অফারের নামে প্রতারণা:উপজাতি বাংলাদেশী নাগরিকের সহায়তায় চাইনিজ নাগরিকের প্রতারণা, মাসে পাচার ২৫০ কোটি
- আপডেট এর সময় : ০৪:১২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 4
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।
ডিবি বলছে, বাংলাদেশী উপজাতী মহিলা ঝর্ণার ভাড়া বাসা ব্যাবহার করে জুয়াও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো চক্রটি। যার মাদ্যমে মাসে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচার করা হতো।
রবিবার (০২ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে বিদেশি নাগরিক সহ ৪ জন গ্রেফতার’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সন্মেলনে এসব বলেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক ৮ টা দিকে ডিবি সাইবার ক্রাইমের একটি চৌকদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ফ্লাটে অভিযান চালায়।ওই ফ্লাটটি একটি বাংলাদেশী উপজাতী মহিলা ঝর্ণা ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং ছয় তলা বিল্ডিং পুরাটাই চাইনিজদেরকে ভাড়া দিয়েছেন। একতলায় উনি থাকেন। আর পাঁচটা ফ্লোর উনি চাইনিজদেরকে ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে চাইনিজরা বিভিন্ন সময় এসে হোটেলের মত থাকে।
তিনি বলেন, ওই বিল্ডিংয়ের চারতলা এবং পাঁচ তলায় আমরা পুরো ফ্লাটে যাই। যেয়ে দেখি ওখানে অনলাইন গেটওয়ে জুয়াসহ অন্যান্য প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। সেখান থেকে অনেকগুলো ডিভাইস জব্দ করছি। এই অবৈধ কাজ ব্যবহারের জন্য ১৪ টা ল্যাপটপ ১৬ টা মোবাইল ৬০০০ সিম জব্দ করা হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন প্রোভাইডারের সিম ও ২০টি গেটওয়ে মেশিন ও বিদেশী মদ জব্দ করা হয়। এসময় ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকার উদ্ধার করা হয়।
চক্রটির কাজের প্রক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় মোবাইলে বিভিন্ন মেসেজ আসে। যেখানে বলা হয়, অফার পেতে হলে এখানে ক্লিক করুন, চাকরির জন্য এখানে ক্লিক করুন বা অতিরিক্ত ইনকামের জন্য এখানে ক্লিক করুন। আপনি যখন ওখানে ক্লিক করবেন তখন আপনার কাছে অফার আসে। এই অফারগুলোর জন্য আপনাকে যে পেমেন্ট করতে হবে সেটা গেটওয়ের জন্য প্রায় ৬০০০ সিম ব্যবহার করে। আমরা ৬০০০ সিম পেয়েছি এবং প্রোভাইডারের প্রায় ১০-১২ হাজার সিমের যে স্লটগুলো আছে স্লটগুলো পেয়েছি। চক্রটি একটা মোবাইল দিয়ে ১২টা সিম ব্যাবহার করে প্রতারণা করতো বলেও জানান তিনি।
চক্রটি প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ইএমাআই নাম্বার পরিবর্তন করার ফলে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এই চক্রকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি এবং আগামী এক মাসে বাংলাদেশ থেকে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচার হওয়ার বাঁচতে পেরেছি।
তিনি বলেন, এক মাসে এই একটা মাত্র গেটওয়ের মাধ্যমে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে জুয়া ও অবৈধ ইনকাম করে, পাচার করে নিয়ে যেতো। আমরা এই চক্রটিকে গ্রেফতার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকগুলো চাইনিজ কোম্পানি চাইনিজরা এসে এই কাজগুলো করতেছে। কাজেই অনলাইন প্লাটফর্মে লোভে পড়ে আমরা দিন দিন সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছি।
















