আল আরাফাহ পরিবহন কে থামাবে কে?
- আপডেট এর সময় : ০৬:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
- / 189
শুক্রবার বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত আল আরাফাহ পরিবহন ও আল আরাফাহ এক্সপ্রেসের দুটি বাস কাউন্টারকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে। যাত্রীদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হয় বাস কর্তৃপক্ষকে। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় বাস কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার চিত্র প্রকাশ্যে আসে।
যাত্রীদের প্রতি অমানবিক আচরণ জরিমানার পর, রামগঞ্জ থেকে ঢাকার মিরপুর ও কল্যাণপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যাত্রীদেরকে জোরপূর্বক রাত ১০:৪৫ মিনিটে কমলাপুরে নামিয়ে দেয়া হয়। চালক ও সুপারভাইজাররা সাফ জানিয়ে দেন, “গাড়ি আর যাবে না, পারলে ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দিন।”
এর ফলে নারী, বৃদ্ধ ও শিশু যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঈদের ছুটি শেষে মালামাল বহনকারী যাত্রীরা গরম ও ঘামের কষ্টে অতীষ্ট হয়ে পড়েন। নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে সিএনজি বা ট্যাক্সিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে যান, যার ফলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়।
ভাড়া বৃদ্ধি ও অবৈধ কার্যক্রম ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার পর থেকেই টঙ্গীর ভাড়া বেড়ে ৭০০ টাকা হয়ে যায়। অথচ যাত্রীদের অভিযোগ, আল আরাফাহ পরিবহনের একটিও বাসের রুট পারমিট নেই এবং বেশিরভাগ বাসের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ২০২৪ সালেই শেষ হয়ে গেছে। অনেক চালকের লাইসেন্স নেই, এমনকি অনেকে মামলার মধ্যে থেকেও নির্বিঘ্নে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবহন ব্যবস্থার বেহাল দশা যাত্রীদের অভিযোগ, এই সড়কে যাতায়াতের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। অতিরিক্ত ভাড়া সিন্ডিকেটের কবল থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বেশিরভাগ বাসের চালক, সুপারভাইজার এবং কাউন্টার ম্যানেজারদের আচরণ নোংরা ও দুর্ব্যবহারের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
ঢাকার টিকাটুলি কাউন্টারের অবস্থাও নাজুক। রাস্তার পাশে একটি টেবিল পেতে সেখানে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ ৫ আগস্টের আগেও এখানে একটি কাউন্টার ও যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা ছিল। বৃহস্পতিবার বিকাল, শনিবার ও রবিবার সকালে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
জনসাধারণের প্রশ্ন
এসব দেখার দায়িত্ব কার?
পরিবহন নেতাদের লুটপাট কি শেষ হবে না?
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই?
টাকার ভাগাভাগির লোভে প্রশাসনও কি চুপ থাকবে?
অবৈধ আয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবহন সেক্টর কবে নিয়ন্ত্রণে আসবে?
জনগণ ন্যায়বিচার চায়। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যাত্রীসাধারণের কষ্ট লাঘব করা।
এছাড়া ঢাকা রামগঞ্জ পানপাড়া রুটে লালসবুজ গাড়ি চলার কথা থাকলেও কেনো চলতে দেয়া হয়নি!সেই অদৃশ্য শক্তির মুখ কি আদৌ খুলবে প্রশ্ন থেকেই যায়।




















