০১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনে উচ্ছেদ, রাতে আবারও জমি দখলে নিলো এশিউর গ্রুপ

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৫:২৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 288

জাকির পাটোয়ারী: এ যেন ইঁদুর-বিড়াল খেলা। সকালে উচ্ছেদ, রাতেই দখল। এভাবেই চলছে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় গৃহয়ন কর্তৃপক্ষের জমি নিয়ে দখল-উচ্ছেদ খেলা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রীর মদদে মিরপুরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) মালিকানাধীন জমি দখলে নেয় কয়েকটি আবাসন কোম্পানি। দীর্ঘ দিন ধরে সেই জমিতে সীমানা প্রাচির নির্মাণ করে দখলে রেখেছে তারা। অনেক জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন। এমনকি সাধারণ মানুষের কাছে সেসব ভবনের ফ্ল্যাট বিক্রি করে তা হস্তান্তর করে দিয়েছে অনেকে।অবশেষে জাগৃকের জমি উদ্ধারে মাঠে নামেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধার করা হয় এশিউর গ্রুপের এশিউর ঢাকা স্কয়ার নামে ফ্ল্যাট প্রকল্প দিয়ে দখলে রাখা প্রায় ৩ একর জমি।
সরকারি নথি অনুযায়ী, বাউনিয়া মৌজার সিএস ৩১২৪ দাগসহ মোট ১৬৮ একর জমি ১৯৬৮ সালে অধিগ্রহণ করে সরকার। পরবর্তী সময়ে গেজেট প্রকাশ করে জমি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ১৯৯০, ২০১৫ ও সর্বশেষ ২০২০ সালে জমি হস্তান্তর করা হয়। অথচ বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় জমির একটি অংশ দখল করে রাখে আবাসন প্রতিষ্ঠান এশিউর গ্রুপ। যে জমিতে তারা এশিউর ঢাকা স্কয়ার নামে ফ্ল্যাট প্রকল্প চালু করেছিলো, সেখানে জাগৃকের মিরপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারের মডেল মসজিদ হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু সেই জায়গা দখলে নিয়ে সেখানে বহুতল একাধিক ভবন নির্মাণের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে ৫শ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছিলো এশিউর গ্রুপ।
সরকারের গেজেটভুক্ত বিশাল এই এলাকা উদ্ধারে বিভিন্ন সময় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও মামলা করেও সুরাহা পায়নি জাগৃক। উল্টো দীর্ঘ দিন পর প্রশাসনের সহযোগিতায় জমি উদ্ধার করা হলেও, রাতেই আবারও জমিটি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এশিউর গ্রুপের বিরুদ্ধে। এমনকি জমিটির চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে দেয় তারা। যদিও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে জমিটিতে আনসার ক্যাম্প বসিয়েছে জাগৃক কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রথম জাগৃকের এই জমি দখলে দখলে নেয় সাগুফতা হাউজিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুয়েল মোল্লা। যিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াম মোল্লার ভাতিজা। এরপর তিনি জমিটি কয়েকজন সাবেক সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। সেখান থেকে জমিটি নেয় এশিউর গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শেখ সাদী কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক। এরপর থেকে এশিউর কর্তৃপক্ষ কৌশলে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা-আমলা ও বিহারি ক্যাম্পের লোকজনকে সামনে রেখে জমিটি নিজেদের দখলে রাখেন। সরকারের বিশাল এই জমি দখলের চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে জাতীয় গৃহয়নের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও।
একটি সুত্র থেকে জানাযায়, ঢাকা ডিভিশন-১ এর তৎকালীন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ সোহেল রানা এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়া জনি সহ কয়েকজন কর্মকর্তা প্রায় ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে এশিউর গ্রুপকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের জমির দখল বুঝিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা জেলার প্রশাসক সার্ভে করে জমিটি। তৎকালীন সীমানা নির্ধারণের সময় টাকার বিনিময় সীমানা সরিয়ে অন্যত্র দেখান এই দুইজন। যে কারণে দিনের পর দিন চেষ্টা চালিয়েও জমিটি উদ্ধার করতে পারেনি জাগৃক।

1 November 2026

দিনে উচ্ছেদ, রাতে আবারও জমি দখলে নিলো এশিউর গ্রুপ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

দিনে উচ্ছেদ, রাতে আবারও জমি দখলে নিলো এশিউর গ্রুপ

আপডেট এর সময় : ০৫:২৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাকির পাটোয়ারী: এ যেন ইঁদুর-বিড়াল খেলা। সকালে উচ্ছেদ, রাতেই দখল। এভাবেই চলছে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় গৃহয়ন কর্তৃপক্ষের জমি নিয়ে দখল-উচ্ছেদ খেলা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রীর মদদে মিরপুরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) মালিকানাধীন জমি দখলে নেয় কয়েকটি আবাসন কোম্পানি। দীর্ঘ দিন ধরে সেই জমিতে সীমানা প্রাচির নির্মাণ করে দখলে রেখেছে তারা। অনেক জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন। এমনকি সাধারণ মানুষের কাছে সেসব ভবনের ফ্ল্যাট বিক্রি করে তা হস্তান্তর করে দিয়েছে অনেকে।অবশেষে জাগৃকের জমি উদ্ধারে মাঠে নামেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধার করা হয় এশিউর গ্রুপের এশিউর ঢাকা স্কয়ার নামে ফ্ল্যাট প্রকল্প দিয়ে দখলে রাখা প্রায় ৩ একর জমি।
সরকারি নথি অনুযায়ী, বাউনিয়া মৌজার সিএস ৩১২৪ দাগসহ মোট ১৬৮ একর জমি ১৯৬৮ সালে অধিগ্রহণ করে সরকার। পরবর্তী সময়ে গেজেট প্রকাশ করে জমি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ১৯৯০, ২০১৫ ও সর্বশেষ ২০২০ সালে জমি হস্তান্তর করা হয়। অথচ বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় জমির একটি অংশ দখল করে রাখে আবাসন প্রতিষ্ঠান এশিউর গ্রুপ। যে জমিতে তারা এশিউর ঢাকা স্কয়ার নামে ফ্ল্যাট প্রকল্প চালু করেছিলো, সেখানে জাগৃকের মিরপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারের মডেল মসজিদ হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু সেই জায়গা দখলে নিয়ে সেখানে বহুতল একাধিক ভবন নির্মাণের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে ৫শ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছিলো এশিউর গ্রুপ।
সরকারের গেজেটভুক্ত বিশাল এই এলাকা উদ্ধারে বিভিন্ন সময় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও মামলা করেও সুরাহা পায়নি জাগৃক। উল্টো দীর্ঘ দিন পর প্রশাসনের সহযোগিতায় জমি উদ্ধার করা হলেও, রাতেই আবারও জমিটি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এশিউর গ্রুপের বিরুদ্ধে। এমনকি জমিটির চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে দেয় তারা। যদিও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে জমিটিতে আনসার ক্যাম্প বসিয়েছে জাগৃক কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রথম জাগৃকের এই জমি দখলে দখলে নেয় সাগুফতা হাউজিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুয়েল মোল্লা। যিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াম মোল্লার ভাতিজা। এরপর তিনি জমিটি কয়েকজন সাবেক সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। সেখান থেকে জমিটি নেয় এশিউর গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শেখ সাদী কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক। এরপর থেকে এশিউর কর্তৃপক্ষ কৌশলে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা-আমলা ও বিহারি ক্যাম্পের লোকজনকে সামনে রেখে জমিটি নিজেদের দখলে রাখেন। সরকারের বিশাল এই জমি দখলের চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে জাতীয় গৃহয়নের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও।
একটি সুত্র থেকে জানাযায়, ঢাকা ডিভিশন-১ এর তৎকালীন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ সোহেল রানা এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়া জনি সহ কয়েকজন কর্মকর্তা প্রায় ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে এশিউর গ্রুপকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের জমির দখল বুঝিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা জেলার প্রশাসক সার্ভে করে জমিটি। তৎকালীন সীমানা নির্ধারণের সময় টাকার বিনিময় সীমানা সরিয়ে অন্যত্র দেখান এই দুইজন। যে কারণে দিনের পর দিন চেষ্টা চালিয়েও জমিটি উদ্ধার করতে পারেনি জাগৃক।

1 November 2026

দিনে উচ্ছেদ, রাতে আবারও জমি দখলে নিলো এশিউর গ্রুপ