০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একজন মনজু ভাই হয়ে যাওয়ার গল্প!

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০৯:৫৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / 313

আব্দুস সালাম মিতুল : ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের সমসাময়িক দিনগুলোতে অন্যান্য জেলার তুলনায় মাদারীপুরে কিছুটা স্বস্তি ও ভয়ের মিশ্রণে পরামর্শের জন্য নেতৃস্থানীয়রা নির্ভয়ে তার কাছে গিয়েছিল। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ এ জেলায় পুলিশের সি আই ডি শাখার অফিসার ইনচার্জ ওসি মনজু থেকে মনজু ভাই হয়ে ওঠা এতোটা সহজ ছিলোনা। আন্দোলনে অনেক নেতিবাচক ঘটনার মাঝেও জন-দাবীর পক্ষে অবস্থান ও ভেতরে ভেতরে সহযোগিতার ফলে ফলাওভাবে গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো তার বিপক্ষে শাস্তির ভয়ও ছিলো সেখানে। ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিনে ০১/১২/১৯৮৩ সালে গোলাম মোস্তফা ও হোসনেয়ারা দম্পতির সন্তান মনজু কর্মজীবনে ভয় ও উৎকন্ঠা দুর করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ী সাহসী ঠিকানা হয়ে উঠেছেন।
স্বামীকে ইতালি নেবার কথা বলে লিবিয়ার গহীন জঙ্গলে আটকে রেখে চলে মুক্তিপণ আদায়ে ভয়াবহ নির্যাতন। ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণে দিশেহারা স্ত্রী মাদারীপুর সদর থানায় মামলা করেন। ০৭/০৪/২০২৩ সালের মানব পাচার ও দমন আইনের চাঞ্চল্যকর সে ঘটনার রহস্য দ্রুত সময়ে উদঘাটন ও ভয়ংকর এমন অপহরণ সিন্ডিকেট সদস্যদের গ্রেপ্তার করে মাদারীপুরে আলোচনায় এসেছিলেন ওসি মনজু।
এভাবেই জেলার ডাসার উপজেলার মোঃ শহিদুল কবিরাজের বাড়িতে ডাকাতের ঘটনা, বিদেশি নাগরিক পরিচয় ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে রাজৈর পৌরসভার সাবেক কর্মকর্তা মাসুদুল এর খোয়া যাওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা উদ্ধার। এভাবেই কর্মস্থলে পুলিশিং সেবা বান্ধব দীপ্তিতে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভুক্তভোগী ও জনসাধারণের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি।
২০০৫ সালে ঢাকা কলেজ থেকে গণিত বিভাগে বিএসসি অনার্স শেষে একই বিষয়ে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেন তিনি। বাংলাদেশ পুলিশে চাকুরীর পূর্বেও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সাথে কাজ করেছেন তিনি। ২০১০ সালের মাঝামাঝি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদান করে দেশের জন গুরুত্বপূর্ণ থানা ও ইউনিটে নিজ দক্ষতা ও সততার সমন্বয়ে পুলিশ থেকে হয়ে উঠেছেন প্রিয় মনজু ভাই।
জীবনের অনেকটা সময় সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নে কেটেছে তার। বিশেষ করে এ এলাকায় অর্থাভাবে লেখাপড়ার খরচ মেটাতে না পারা অনেক দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের খোজ খবরের পাশাপাশি পায়ে হেঁটে খোজ নিতে হরহামেশাই যে কারো বাড়িতে মনজুর দেখা মিলে।সাদামাটা হাস্যোজ্বল থাকার মূলমন্ত্র হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মকে সুন্দর পৃথিবীর বিনির্মানে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে পুলিশে এমন মনজু আরো বেশি প্রয়োজন।

29 October 2026

একজন মনজু ভাই হয়ে যাওয়ার গল্প!

ট্যাগ :

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

একজন মনজু ভাই হয়ে যাওয়ার গল্প!

আপডেট এর সময় : ০৯:৫৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

আব্দুস সালাম মিতুল : ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের সমসাময়িক দিনগুলোতে অন্যান্য জেলার তুলনায় মাদারীপুরে কিছুটা স্বস্তি ও ভয়ের মিশ্রণে পরামর্শের জন্য নেতৃস্থানীয়রা নির্ভয়ে তার কাছে গিয়েছিল। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ এ জেলায় পুলিশের সি আই ডি শাখার অফিসার ইনচার্জ ওসি মনজু থেকে মনজু ভাই হয়ে ওঠা এতোটা সহজ ছিলোনা। আন্দোলনে অনেক নেতিবাচক ঘটনার মাঝেও জন-দাবীর পক্ষে অবস্থান ও ভেতরে ভেতরে সহযোগিতার ফলে ফলাওভাবে গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো তার বিপক্ষে শাস্তির ভয়ও ছিলো সেখানে। ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিনে ০১/১২/১৯৮৩ সালে গোলাম মোস্তফা ও হোসনেয়ারা দম্পতির সন্তান মনজু কর্মজীবনে ভয় ও উৎকন্ঠা দুর করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ী সাহসী ঠিকানা হয়ে উঠেছেন।
স্বামীকে ইতালি নেবার কথা বলে লিবিয়ার গহীন জঙ্গলে আটকে রেখে চলে মুক্তিপণ আদায়ে ভয়াবহ নির্যাতন। ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণে দিশেহারা স্ত্রী মাদারীপুর সদর থানায় মামলা করেন। ০৭/০৪/২০২৩ সালের মানব পাচার ও দমন আইনের চাঞ্চল্যকর সে ঘটনার রহস্য দ্রুত সময়ে উদঘাটন ও ভয়ংকর এমন অপহরণ সিন্ডিকেট সদস্যদের গ্রেপ্তার করে মাদারীপুরে আলোচনায় এসেছিলেন ওসি মনজু।
এভাবেই জেলার ডাসার উপজেলার মোঃ শহিদুল কবিরাজের বাড়িতে ডাকাতের ঘটনা, বিদেশি নাগরিক পরিচয় ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে রাজৈর পৌরসভার সাবেক কর্মকর্তা মাসুদুল এর খোয়া যাওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা উদ্ধার। এভাবেই কর্মস্থলে পুলিশিং সেবা বান্ধব দীপ্তিতে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভুক্তভোগী ও জনসাধারণের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি।
২০০৫ সালে ঢাকা কলেজ থেকে গণিত বিভাগে বিএসসি অনার্স শেষে একই বিষয়ে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেন তিনি। বাংলাদেশ পুলিশে চাকুরীর পূর্বেও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সাথে কাজ করেছেন তিনি। ২০১০ সালের মাঝামাঝি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদান করে দেশের জন গুরুত্বপূর্ণ থানা ও ইউনিটে নিজ দক্ষতা ও সততার সমন্বয়ে পুলিশ থেকে হয়ে উঠেছেন প্রিয় মনজু ভাই।
জীবনের অনেকটা সময় সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নে কেটেছে তার। বিশেষ করে এ এলাকায় অর্থাভাবে লেখাপড়ার খরচ মেটাতে না পারা অনেক দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের খোজ খবরের পাশাপাশি পায়ে হেঁটে খোজ নিতে হরহামেশাই যে কারো বাড়িতে মনজুর দেখা মিলে।সাদামাটা হাস্যোজ্বল থাকার মূলমন্ত্র হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মকে সুন্দর পৃথিবীর বিনির্মানে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে পুলিশে এমন মনজু আরো বেশি প্রয়োজন।

29 October 2026

একজন মনজু ভাই হয়ে যাওয়ার গল্প!