এনবিআরের ২৪ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফের উদ্যোগ, আবেদন রাষ্ট্রপতির দরবারে
- আপডেট এর সময় : ০৩:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 43
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত ২৪ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শাস্তি মওকুফের আবেদন জানিয়ে ইতোমধ্যে আয়কর ক্যাডারের ১৪ জন এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ক্যাডারের ১০ জন কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে, যা প্রক্রিয়া শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে এনবিআর সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মে মাসে, যখন এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার ও বিভাজন নিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এনবিআরের নিজস্ব কাঠামো, পদ-পদবি ও সাংগঠনিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউজ ও স্থলবন্দরে ছড়িয়ে পড়লে আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসে জট তৈরি হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা দেখা দেয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তবে পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আন্দোলনে জড়িত ৩৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে তিন সদস্য ও একজন কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় এবং বাকিদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা দেওয়া হয়। মামলার চূড়ান্ত রায়ে ২৪ কর্মকর্তার বেতন গ্রেড দুই থেকে তিন ধাপ পর্যন্ত অবনমন (লঘুদণ্ড) করা হয়। এই শাস্তির ফলে কর্মকর্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পদোন্নতির সুযোগ হারিয়ে চরম অসন্তোষ ও মনোবলহীনতায় ভোগেন। কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রশাসনিক অস্থিরতার পরোক্ষ প্রভাবেই বিগত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এনবিআরের রাজস্ব সম্মেলনে বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয় এবং শাস্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হলে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া এই আবেদন কোনো ক্ষমা চাওয়া নয়, বরং প্রশাসনিক নিয়মানুযায়ী শাস্তির বিরুদ্ধে প্রদত্ত অধিকারের চর্চা। এনবিআরের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের এই টানাপোড়েনের অবসান ঘটে কর্মকর্তাদের দণ্ড মওকুফ হলে বিভাগে স্বস্তি ফিরবে এবং রাজস্ব আহরণের গতি ত্বরান্বিত হবে।



















