০৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভার বিআরটিএ আমিনুল ইসলামের ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০৪:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • / 172

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) দুর্নীতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। খোদ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মদদেই চলছে দুর্নীতির মচ্ছব। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে সুবিধাভোগী ও কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে যেমন অনিয়ম রয়েছে। তেমনি তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন সহ নানার নিয়মের অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

বিআরটিএ অফিসকে দালালমুক্ত করতে অনলাইনে আবেদন করা ও ফি জমা দেওয়াসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে কোনো ভাবেই দালালমুক্ত হচ্ছে না সাভার বিআরটিএ অফিস। মানুষের ভোগান্তি আগের মতোই রয়ে গেছে।

বিআরটিএ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলেও সাভার সার্কেল কার্যালয়ের চিত্র ভিন্ন। এখানে ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা। টাকা হলেই অনভিজ্ঞরা পাচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স। সড়কের আনফিট গাড়ীগুলো পাচ্ছে ফিটনেস সার্টিফিকেট। আর এ সবই চলছে সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শকের নিজস্ব দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

শুধু তাই নয়, ড্রাইভিং পরীক্ষার নামে লোক দেখানো উপস্থিতি দেখিয়ে অদক্ষ চালকরা নির্দ্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কে পাস দিয়ে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইয়ে দিচ্ছেন। এর নেপথ্যে রয়েছেন মোটরযান পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
আরো জানা যায়, পরীক্ষা বোর্ড মোটরযান পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের নিজস্ব দালাল দিয়ে পরিচালিত হয়। যেসব প্রার্থী দালালদেরকে টাকা দিয়ে থাকেন। তারা লেখাপড়া ও গাড়ি চালাতে জানুক বা নাই জানুক লিখিত, মৌখিক, প্র্যাকটিক্যাল সবখানেই পাস করে থাকেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে, একজন অফিস সহকারি বলেন, একজন পরীক্ষার্থী লেখাপড়া জানে না তাহলে তিনি কিভাবেই লিখিত পাস করেন। পরীক্ষায় টাকা দিলে পাশ করানোর নামে বাণিজ্য করে আসছেন। আরোও বলেন, মোটরযান পরিদর্শকের যোগসাজসে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করে আসছেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাস ফেলের ঘুষ বাণিজ্য।
প্রতিটি নতুন পরীক্ষার জন্য ২০০০-২৫০০ টাকা এবং নবায়ন পরীক্ষার জন্য ১৫০০-২০০০ হাজার টাকা। প্রতিটি
পরীক্ষা বোর্ডে ১৫০-২০০ জন পরীক্ষা প্রার্থী থাকেন। বিআরটিএ সূত্রে, গড়ে প্রতিমাসে ২০টি পরীক্ষা বোর্ড হয়। গড়ে প্রতিটি পরীক্ষা বোর্ডে ১০০ পরীক্ষা প্রার্থীর থেকে ২০০০ টাকা করে নিলে। প্রতিটি পরীক্ষা বোর্ড থেকে দুই লক্ষ টাকা।
২০ টি বোর্ডে ৪০ লক্ষ টাকা। এটি হলো ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাস ফেল এর ঘুষ বাণিজ্যের চিত্র।

রেজিস্ট্রেশনে ঘুষ পরিমাণ।
নতুন মোটর সাইকেল ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও প্রতিটি ফাইল জন্য অফিস খরচ হিসেবে দিতে ২০০০-৩০০০ হাজার টাকা দিতে হয়।

ফিটনেসনে ঘুষ পরিমাণ।
ফিটনেসের জন্য প্রতিটি গাড়ি প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসে, ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে, বাসে সহ ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও প্রতিটি ফাইল জন্য অফিস খরচ হিসেবে দিতে ২০০০-৫০০০ হাজার টাকা দিতে হয়।

রুট পারমিটের ঘুষ বাণিজ্য।
ভারি যান রুট পারমিট পেতে ও দিতে হয় টাকা। প্রতিটি ফাইল জন্য অফিস খরচ হিসেবে দিতে ১৫০০-২৫০০ টাকা দিতে হয়।

মালিকানা বদলির বাণিজ্য।
ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও মালিকানা বদলির ক্ষেত্রে প্রতিটি ফাইল জন্য অফিস খরচ হিসেবে দিতে ২০০০-৫০০০ হাজার টাকা দিতে হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাভার বিআরটিএ অফিসে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রতিটিসেবা খাতে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ দুর্নীতি। আর্থিক লেনদেনে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী আনফিট গাড়ি গুলোকে পরিদর্শন না করেই ফিটনেস সাটির্ফিকেট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোটরযান পরিদর্শকের আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বিআরটিএ সাভার সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শককে ঘুষ দুর্নীতি বিষয়ে জানতে, মোঠো ফোনে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

বিআরটিএ সাভার সার্কেলের সরকারি পরিচালক মোহাম্মদ নূর হোসেনকে ঘুষ দুর্নীতি বিষয়ে জানতে চাইলে, এসব বিষয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

27 July 2026

সাভার বিআরটিএ আমিনুল ইসলামের ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র

ট্যাগ :
abc

সাভার বিআরটিএ আমিনুল ইসলামের ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র

আপডেট এর সময় : ০৪:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) দুর্নীতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। খোদ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মদদেই চলছে দুর্নীতির মচ্ছব। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে সুবিধাভোগী ও কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে যেমন অনিয়ম রয়েছে। তেমনি তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন সহ নানার নিয়মের অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

বিআরটিএ অফিসকে দালালমুক্ত করতে অনলাইনে আবেদন করা ও ফি জমা দেওয়াসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে কোনো ভাবেই দালালমুক্ত হচ্ছে না সাভার বিআরটিএ অফিস। মানুষের ভোগান্তি আগের মতোই রয়ে গেছে।

বিআরটিএ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলেও সাভার সার্কেল কার্যালয়ের চিত্র ভিন্ন। এখানে ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা। টাকা হলেই অনভিজ্ঞরা পাচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স। সড়কের আনফিট গাড়ীগুলো পাচ্ছে ফিটনেস সার্টিফিকেট। আর এ সবই চলছে সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শকের নিজস্ব দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

শুধু তাই নয়, ড্রাইভিং পরীক্ষার নামে লোক দেখানো উপস্থিতি দেখিয়ে অদক্ষ চালকরা নির্দ্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কে পাস দিয়ে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইয়ে দিচ্ছেন। এর নেপথ্যে রয়েছেন মোটরযান পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
আরো জানা যায়, পরীক্ষা বোর্ড মোটরযান পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের নিজস্ব দালাল দিয়ে পরিচালিত হয়। যেসব প্রার্থী দালালদেরকে টাকা দিয়ে থাকেন। তারা লেখাপড়া ও গাড়ি চালাতে জানুক বা নাই জানুক লিখিত, মৌখিক, প্র্যাকটিক্যাল সবখানেই পাস করে থাকেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে, একজন অফিস সহকারি বলেন, একজন পরীক্ষার্থী লেখাপড়া জানে না তাহলে তিনি কিভাবেই লিখিত পাস করেন। পরীক্ষায় টাকা দিলে পাশ করানোর নামে বাণিজ্য করে আসছেন। আরোও বলেন, মোটরযান পরিদর্শকের যোগসাজসে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করে আসছেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাস ফেলের ঘুষ বাণিজ্য।
প্রতিটি নতুন পরীক্ষার জন্য ২০০০-২৫০০ টাকা এবং নবায়ন পরীক্ষার জন্য ১৫০০-২০০০ হাজার টাকা। প্রতিটি
পরীক্ষা বোর্ডে ১৫০-২০০ জন পরীক্ষা প্রার্থী থাকেন। বিআরটিএ সূত্রে, গড়ে প্রতিমাসে ২০টি পরীক্ষা বোর্ড হয়। গড়ে প্রতিটি পরীক্ষা বোর্ডে ১০০ পরীক্ষা প্রার্থীর থেকে ২০০০ টাকা করে নিলে। প্রতিটি পরীক্ষা বোর্ড থেকে দুই লক্ষ টাকা।
২০ টি বোর্ডে ৪০ লক্ষ টাকা। এটি হলো ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাস ফেল এর ঘুষ বাণিজ্যের চিত্র।

রেজিস্ট্রেশনে ঘুষ পরিমাণ।
নতুন মোটর সাইকেল ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও প্রতিটি ফাইল জন্য অফিস খরচ হিসেবে দিতে ২০০০-৩০০০ হাজার টাকা দিতে হয়।

ফিটনেসনে ঘুষ পরিমাণ।
ফিটনেসের জন্য প্রতিটি গাড়ি প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসে, ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে, বাসে সহ ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও প্রতিটি ফাইল জন্য অফিস খরচ হিসেবে দিতে ২০০০-৫০০০ হাজার টাকা দিতে হয়।

রুট পারমিটের ঘুষ বাণিজ্য।
ভারি যান রুট পারমিট পেতে ও দিতে হয় টাকা। প্রতিটি ফাইল জন্য অফিস খরচ হিসেবে দিতে ১৫০০-২৫০০ টাকা দিতে হয়।

মালিকানা বদলির বাণিজ্য।
ব্যাংকে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও মালিকানা বদলির ক্ষেত্রে প্রতিটি ফাইল জন্য অফিস খরচ হিসেবে দিতে ২০০০-৫০০০ হাজার টাকা দিতে হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাভার বিআরটিএ অফিসে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রতিটিসেবা খাতে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ দুর্নীতি। আর্থিক লেনদেনে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী আনফিট গাড়ি গুলোকে পরিদর্শন না করেই ফিটনেস সাটির্ফিকেট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোটরযান পরিদর্শকের আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বিআরটিএ সাভার সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শককে ঘুষ দুর্নীতি বিষয়ে জানতে, মোঠো ফোনে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

বিআরটিএ সাভার সার্কেলের সরকারি পরিচালক মোহাম্মদ নূর হোসেনকে ঘুষ দুর্নীতি বিষয়ে জানতে চাইলে, এসব বিষয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

27 July 2026

সাভার বিআরটিএ আমিনুল ইসলামের ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র