ব্যাংক একীভূতকরণ ও আমানত নিয়ে শঙ্কা
- আপডেট এর সময় : ০৫:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 233
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক লুটপাট হয় ব্যাংকিং খাতে। নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে খাঁদের কিনরায় ঠেলে দেযা হয় ব্যাংকগুলোকে। আওয়ামী লুটেরাদের থাবায় মৃতপ্রায় ব্যাংকগুলোকে নতুন করে বাঁচাতে উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ব্যাপক লোকসানে থুকতে থাকা ৫টি ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মালিকায় ছিলো আওয়ামী সরকার–ঘনিষ্ঠ আর্থিক খাতে ব্যাপক সমালোচিত ব্যক্তি এস আলমের। আর এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–ঘনিষ্ঠ নজরুল ইসলাম মজুমদার।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন–ঘাটতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোকে একীভূত করতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এমন পরিস্থিতিতে কয়েক দফা এই ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত হতে সম্মত হয়েছে। আর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সময় চেয়েছে। তবে এক্সি ব্যাংক এখনই একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় না। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
ধুকতে থাকা এই ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানত দিতে ব্যার্থ হচ্ছে। চেক নিয়ে দিনের পর দিন গ্রাহকরা ব্যাংকের দুয়ারে ঘুরছেন। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা দু:শ্চিন্তায় পড়েছেন আমানত নিয়ে।
তাছাড়া একীভূত হলে এই ব্যাংকগুলোতে গচ্ছিত গ্রাহকদের আমানত কিভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় উত্তোলন করতে পারবেন, অথবা চলমান সঞ্চয় স্কিমগুলো কিভাবে চলবে বা বিভিন্ন স্কিমে রাখা আমানত কিভাবে ফিরে পাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় গ্রাহকরা।
এদিকে, দুর্বল ও একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের শতভাগ আমানত ফেরতের নিশ্চয়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর পরিমার্জিত খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আলোচনা শুরু হয়েছে ৫টি ব্যাংকে একীভূত করার বিষয়ে। আশা করি তারা এক-দুই বছরের মধ্যে ভালো করবে। কর্মকর্তা ও আমানতকারীদের জন্যও ভালো হবে। আমনত নিয়ে কোন শঙ্কা নেই, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গভর্নর আরও বলেন, ব্যাংকের মূলধন যদি ১০ শতাংশের নিচে হয় এবং প্রভিশন লস করে তাহলে ডিভিডেন্ড ও বোনাস দিতে পারবে না। এছাড়াও কোনো কর্মকর্তাকে বোনাস দেয়া হবে না। তিন মাসের ঋণ অনাদায়ী থাকলে তাকে ননপারফর্মিং লোন হিসেবে ধরা হবে।




















