উপ পরিচালক কামরুজ্জামানের নিয়ন্ত্রণে সেমসু!
- আপডেট এর সময় : ০৩:৪১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 137
সরকারি পণ্য ক্রয় ও সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিন্ডিকেট, প্রকল্পভিত্তিক বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ
“সেমসু” বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষর একটি ইউনিট। যা মূলত “প্রকিউরমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সরঞ্জাম ইউনিট” হিসেবে পরিচিত। এই ইউনিট বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার কেনাকাটা, সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত। যে কারণে সেমসুতে চাকরি মানেই দুর্নীতিবাজদের কাছে সোনার হরিণ পাওয়া। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই ইউনিটের অনেকেই রাতারাতি হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক।
ভুয়া বিল ভাউচারে নিম্ন মানের পণ্য কয়েকগুন বেশি দামে কেনা, যন্ত্রপাতি রক্ষনাবেক্ষন ও সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডার কারসাজি করে অনেকেই কিনেছেন বাড়ি,গাড়িসহ অঢেল সম্পদ।
সেই তালিকাতে ওপরের দিকেই রয়েছে উপ-পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট, স্টোরস ও সাপ্লাই)-এর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে জ্ঞতআয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন ও টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেমসুর কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেন, কামরুজ্জামান উপ পরিচালক পদ পাওয়ার পর প্রতিটি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন। টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই তার ঘনিষ্ঠ কিছু ঠিকাদারের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য টেন্ডারের শর্তাবলীতে এমন কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়, যা অন্য কোনো ঠিকাদারের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে, প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া কার্যত একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়, যেখানে ফলাফল পূর্বনির্ধারিত থাকে।
তারা আরও দাবি করেন, এই সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কামরুজ্জামান বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেন।
এসব অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে কামরুজ্জামান বলেন, এগুলো সব মিথ্যা বানোয়াট। আমি আসার পরে অল্প কিছু টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এই কারণে অভিযোগগুলো আমার নামে উঠেছে। সম্পদের বিষয় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মিরপুর স্বপ্ন নগরে আমার একটা ফ্ল্যাট আছে। আমার আয় করে সব দেওয়া আছে। আমি জানি কোন এক সময় দুদক আমার সম্পদের বিবরণী দেখবে। গ্রামের বাড়িতে আমার বাবার প্রচুর সম্পদ রয়েছে। আমরা এখনো যৌথ পরিবার, আমাদের সম্পদ এখনো ভাগ হয় নাই।
এদিকে, কামরুজ্জামানের আয় কর নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, নরসিংদীতে ৫ শতক জমি,
ঢাকার বাড্ডার সাতারকুল মৌজায় ২৪৭.৫০ অযুতাংশ জমি কিনেছেন তিনি, যার দলিল নম্বর ৬৩৪৬। হোসেননগর মৌজায় পারাতুলিতে ৪ শতক জমি রয়েছে তার।
যদিও একটি মহলের দাবি কামরুজ্জামানের সম্পদের পরিমাণ আরও অনেক বেশি। দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে সব সত্য।




















