ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প শেষ হবে কবে; কাজের ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ
- আপডেট এর সময় : ০১:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫
- / 163
২০২২ সালের ১২ নভেম্বরে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়েটির নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। মোট এক হাজার ৯৬০টি পিলারের মধ্যে এক হাজার ২০০টি পিলার দাঁড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদকাল থাকলেও সার্বিক অগ্রগতি মাত্র ৫০ শতাংশ। প্রকল্প শেষ করার জন্য আছে মাত্র ১৬ মাস। এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- আশুলিয়া বাজার থেকে সাভার ইপিজেড পর্যন্ত বিদ্যুতের লাইন সরাতে হবে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে আপাতত ওই অংশে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ এলাকার বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচ দিয়ে নিতে হবে। এতে প্রয়োজন হবে বাড়তি খরচ। যা প্রকল্পে আগে থেকে ধরা ছিল না। বিমানবন্দরের কাওলা থেকে পিলার তুলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জমি পড়েছে এ অংশে। তারা জমি হস্তান্তর করছে না সেতু কর্তৃপক্ষকে। ফলে এ অংশের ৮৫০ মিটারের মধ্যে ৬৫০ মিটারে কোনো কাজ হচ্ছে না। ধউর থেকে আশুলিয়া নদীর শ্রেণি পরিবর্তন হয়েছে। ফলে ব্রিজের উচ্চতা বেড়েছে। এ ছাড়া বাইপাইল মোড়ে ওঠা-নামার জায়গা ছিল না। সেখানে ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ করা হবে নতুন করে। ফলে ডিজাইনেও পরিবর্তন আনা হবে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় আগের চেয়েও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনটি ধাপে চলছে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ। প্রথম সেকশন শুরু হয়েছে বিমানবন্দরের কাওলা থেকে, দ্বিতীয় সেকশন ধউর ব্রিজ থেকে এবং তৃতীয় সেকশন আশুলিয়া থেকে। বর্তমানে প্রকল্পটির অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে পাইল, ব্রড পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার ও পিয়ার ক্যাপ নির্মাণের কাজ চলছে। অনেক জায়গায় পিলারও দাঁড়িয়ে গেছে। একদিকে চলছে কাজ , অন্যদিকে চলছে জমি অধিগ্রহণও। প্রকল্পের কাজের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৩৭ ভাগ এবং সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৫০ ভাগ। তবে, সেকশন ১ ও ২ থেকে সেকশন ৩-এর কাজ কিছুটা পিছিয়ে আছে। ড্রেনেজ লাইনের কাজও খুব একটা এগোয়নি। মেগা বাজেটের এই প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া দুরের কথা, আরও কতদিন সময় বাড়াতে হবে সেই প্রশ্ন অনেকের। প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কাজের চেয়ে ভোগান্তিই এখন বেশি। সুদিনের আশায় ফেলে রাখা ও অসমাপ্ত কাজে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বেশি। ধুলাবালি ও শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ তারা। বিয়ষটি আমলে না নিয়ে ধীরে ধীরে নামমাত্র কাজ চলমান রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা আরও জানান, এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এর সুফল মিলবে ঠিকই। কিন্তু প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কাজের ধীরগতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করতে ব্যস্ত। প্রকল্পের শুরুতেই যেখানে জমি অধীগ্রহণ শেষ করার কথা, সেখানে এখনও অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে। তাছাড়া নানান অজুহাতে প্রকল্পের সময় ও ব্যায় বাড়ানোর পায়তারা করছে সংশ্লিষ্টরা। এতে জনগণের টাকার অপচয় আর সংশ্লিষ্টদের পকেট ভারি হবে বলেও অভিযোগ করেন কেউ কেউ। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এর সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কানসা করেন স্থানীয়রা। এই প্রকল্পের আওতায় মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থাকবে ২৪ কিলোমিটার। যেটি বিমানবন্দর, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো, বাইপাইল ও ঢাকার ইপিজেডে গিয়ে শেষ হবে। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা-নামার জন্য ১০.৮৪ কিলোমিটারের ১৪টি র্যাম্প থাকবে। এ ছাড়া নবীনগর ফ্লাইওভার হবে ১.৯৫ কিলোমিটার। আশুলিয়া বিলের ওপর চার লেনের ২.৭২ কিলোমিটারের সেতু থাকবে। ১৪.২৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের রাস্তাও থাকবে। এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ, ৫০০ মিটার ওভারপাস, বাইপাইল ইন্টারচেঞ্জ, পাঁচটি টোলপ্লাজা নির্মাণ করা হবে। ২০১৭ সালে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি চার লাখ টাকা ব্যায়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন করা হয়। ওই সময় এর মেয়াদ ধরা হয়েছিলো ২০২২ সালের জুন মাস পর্য়ন্ত। কিন্তু তখন কোনো কাজই শুরু হয়নি। পরে ২০২২ সালের ১২ নভেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু করে চার বছর সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এর মেয়াদ ধরা হয়। এই প্রকল্পের মোট ব্যায়ের নয় হাজার ৬৯২ কোটি টাকা দিচ্ছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। বাকি সাত হাজার ৮৬০ কোটি দেবে বাংলাদেশ সরকার। ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি)।



















