১২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মায়ের ত্যাগের জয়: মরণব্যাধি হারিয়ে সিভিল জজ এস এম তাইজুল ইসলাম

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৪:২২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 36

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মায়ের ত্যাগের জয়: মরণব্যাধি হারিয়ে সিভিল জজ এস এম তাইজুল ইসলাম

পিতৃহীন শৈশব ও চরম দারিদ্র্যের কষাঘাত জয় করে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন এস এম তাইজুল ইসলাম। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব আলীপুর গ্রামের তোতা মিয়া সরকারের ছেলে তাইজুল মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারান। এরপর থেকে অভাব-অনটনের মাঝে তিন সন্তানকে মানুষ করার কঠিন সংগ্রাম শুরু করেন মা হাওয়া বেগম। নিজে মাঠে কাজ করে ও ভাইদের সহায়তায় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। মায়ের একটাই স্বপ্ন ছিল—ছেলে একদিন বিচারকের আসনে বসবে।

দারিদ্র্যের মাঝেও তাইজুল নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন প্রতিটি ধাপে। ২০০৮ সালে আলীপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে সব বিষয়ে ‘এ প্লাস’ পেয়ে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসিতেও পান ‘এ প্লাস’। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সুযোগ পেয়ে ২০১৫ সালে এলএলবি এবং ২০১৮ সালে এলএলএম সম্পন্ন করেন।

তবে স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আসে মরণব্যাধি। ২০১৩ সাল থেকে শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর ২০১৫ সালে ধরা পড়ে তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। অনার্স তৃতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় ডায়ালাইসিস শুরু হয় এবং চিকিৎসকরা জরুরি কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন, যার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। যেখানে তিন বেলা খাওয়ার সংস্থান করাই ছিল দুরূহ, সেখানে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব বলেই মনে হয়েছিল।

তবে জীবনযুদ্ধের এই কঠিন সময়ে তাইজুলের পাশে এসে দাঁড়ান তাঁর মা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন ও এলাকার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মায়ের চরম আত্মত্যাগ এবং সকলের সম্মিলিত আর্থিক সহায়তায় ২০১৭ সালে ভারতে তাঁর সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। সুস্থ হয়ে তিনি পুনরায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেন এবং অদম্য মনোবল নিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

অবশেষে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২০তম স্থান অর্জন করে সিভিল জজ হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন তাইজুল ইসলাম। মরণব্যাধি ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল তাঁর পরিবারের নয়, বরং সমগ্র এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিকূলতার মুখেও মায়ের স্বপ্নপূরণ ও মানবীয় সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইলেন নতুন এই বিচারক।

1 November 2026

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মায়ের ত্যাগের জয়: মরণব্যাধি হারিয়ে সিভিল জজ এস এম তাইজুল ইসলাম

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মায়ের ত্যাগের জয়: মরণব্যাধি হারিয়ে সিভিল জজ এস এম তাইজুল ইসলাম

আপডেট এর সময় : ০৪:২২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিতৃহীন শৈশব ও চরম দারিদ্র্যের কষাঘাত জয় করে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন এস এম তাইজুল ইসলাম। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব আলীপুর গ্রামের তোতা মিয়া সরকারের ছেলে তাইজুল মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারান। এরপর থেকে অভাব-অনটনের মাঝে তিন সন্তানকে মানুষ করার কঠিন সংগ্রাম শুরু করেন মা হাওয়া বেগম। নিজে মাঠে কাজ করে ও ভাইদের সহায়তায় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। মায়ের একটাই স্বপ্ন ছিল—ছেলে একদিন বিচারকের আসনে বসবে।

দারিদ্র্যের মাঝেও তাইজুল নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন প্রতিটি ধাপে। ২০০৮ সালে আলীপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে সব বিষয়ে ‘এ প্লাস’ পেয়ে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসিতেও পান ‘এ প্লাস’। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সুযোগ পেয়ে ২০১৫ সালে এলএলবি এবং ২০১৮ সালে এলএলএম সম্পন্ন করেন।

তবে স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আসে মরণব্যাধি। ২০১৩ সাল থেকে শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর ২০১৫ সালে ধরা পড়ে তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। অনার্স তৃতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় ডায়ালাইসিস শুরু হয় এবং চিকিৎসকরা জরুরি কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন, যার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। যেখানে তিন বেলা খাওয়ার সংস্থান করাই ছিল দুরূহ, সেখানে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব বলেই মনে হয়েছিল।

তবে জীবনযুদ্ধের এই কঠিন সময়ে তাইজুলের পাশে এসে দাঁড়ান তাঁর মা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন ও এলাকার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মায়ের চরম আত্মত্যাগ এবং সকলের সম্মিলিত আর্থিক সহায়তায় ২০১৭ সালে ভারতে তাঁর সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। সুস্থ হয়ে তিনি পুনরায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেন এবং অদম্য মনোবল নিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

অবশেষে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২০তম স্থান অর্জন করে সিভিল জজ হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন তাইজুল ইসলাম। মরণব্যাধি ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল তাঁর পরিবারের নয়, বরং সমগ্র এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিকূলতার মুখেও মায়ের স্বপ্নপূরণ ও মানবীয় সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইলেন নতুন এই বিচারক।

1 November 2026

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মায়ের ত্যাগের জয়: মরণব্যাধি হারিয়ে সিভিল জজ এস এম তাইজুল ইসলাম