১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনে আধা কিলোমিটার সড়কের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ

Din Islam
  • আপডেট এর সময় : ০৪:৩১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / 14

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর অন্যতম অভিজাত সংসদীয় এলাকা ঢাকা-১৭, একদিকে গুলশান, বনানী ও বারিধারার ঝকঝকে সড়ক ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা, অন্যদিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সিদ্দিকনগর, সাগুফতা, বালুঘাট ও বাইগারটেকের মতো অবহেলিত জনপদ।

একই আসনের মধ্যে নাগরিক সুবিধার এমন বৈপরীত্য যেন দুই ভিন্ন ঢাকার প্রতিচ্ছবি। অথচ সিদ্দিকনগর থেকে সাগুফতা হয়ে মিরপুর ডিওএইচএস গেট পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটার সংযোগ সড়কটি বছরের পর বছর বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কাদা, পানি ও বড় বড় গর্তে ভরে সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অযোগ্য। ফলে প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্টের আলব্দিরটেক, বাইগারটেক, বালুঘাট ও ব্যাপারী মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত কাদাপানিতে একাকার। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা মিরপুর-১২ ডিওএইচএসের নতুন ব্রিজসংলগ্ন মন্দির এলাকা থেকে সাগুফতার ভেতর দিয়ে সিদ্দিকনগর পর্যন্ত সংযোগ সড়কে। বড় বড় গর্তে ভরা সড়কটিতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বালুঘাট, মানিকদি, সিদ্দিকনগর ও বাইগারটেক এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি।

ব্যাপারী মার্কেটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা মালেক বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ে মিরপুর ডিওএইচএস থেকে সিদ্দিকনগর হয়ে বালুঘাট যাওয়া যায়। মানুষের চলাচল অনেক বেশি। অথচ আধা কিলোমিটারের এই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

সিদ্দিকনগরের বাসিন্দা শিপন বলেন, “মিরপুর ডিওএইচএস থেকে সিদ্দিকনগর পর্যন্ত প্রধান চলাচলের রাস্তাটিই বছরের পর বছর বেহাল। জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা ডেসকোর গাড়িও সহজে এলাকায় ঢুকতে পারে না। এতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে আমরা বড় ঝুঁকিতে থাকি।”

আলব্দিরটেকের বাসিন্দা সবুজ খান বলেন, “সাত-আট বছর ধরে একই দুর্ভোগ চলছে। বৃষ্টি হলেই চলাফেরা কঠিন হয়ে যায়। আশপাশের অনেক রাস্তা সংস্কার হলেও অজানা কারণে আমাদের এই রাস্তাটি এখনো অবহেলিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী গোলাম মর্তুজা সরকার বলেন, “এলাকার মানুষ রাস্তার জন্য জমিও ছেড়ে দিয়েছেন। এখন সিটি করপোরেশনের উচিত দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা।”

এ বিষয়ে ডিএনসিসির সাবেক ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহির বলেন, সড়কটির দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম জানান, ওই এলাকায় ৩৭ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আরও উন্নয়ন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রতিশ্রুতি ও প্রকল্পের ঘোষণার চেয়ে এলাকাবাসীর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চলাচলের উপযোগী একটি সড়ক। গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকার পাশেই বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগের অবসানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

29 July 2026

প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনে আধা কিলোমিটার সড়কের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ

ট্যাগ :
abc

প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনে আধা কিলোমিটার সড়কের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ

আপডেট এর সময় : ০৪:৩১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর অন্যতম অভিজাত সংসদীয় এলাকা ঢাকা-১৭, একদিকে গুলশান, বনানী ও বারিধারার ঝকঝকে সড়ক ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা, অন্যদিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সিদ্দিকনগর, সাগুফতা, বালুঘাট ও বাইগারটেকের মতো অবহেলিত জনপদ।

একই আসনের মধ্যে নাগরিক সুবিধার এমন বৈপরীত্য যেন দুই ভিন্ন ঢাকার প্রতিচ্ছবি। অথচ সিদ্দিকনগর থেকে সাগুফতা হয়ে মিরপুর ডিওএইচএস গেট পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটার সংযোগ সড়কটি বছরের পর বছর বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কাদা, পানি ও বড় বড় গর্তে ভরে সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অযোগ্য। ফলে প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্টের আলব্দিরটেক, বাইগারটেক, বালুঘাট ও ব্যাপারী মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত কাদাপানিতে একাকার। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা মিরপুর-১২ ডিওএইচএসের নতুন ব্রিজসংলগ্ন মন্দির এলাকা থেকে সাগুফতার ভেতর দিয়ে সিদ্দিকনগর পর্যন্ত সংযোগ সড়কে। বড় বড় গর্তে ভরা সড়কটিতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বালুঘাট, মানিকদি, সিদ্দিকনগর ও বাইগারটেক এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি।

ব্যাপারী মার্কেটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা মালেক বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ে মিরপুর ডিওএইচএস থেকে সিদ্দিকনগর হয়ে বালুঘাট যাওয়া যায়। মানুষের চলাচল অনেক বেশি। অথচ আধা কিলোমিটারের এই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

সিদ্দিকনগরের বাসিন্দা শিপন বলেন, “মিরপুর ডিওএইচএস থেকে সিদ্দিকনগর পর্যন্ত প্রধান চলাচলের রাস্তাটিই বছরের পর বছর বেহাল। জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা ডেসকোর গাড়িও সহজে এলাকায় ঢুকতে পারে না। এতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে আমরা বড় ঝুঁকিতে থাকি।”

আলব্দিরটেকের বাসিন্দা সবুজ খান বলেন, “সাত-আট বছর ধরে একই দুর্ভোগ চলছে। বৃষ্টি হলেই চলাফেরা কঠিন হয়ে যায়। আশপাশের অনেক রাস্তা সংস্কার হলেও অজানা কারণে আমাদের এই রাস্তাটি এখনো অবহেলিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী গোলাম মর্তুজা সরকার বলেন, “এলাকার মানুষ রাস্তার জন্য জমিও ছেড়ে দিয়েছেন। এখন সিটি করপোরেশনের উচিত দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা।”

এ বিষয়ে ডিএনসিসির সাবেক ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহির বলেন, সড়কটির দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম জানান, ওই এলাকায় ৩৭ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আরও উন্নয়ন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রতিশ্রুতি ও প্রকল্পের ঘোষণার চেয়ে এলাকাবাসীর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চলাচলের উপযোগী একটি সড়ক। গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকার পাশেই বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগের অবসানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

29 July 2026

প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনে আধা কিলোমিটার সড়কের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ