১১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সয়াবিনের দাম

বাণিজ্য যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু সয়াবিন

Shuvo Ahmed
  • আপডেট এর সময় : ১০:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 395

শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা সম্প্রতি নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এবার সেই যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সয়াবিন।দুই দেশের পাল্টা-পাল্টি বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কনীতির কারণে বিশ্ববাজার ঝুঁকিতে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিপণ্য ও নিত্যপণ্যের দামে।
সম্প্রতি চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এর পাল্টা জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন-১ নভেম্বর থেকে চীনা পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রপ্তানিতেও নিয়ন্ত্রণ আনা হবে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, চীন ‘ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন সয়াবিন কেনা বন্ধ করেছে’। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে ২১ অক্টোবর এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চীন ধীরে ধীরে সয়াবিন আমদানির উৎসে পরিবর্তন এনেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে ব্রাজিলের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।
প্রতিবেদন বলা হয়, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির জন্য এখনো বড় অংশের সয়াবিন সরবরাহ চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি বেইজিং। অন্যদিকে ব্রাজিলের সয়াবিনের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের দূরে রাখছে। চীন হয়তো স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে রাষ্ট্রীয় মজুত ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারে-যা বৈশ্বিক সয়াবিন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
চলতি বছরের শুরুতে সয়াবিনের দাম ছিল প্রতি বুশেল ১০ দশমিক ১০ ডলার, মাঝখানে নেমে আসে ৯ দশমিক ৭০ ডলারে, পরে আবার স্থিতিশীল হয় প্রায় ১০ দশমিক ৮২ ডলারে।
এশিয়া বাজার বিশেষজ্ঞ সাদি কাইমাজ আনাদোলুকে বলেন,‘সয়াবিন যুক্তরাষ্ট্রে কেবল কৃষিপণ্য নয়, একটি সামাজিক-রাজনৈতিক ফসলও। কারণ কৃষকরাই ট্রাম্পের নির্বাচনি ভিত্তির বড় অংশ।’
তিনি জানান, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই সয়াবিন রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। আর চীন নিজে সয়াবিনে স্বনির্ভর নয়। তার ব্যাপক সংখ্যক পশুপালন শিল্পের কারণে দেশটিকে ব্যাপক পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে বেইজিং সেই চাহিদা মেটাতে বিকল্প হিসেবে ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকেছে।
চীনের কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় মজুত ব্যবহার শুরু হতে পারে। গত কয়েক বছরে তীব্র ক্রয়ের মাধ্যমে তারা প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন বাণিজ্যিক মজুত তৈরি করেছে, যা সাময়িক ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।
কাইমাজ আরও বলেন,‘যদি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে কোনো ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি হয়, তবে সয়াবিনের দাম বাড়বে।’
তিনি জানান, ব্রাজিলের সয়াবিন রপ্তানি এ বছর প্রথম নয় মাসে ১০২ মিলিয়ন টন ছাড়িয়েছে-যা রেকর্ড। এর মধ্যে প্রতি ১০০ টন রপ্তানির ৭৯ টনই গেছে চীনে। চীন শুধু সয়াবিন নয়-পাল্প, কফি, ভুট্টা ও লৌহ আকরিকসহ বহু সম্পদেরও সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

29 July 2026

বাণিজ্য যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু সয়াবিন

ট্যাগ :
abc

সয়াবিনের দাম

বাণিজ্য যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু সয়াবিন

আপডেট এর সময় : ১০:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা সম্প্রতি নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এবার সেই যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সয়াবিন।দুই দেশের পাল্টা-পাল্টি বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কনীতির কারণে বিশ্ববাজার ঝুঁকিতে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিপণ্য ও নিত্যপণ্যের দামে।
সম্প্রতি চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এর পাল্টা জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন-১ নভেম্বর থেকে চীনা পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রপ্তানিতেও নিয়ন্ত্রণ আনা হবে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, চীন ‘ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন সয়াবিন কেনা বন্ধ করেছে’। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে ২১ অক্টোবর এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চীন ধীরে ধীরে সয়াবিন আমদানির উৎসে পরিবর্তন এনেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে ব্রাজিলের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।
প্রতিবেদন বলা হয়, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির জন্য এখনো বড় অংশের সয়াবিন সরবরাহ চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি বেইজিং। অন্যদিকে ব্রাজিলের সয়াবিনের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের দূরে রাখছে। চীন হয়তো স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে রাষ্ট্রীয় মজুত ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারে-যা বৈশ্বিক সয়াবিন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
চলতি বছরের শুরুতে সয়াবিনের দাম ছিল প্রতি বুশেল ১০ দশমিক ১০ ডলার, মাঝখানে নেমে আসে ৯ দশমিক ৭০ ডলারে, পরে আবার স্থিতিশীল হয় প্রায় ১০ দশমিক ৮২ ডলারে।
এশিয়া বাজার বিশেষজ্ঞ সাদি কাইমাজ আনাদোলুকে বলেন,‘সয়াবিন যুক্তরাষ্ট্রে কেবল কৃষিপণ্য নয়, একটি সামাজিক-রাজনৈতিক ফসলও। কারণ কৃষকরাই ট্রাম্পের নির্বাচনি ভিত্তির বড় অংশ।’
তিনি জানান, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই সয়াবিন রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। আর চীন নিজে সয়াবিনে স্বনির্ভর নয়। তার ব্যাপক সংখ্যক পশুপালন শিল্পের কারণে দেশটিকে ব্যাপক পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে বেইজিং সেই চাহিদা মেটাতে বিকল্প হিসেবে ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকেছে।
চীনের কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় মজুত ব্যবহার শুরু হতে পারে। গত কয়েক বছরে তীব্র ক্রয়ের মাধ্যমে তারা প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন বাণিজ্যিক মজুত তৈরি করেছে, যা সাময়িক ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।
কাইমাজ আরও বলেন,‘যদি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে কোনো ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি হয়, তবে সয়াবিনের দাম বাড়বে।’
তিনি জানান, ব্রাজিলের সয়াবিন রপ্তানি এ বছর প্রথম নয় মাসে ১০২ মিলিয়ন টন ছাড়িয়েছে-যা রেকর্ড। এর মধ্যে প্রতি ১০০ টন রপ্তানির ৭৯ টনই গেছে চীনে। চীন শুধু সয়াবিন নয়-পাল্প, কফি, ভুট্টা ও লৌহ আকরিকসহ বহু সম্পদেরও সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

29 July 2026

বাণিজ্য যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু সয়াবিন