আসছে রিটার্ন মৌসুম, জানতে হবে যেসব বিষয়
- আপডেট এর সময় : ০৩:০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
- / 179
বছর ঘুরে ব্যক্তির আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা আবারও সামনে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছেন অনেকে।এরই মধ্যে কেউ কেউ কাগজ কলম নিয়ে খসড়া হিসাব করতে বসে গেছেন।
আয়কর রিটার্নে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এরমধ্যে অন্যতম ব্যক্তি মাসিক আয়ে চলতি অর্থবছরে (আয়বর্ষ) নতুন হিসাব।
গত অর্থবছরে (আয়বর্ষ) যার মাসিক আয় ১ লাখ টাকা ছিল এবং দুই ঈদে যদি তার বোনাস হয় আরও ১ লাখ টাকা; তাহলে তার বার্ষিক আয়ের ওপর আয়কর আসে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। চলতি অর্থবছরে (আয়বর্ষ) এ পরিমাণ আয়ের ওপর নতুন বিধান অনুযায়ী আয়কর আসবে ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের জন্য যে অর্থ আইন করা হয়েছে, তাতে একই বেতন বা আয় থাকা সত্ত্বেও আয়কর বাড়বে ১১ হাজার ২৫০ টাকা বা ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
কর রেয়াতের হিসাব যুক্ত করলে দেখা যায়, নতুন বিধান অনুযায়ী আয়কর বেড়েছে ৫২ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ করছাড় নেওয়ার পর গত অর্থবছরের (আয়বর্ষ) আয়ের ওপর আয়কর দিতে হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকা। আর চলতি অর্থবছরের আয়ের ওপর আয়কর আসবে ৩২ হাজার ৭৫০ টাকা।
করমুক্ত আয়সীমার নতুন বিধান অনুযায়ী, এই সময়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয়ের জন্য ব্যক্তিকে কোনো কর দিতে হবে না।
আয়ের ওপর যেভাবে কর হিসাব করা হয়:
একজন সাধারণ ব্যক্তি করদাতা যদি এক লাখ টাকা মাসিক বেতন এবং উৎসব বোনাস হিসেবে আরও ১ লাখসহ মোট ১৩ লাখ টাকা আয় করেন তাহলে প্রথমেই তার আয়ের এক তৃতীয়াংশ বা ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা; অর্থাৎ করযোগ্য আয় হচ্ছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৬ টাকা।
সেক্ষেত্রে প্রথম ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ওপর কর শূন্য। পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর কর ১০ শতাংশ হারে ৩০ হাজার টাকা। এবং পরের স্তরে বাকি থাকা ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৬ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ নতুন বিধানে আয়কর আসবে ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা।
আয়কর রিটার্নে তথ্য প্রদানে বেশ সতর্ক থাকতে হয়। তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য উপস্থাপনে রয়েছে জরিমানা বিধান। এছাড়া রিটার্ন জমা না দিলে ইউটিলিটি সার্ভিসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কর অব্যাহতির সুবিধা বাদ পড়তে পারে, মাসিক ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ, বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তিতে জটিল সৃষ্টি হতে পারে।
আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ২০০ অনুযায়ী, আব্যশকীয় কোন তথ্য উপস্থাপন বা দাখিলে ব্যর্থ হলে সেই করদাতাকে সরাসরি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ৫০০ টাকা অতিরিক্ত জরিমানা।কোন করদাতা রিটার্ন দাখিল না করলে সর্বশেষ নির্ধারিত আয়ের ওপর করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা করা হবে, তবে ন্যূনতম ১ হাজার টাকা। সময়মতো রিটার্ন না দিলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা অতিরিক্ত জরিমানা করা হবে।
যে কারণে সময়মতো আয়কর দাখিল এবং সঠিক তথ্য উপস্থাপন জরুরী।




















