এসিল্যান্ডের কলমের খোঁচায় একজনের জমি হয়ে যায় অন্য কারও
- আপডেট এর সময় : ০১:৫০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
- / 301
রাজধানীর মিরপুর সেনপাড়া পর্বতা ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ঘুষ, দুর্নীতি, দালাল চক্রের উৎপাতসহ বিস্তর অভিযোগ এই অফিস ঘিরে। এবার আপত্তি নিশ্পত্তি না করে জমির নামজারি দেয়ার ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে এই অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
গত বছরের আগস্টে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পাঠানো একটি লিগ্যাল নোটিশে পাতরুল মৌজায় ৩৮৭ নং খতিয়ানে নামজারী মোকদ্দমা ৯৯০ এ নামজারী জমাভাগ প্রদানে আপত্তি জানানো হয়। যেখানে বলা হয়, উক্ত জমির দাখিলকৃত দলিল অনুযায়ী জমির পরিমাণে গড়মিল, প্যান্টাগ্রাফ অনুযায়ী দখলীয় পজিশন সঠিক নেই। এরপরও গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যাক্তি অবৈধ প্রভাব বিস্তার, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যাক্তিকে দিয়ে চাপ প্রয়োগ, দালাল চক্রের মাধ্যমে অবেধ আর্থিক লেনদেন করে ওই জমির নামজারি করার চেষ্টা করছেন। দাখিলকৃত কাগজপত্র সঠিক না থাকায় এবং তথ্য গড়মিলের কারণে এরই মধ্যে তার ৩ বারের আবেদন খারিজ হয়েছে। তাই চতুর্থবার নামজারী জমাভাগ প্রদানের আবদনের প্রেক্ষিতে আপত্তি জানানো হয় ওই লিগ্যাল নোটিশে।
এরপর আরও দুই বার এই নাজারির আবেদন খারিজ করা হয়। এমনকি বর্তমান মিজ্ তানজিলা জান্নাত রেটিনা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজেও একবার আবেদন খারজি করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে হঠাই গিয়াস উদ্দিন নামের ওই ব্যাক্তিকে নামজারি দেয়া হয়েছে।
ভুক্তোভোগীর দাবি, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই নামজারি দিয়েছেন বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এর পেছনে সংগবদ্ধ দালাল চক্র কাজ করেছে বলেও জানান তিনি। এই ভুক্তোভোগী আরও জানান, এসিল্যান্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিলো আগেই। কিন্তু কাগজপত্রে গড় মিল থাকার পরও তিনি আমার জমি অন্যজনের নামে নামজারি করে দিয়েছেন।
এরআগে, একাধিক অভিযোগের প্রক্ষিতে এই ভুমি অফিসের নানান কর্মকান্ড নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে আসে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির নামজারি, পর্চা উত্তোলন, খতিয়ান সংশোধন কিংবা জমা-খারিজের মতো মৌলিক সেবাগুলো পেতে হলেও ঘুষ দিতে হয়। অনেক সময় অফিসের কর্মচারীরাই সরাসরি টাকা দাবি করেন, আবার কখনও দালালদের মাধ্যমে আদায় করা হয়। এই অফিসের ভূমি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলামের কথায় এসবকিছু চলছে বলেও জানান অনেকে।
এই বিষয় মিজ্ তানজিলা জান্নাত রেটিনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনাকে এভাবে তথ্য দেবো না, আপনি তথ্য অধিকারের আবেদন করেন আমি তথ্য দিয়ে দেবো। তিনি আপনার কি হয়? উনাকে বলেন মিস কেস করার জন্য।



















