০৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুরে ফিরে কেন চট্টগ্রামেই এনবিআরের রেদওয়ান!

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০২:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 184

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দিয়ে দেশের প্রায় ৯০ ভাগ আমদানি ও রফতানি হয়ে থাকে। যে কারণে কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এ কাস্টম হাউস। যেখানে বিভিন্ন খাতে বহুমুখী দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের প্রতিটি ধাপে দুর্নীতি বিরাজমান এমন অভিযোগ অহরহ। ফলে সরকার প্রতিবছর মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি এইচএস কোড জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যের ভোক্তারা নিম্নমানের আমদানি পণ্য ক্রয় করছে। আমদানি পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে আসার পর থেকে কাস্টমস কার্যক্রম যখন শুরু হয় এবং তা খালাস প্রক্রিয়া পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে অবৈধভাবে অর্থ লোপাটের ঘটনাও রয়েছে। যা কাস্টমসের সঙ্গে জড়িত অর্থাৎ আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, বার্থ অপারেটর এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে স্পিড মানি হিসেবে নেয়া হয়ে থাকে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের চাকরির সুবাদে সিপাই থেকে শুরু করে, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব কর্মকর্তা, ডেপুটি কমিশনার, যুগ্ম কমিশনারসহ কমিশনার পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। এদের অনেকেই এখানে চাকরির সুবাদে খুব অল্প সময়ে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেতে মোটা অংকের টাকা খরচ করতে তাই দ্বিতীয়বার ভাবেন না দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। এই তালিকায় এবার উঠে এসেছে রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ রেদওয়ান উল্যা ভূঁইয়ার নাম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাকরির শুরু থেকেই এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড)-এর অধীনে গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন রেদওয়ান। এরপর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ছিলেন। পদোন্নতি নিয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ১৩ রাজস্ব কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলার বদলি করা হলেও। অদৃশ্য শক্তির কারণে মোঃ রেদওয়ান উল্যা ভূঁইয়াকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বদলি করা হয়। রহম্যয় কারণে চাকরির জীবনে বেশিরভাগই েএই কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পোস্টিং পেয়েছেন।
এ বিষয় রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ রেদওয়ান উল্যা ভূইয়া বলেন, আমি চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট দুই বছর হয় নাই, তার আগে আমাকে কাস্টম হাউসে বদলি করা হয়েছিলো। প্রশ্ন ছিল, ঘুরেফিরে কাস্টম হাউসে কেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, আপনি আমাকে দেখান আমি কোন তদবির করছি কিনা! কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেন আমাকে কেন কাস্টম হাউজে বদলি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বদলির অর্ডার দেখে আমি নিজেই অবাক হয়েছি। প্রশ্ন ছিল, তাহলে কি আপনার পিছনে সিন্ডিকেট টাকা ইনভেস্ট করেছে। তিনি বলেন, এইরকম কিছু প্রমাণ করতে পারলে আমি চাকরি ছেড়ে দেবো।
অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিন চট্টগ্রামে পোস্টিং থাকার সুবাদে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকের সঙ্গে এই কর্মকর্তার বেশ সক্ষতা রয়েছে। যেই সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই তিনি বদলি বা পদন্নতি চট্টগ্রামেই পেয়েছেন বারবার।

14 September 2026

ঘুরে ফিরে কেন চট্টগ্রামেই এনবিআরের রেদওয়ান!

abc

ঘুরে ফিরে কেন চট্টগ্রামেই এনবিআরের রেদওয়ান!

আপডেট এর সময় : ০২:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দিয়ে দেশের প্রায় ৯০ ভাগ আমদানি ও রফতানি হয়ে থাকে। যে কারণে কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এ কাস্টম হাউস। যেখানে বিভিন্ন খাতে বহুমুখী দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের প্রতিটি ধাপে দুর্নীতি বিরাজমান এমন অভিযোগ অহরহ। ফলে সরকার প্রতিবছর মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি এইচএস কোড জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যের ভোক্তারা নিম্নমানের আমদানি পণ্য ক্রয় করছে। আমদানি পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে আসার পর থেকে কাস্টমস কার্যক্রম যখন শুরু হয় এবং তা খালাস প্রক্রিয়া পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে অবৈধভাবে অর্থ লোপাটের ঘটনাও রয়েছে। যা কাস্টমসের সঙ্গে জড়িত অর্থাৎ আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, বার্থ অপারেটর এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে স্পিড মানি হিসেবে নেয়া হয়ে থাকে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের চাকরির সুবাদে সিপাই থেকে শুরু করে, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব কর্মকর্তা, ডেপুটি কমিশনার, যুগ্ম কমিশনারসহ কমিশনার পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। এদের অনেকেই এখানে চাকরির সুবাদে খুব অল্প সময়ে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেতে মোটা অংকের টাকা খরচ করতে তাই দ্বিতীয়বার ভাবেন না দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। এই তালিকায় এবার উঠে এসেছে রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ রেদওয়ান উল্যা ভূঁইয়ার নাম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাকরির শুরু থেকেই এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড)-এর অধীনে গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন রেদওয়ান। এরপর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ছিলেন। পদোন্নতি নিয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ১৩ রাজস্ব কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলার বদলি করা হলেও। অদৃশ্য শক্তির কারণে মোঃ রেদওয়ান উল্যা ভূঁইয়াকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বদলি করা হয়। রহম্যয় কারণে চাকরির জীবনে বেশিরভাগই েএই কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পোস্টিং পেয়েছেন।
এ বিষয় রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ রেদওয়ান উল্যা ভূইয়া বলেন, আমি চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট দুই বছর হয় নাই, তার আগে আমাকে কাস্টম হাউসে বদলি করা হয়েছিলো। প্রশ্ন ছিল, ঘুরেফিরে কাস্টম হাউসে কেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, আপনি আমাকে দেখান আমি কোন তদবির করছি কিনা! কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেন আমাকে কেন কাস্টম হাউজে বদলি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বদলির অর্ডার দেখে আমি নিজেই অবাক হয়েছি। প্রশ্ন ছিল, তাহলে কি আপনার পিছনে সিন্ডিকেট টাকা ইনভেস্ট করেছে। তিনি বলেন, এইরকম কিছু প্রমাণ করতে পারলে আমি চাকরি ছেড়ে দেবো।
অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিন চট্টগ্রামে পোস্টিং থাকার সুবাদে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকের সঙ্গে এই কর্মকর্তার বেশ সক্ষতা রয়েছে। যেই সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই তিনি বদলি বা পদন্নতি চট্টগ্রামেই পেয়েছেন বারবার।

14 September 2026

ঘুরে ফিরে কেন চট্টগ্রামেই এনবিআরের রেদওয়ান!