‘মোবাইল নয়, শিশুদের ফিরতে হবে খেলার মাঠে’ : প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
- আপডেট এর সময় : ০৬:২৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / 3
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
শিশুদের সুস্থ ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, শুধু শিশুদের খেলাধুলা করলেই হবে না, অভিভাবকদেরও শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের অতিনির্ভরতা কমিয়ে মাঠমুখী করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে পল্লবী থানার বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সনদ, নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব কর্মী ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ জীবনযাপনের বিষয়ে সচেতন করবেন। পাশাপাশি খেলার মাঠে প্রবীণদের হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। ১ জুলাই থেকে অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা এতে অংশ নিতে পারবে। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের খেলাধুলার সুযোগ করে দিলে তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে।
মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুরা মাঠে সময় কাটালে তারা প্রযুক্তির আসক্তি ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকবে। এ লক্ষ্যেই দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন খেলাধুলা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শুধু লিখিত পরীক্ষা নয়, মাঠে ব্যবহারিক মূল্যায়নেরও ব্যবস্থা থাকবে।
নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আমিনুল হক বলেন, শিশুদের বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ, সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা ও পারিবারিক মূল্যবোধ শেখাতে হবে। তিনি শিক্ষকদের প্রতিদিন ক্লাসে কিছু সময় নৈতিক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো অপশক্তি যেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলার কাজে ব্যবহার করতে না পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ড. এল. এম. কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব জয়নুল আবেদীন জয়, শিক্ষা সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এটিএম অলিউল হাসানাত তুহিন,পল্লবী থানা আহ্বায়ক আলী আকবর ও সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন পল্লবী থানা শাখার সভাপতি মো. হায়দার ইসলাম।













