আবারও কাস্টমসের শামীম বিতর্ক! বগুড়ায় মালামাল জব্দ হলেও হয়নি মামলা
- আপডেট এর সময় : ০৭:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 44
জাকির পাটোয়ারী : রাতের আঁধারে কাস্টমসের বিশেষ টিম নামে অভিযানে। ধরা হয় বড় অঙ্কের শুল্ক ফাঁকির চালান। কিন্তু ঘটনার দীর্ঘদিন পার হলেও সেই অভিযানের কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি হয়নি মামলাও। বগুড়ার বনানী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের এই রহস্যজনক নীরবতায় জন্ম দিয়েছে অনেক প্রশ্নের। তবে কি ভেতরে চলছে কোটি টাকার রফদফা অথবা জব্দকৃত মালামাল আত্মসাতের পরিকল্পনা?
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৯ জুন গভীর রাতে বগুড়ার একটি কারখানায় অভিযান চালায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ। অভিযানে বগুড়া সদর থানা পুলিশও সহযোগিতা করে। তৎকালীন উপ কমিশনার শামীম উল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট, তামাক ও সিগারেট তৈরির সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও কাস্টমসের ভেতরের একটি সূত্রের দাবি, জব্দকৃত চালানের বাজারমূল্য কোটি টাকার ওপরে। কিন্তু অভিযানের পর সকাল হতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। যেখানে কাস্টমসের যেকোনো ছোটখাটো সফলতার পরও প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা সংবাদ সম্মেলন করার ধুম পড়ে যায়, সেখানে এই বিশাল অভিযানের দীর্ঘদিন ধরে চলছে পিনপতন নীরবতা।
নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো পণ্য জব্দের পর দ্রুততম সময়ে তা সরকারি গুদামে (ইনভেন্টরি) তালিকাভুক্ত করতে হয়। কিন্তু এই অভিযানের পর তা করা হয়নি। এখানে আইনের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এই বিষয়ে বগুড়া কাস্টমস ভ্যাট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান এবং কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। উল্টো কাস্টমস কার্যালয়ে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন দুটি টেলিভিশনের সাংবাদিক।
এ নিয়ে চাপে পড়ার পর তৎকালীন উপ কমিশনার শামীম উল আলম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, বিষয়টি বিভাগীয় মামলার জন্য পাঠানো হয়েছে। আর সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়সারা বক্তব্য দিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন।
এরআগেও, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নকল সিগারেট স্ট্যাম্প আমদানির ঘটনায় সাক্ষির জবানবন্দীতে উঠে আসে তৎকালীন উপ কমিশনার শামীমের নাম। এরপরও মামলায় তাকে আসামি না করে উল্টো দেয়া হয় পদন্নতি। গত ২২ জুন এক প্রজ্ঞাপনে তাকে যুগ্ম কমিশনার পদে পদন্নতি দেয়া হয়।
পর পর দুটি আলোচিত ঘটনায় জড়িয়েছে যুগ্ম কমিশনার শামীমের নাম। দুর্নীতি আর অনিয়মের চরম সীমা লঙ্ঘনের পরও কেন এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নে উত্তর জানতে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে গিয়েও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





















