০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অভিনব শুল্ক ফাঁকির কৌশল উদঘাটন

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আড়ালে কোটি টাকার ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০১:৩৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 47

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আড়ালে কোটি টাকার ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশের (Used Car Parts) আড়ালে আস্ত বিলাসবহুল গাড়ি ৩-৪টি বড় অংশে কেটে SKD (Semi Knocked Down) অবস্থায় আমদানির এক অভিনব কৌশল উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, বিআরটিএ ও কুয়েটের কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির যৌথ সহায়তায় চালানের মধ্যে থাকা ৪টি অভিজাত গাড়ির মূল কাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ (Essential Character) শনাক্ত করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা কাস্টমস গোয়েন্দা শাখা ও মোংলা সার্কেল কর্তৃক খালাস স্থগিতের পর গত ১৯ জুলাই ২০২৬ চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এতে যন্ত্রাংশের আড়ালে তারের বিন্যাস ও সেন্সরযুক্ত ফ্রন্ট কাট, রিয়ার কাট ও রুফ কাট প্যানেল অ্যাসেম্বলি পাওয়া যায়, যা পুনরায় সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব।

নথিপত্র অনুযায়ী, চালানটির বিল অব এনট্রি নম্বর C-6904 (তারিখ: ২০.০৪.২০২৬) এবং ম্যানিফেস্ট নম্বর ২০২৬/২৫৬। ১৪টি আইটেমে ১৬৪ প্যাকেজে মোট ১০,২২০ কেজি ওজনের চালানটি ঢাকার গেন্ডারিয়াভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ জাপান থেকে আমদানি করে। যার এলসি ও চালান নম্বর যথাক্রমে ০০০০২২৯১২৬০১০MDA2 এবং CAS21MAHI26 (তারিখ: ১১.০২.২০২৬)। খুলনার ‘এস. টি. ইন্টারন্যাশনাল’ নামের সিএন্ডএফ এজেন্ট দ্বারা পরিচালিত এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড-এর মাধ্যমে পরিশোধিত এই চালানের রপ্তানিকারক ছিল জাপানের ‘মাহি কার পোর্ট’ এবং বাহক জাহাজ ছিল ‘এমভি এমসিসি টোকিও’।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের পরীক্ষায় যে ৪টি বিলাসবহুল গাড়ি শনাক্ত হয়েছে সেগুলোর মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪.৫০ থেকে ৬.৭০ কোটি টাকা। শনাক্তকৃত গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের ইউকে সংস্করণ ‘রেঞ্জ রোভার ভোগ’ (আনুমানিক মূল্য ১.৬০–১.৮৫ কোটি টাকা, VIN: SALGA2EE9HA365609), ২০১০ সালের জার্মানি সংস্করণ ‘বিএমডব্লিউ 650i’ (আনুমানিক মূল্য ৬০–৯০ লাখ টাকা, VIN: WBALZ320X0C578880), ২০১৬ সালের জাপান সংস্করণ ‘লেকসাস LX570’ (আনুমানিক মূল্য ২.০০–৩.৫০ কোটি টাকা, Chassis: URJ201-4204300) এবং জাপান থেকে আমদানিকৃত একটি ‘টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলিট GRS204’ (আনুমানিক মূল্য ৩০–৪৫ লাখ টাকা)।

অভিযান পরিচালনাকারীরা জানান, বিশাল মূল্যের এই চার গাড়ির সম্পূর্ণ অংশকে মাত্র ৭,৯৩৫ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলার ১২২.৭৪৩৩ টাকা হারে) ইনভয়েস মূল্য দেখিয়ে অন্যান্য খরচসহ শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৯,৯৩,৫৪৭ টাকা। এ মূল্যের ওপর মাত্র ৬,১০,০৩০ টাকা শুল্ক-কর পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ না হয়ে খণ্ডিত গাড়ি হওয়ায় GRI Rule 2(a) অনুযায়ী এটিকে ‘সম্পূর্ণ মোটরযান’ বা SKD হিসেবে বিবেচনা করার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪, কাস্টমস আইন ২০২৩ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ১৯৯৭ সালের প্রজ্ঞাপন ভঙ্গের কারণে চালানটি বর্তমানে কাস্টম হাউস, মোংলায় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রকৃত শুল্ক-কর নিরূপণের অধীনে রয়েছে। કસ્ટમ্স গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, কাস্টমসের রাজস্ব ফাঁকি এবং Parts-এর ছদ্মবেশে অনিয়ম রোধে তাদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

2 November 2026

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আড়ালে কোটি টাকার ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

অভিনব শুল্ক ফাঁকির কৌশল উদঘাটন

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আড়ালে কোটি টাকার ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

আপডেট এর সময় : ০১:৩৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশের (Used Car Parts) আড়ালে আস্ত বিলাসবহুল গাড়ি ৩-৪টি বড় অংশে কেটে SKD (Semi Knocked Down) অবস্থায় আমদানির এক অভিনব কৌশল উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, বিআরটিএ ও কুয়েটের কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির যৌথ সহায়তায় চালানের মধ্যে থাকা ৪টি অভিজাত গাড়ির মূল কাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ (Essential Character) শনাক্ত করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা কাস্টমস গোয়েন্দা শাখা ও মোংলা সার্কেল কর্তৃক খালাস স্থগিতের পর গত ১৯ জুলাই ২০২৬ চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এতে যন্ত্রাংশের আড়ালে তারের বিন্যাস ও সেন্সরযুক্ত ফ্রন্ট কাট, রিয়ার কাট ও রুফ কাট প্যানেল অ্যাসেম্বলি পাওয়া যায়, যা পুনরায় সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব।

নথিপত্র অনুযায়ী, চালানটির বিল অব এনট্রি নম্বর C-6904 (তারিখ: ২০.০৪.২০২৬) এবং ম্যানিফেস্ট নম্বর ২০২৬/২৫৬। ১৪টি আইটেমে ১৬৪ প্যাকেজে মোট ১০,২২০ কেজি ওজনের চালানটি ঢাকার গেন্ডারিয়াভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ জাপান থেকে আমদানি করে। যার এলসি ও চালান নম্বর যথাক্রমে ০০০০২২৯১২৬০১০MDA2 এবং CAS21MAHI26 (তারিখ: ১১.০২.২০২৬)। খুলনার ‘এস. টি. ইন্টারন্যাশনাল’ নামের সিএন্ডএফ এজেন্ট দ্বারা পরিচালিত এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড-এর মাধ্যমে পরিশোধিত এই চালানের রপ্তানিকারক ছিল জাপানের ‘মাহি কার পোর্ট’ এবং বাহক জাহাজ ছিল ‘এমভি এমসিসি টোকিও’।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের পরীক্ষায় যে ৪টি বিলাসবহুল গাড়ি শনাক্ত হয়েছে সেগুলোর মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪.৫০ থেকে ৬.৭০ কোটি টাকা। শনাক্তকৃত গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের ইউকে সংস্করণ ‘রেঞ্জ রোভার ভোগ’ (আনুমানিক মূল্য ১.৬০–১.৮৫ কোটি টাকা, VIN: SALGA2EE9HA365609), ২০১০ সালের জার্মানি সংস্করণ ‘বিএমডব্লিউ 650i’ (আনুমানিক মূল্য ৬০–৯০ লাখ টাকা, VIN: WBALZ320X0C578880), ২০১৬ সালের জাপান সংস্করণ ‘লেকসাস LX570’ (আনুমানিক মূল্য ২.০০–৩.৫০ কোটি টাকা, Chassis: URJ201-4204300) এবং জাপান থেকে আমদানিকৃত একটি ‘টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলিট GRS204’ (আনুমানিক মূল্য ৩০–৪৫ লাখ টাকা)।

অভিযান পরিচালনাকারীরা জানান, বিশাল মূল্যের এই চার গাড়ির সম্পূর্ণ অংশকে মাত্র ৭,৯৩৫ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলার ১২২.৭৪৩৩ টাকা হারে) ইনভয়েস মূল্য দেখিয়ে অন্যান্য খরচসহ শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৯,৯৩,৫৪৭ টাকা। এ মূল্যের ওপর মাত্র ৬,১০,০৩০ টাকা শুল্ক-কর পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ না হয়ে খণ্ডিত গাড়ি হওয়ায় GRI Rule 2(a) অনুযায়ী এটিকে ‘সম্পূর্ণ মোটরযান’ বা SKD হিসেবে বিবেচনা করার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪, কাস্টমস আইন ২০২৩ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ১৯৯৭ সালের প্রজ্ঞাপন ভঙ্গের কারণে চালানটি বর্তমানে কাস্টম হাউস, মোংলায় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রকৃত শুল্ক-কর নিরূপণের অধীনে রয়েছে। કસ્ટમ্স গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, কাস্টমসের রাজস্ব ফাঁকি এবং Parts-এর ছদ্মবেশে অনিয়ম রোধে তাদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

2 November 2026

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আড়ালে কোটি টাকার ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ