সেনপাড়া পর্বতা ভূমি অফিস অনিয়ম ও দুর্নীতির অভয়ারণ্য
- আপডেট এর সময় : ০২:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
- / 264
রাজধানীর মিরপুর সেনপাড়া পর্বতা ভূমি অফিস দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। সাধারণ মানুষ এখানে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ, দালাল চক্রের হয়রানি, কাগজপত্রে বিলম্ব এবং অসহযোগিতামূলক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন সেবা প্রার্থীরা। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। একাধিক অভিযোগের প্রক্ষিতে এই ভুমি অফিসের নানান কর্মকান্ড নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির নামজারি, পর্চা উত্তোলন, খতিয়ান সংশোধন কিংবা জমা-খারিজের মতো মৌলিক সেবাগুলো পেতে হলেও ঘুষ দিতে হয়। অনেক সময় অফিসের কর্মচারীরাই সরাসরি টাকা দাবি করেন, আবার কখনও দালালদের মাধ্যমে আদায় করা হয়। এই অফিসে মোঃ শফিকুল ইসলামের কথায় এসবকিছু চলছে বলেও জানান অনেকে।
শফিকুল ইসলামের মদদেই পরিচালিত হয় বিশাল দালাল চক্র। এই চক্রের সদস্যরা অফিসের সর্বত্র বিচরণ করেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নথি যেখানে রাখা হয়, সেখানেও রয়েছে দালালদের সরব উপস্থিতি। এই দালালদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত শফিকুল ইসলাম হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ভুক্তোভোগীরা জানান, বর্তমান সময়ে এসেও প্রতিটি জমা-খারিজের জন্য ৮-১০ হাজার টাকা দিতে হয়। তাও আবার নির্দৃস্ট দালালের মাধ্যমে। একা একা কোন কাজ করতে গেলে ঘুরতে হয় বছরের পর বছর।
ভুক্তোভোগীরা আরও জানান, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় ভূমি সেবা ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নিলেও, সেনপাড়া ভূমি অফিসে তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। অনলাইনে আবেদন করলেও ফিজিক্যাল ফাইল ছাড়া প্রক্রিয়া এগোয় না। অফিসে গিয়ে কর্মচারীদের হাতে টাকা না দিলে কার্যক্রম ঝুলে থাকে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের কেন জানাননি এমন এক প্রশ্নে জবাবে ভুক্তোভোগীরা জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাবেই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।


















