজ করে নেন কৌশলে। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে আর. এম সেলিম শাহনেওয়াজ দাবি করেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই আমার বদলি স্থগিত হয়েছে, আমার কি বদলি স্থগিত করার সুযোগ আছে? তিনি আরও বলেন, টাকার বিনিময়ে বদলি ঠেকানোর বিষয়টি সত্য নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে। ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে দালাল চক্র আছে যারা আমাদের নাম ভাঙিয়ে অনেকে টাকা নিচ্ছে। অফিস সহকারি রাকিব, সুমন আপনার নামে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছে, এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এরা নতুন ছেলে, নতুন বদলি হয়ে আসছে। তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আর কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা নেয়, সেটাতো তাদের ব্যাপার। দালাল সিন্ডিকেটের বিষয়টি নিজ মুখে স্বীকার করলেও, চক্রের সাথে নিজের লেনদেনের বিষয়টি মানতে নারাজ ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার উপ-পরিচালক -১ আর. এম সেলিম শাহনেওয়াজ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, ভূমি ও সম্পত্তি শাখায় বদলি হয়ে আসতে কোটি টাকা গুনতে হয়। এ চেয়ারের প্রতি সবারই লোভ রয়েছে। এখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। এত সহজে কেউ এখান থেকে যেতে চায় না। আমিও শুনছি, মোটা অংকের টাকার বিনিময় বদলি ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। অলরেডি একজন বদলি ঠেকিয়েছেন। আপনিতো বুঝেন জাতীয় গৃহায়ন মানে টাকা, এখানে টাকার কোন বিকল্প নাই। এই কর্মকর্তার কথাতেই বোঝা যাচ্ছে, কেন ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা ছাড়তে চান না এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবার জানা। এরপরও কেন নেয়া হয়না কোন পদক্ষেপ, সেই প্রশ্ন এখন সবার মনে।




















