শেয়ারবাজারে কারসাজি রুখতে এআই প্রযুক্তি চালু করছে বিএসইসি
- আপডেট এর সময় : ০১:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 38
শেয়ারবাজারে কারসাজি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আগামী এক বছরের মধ্যে বিদ্যমান সার্ভিল্যান্স পদ্ধতি সংস্কার করে এআই প্রযুক্তিতে রূপান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে কোনো শেয়ারের দর বা লেনদেনে অনিয়ম দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘রেড ফ্লাগ’ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে ইনসাইডার ট্রেডিং, ওয়াশ ট্রেড, সিরিজ ট্রেডিং ও পাম্প-অ্যান্ড-ডাম্পের মতো জটিল জালিয়াতিগুলো সহজে ধরে ফেলা সম্ভব হবে।
তবে এই আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা সঠিকভাবে কার্যকর করতে কেবল সফটওয়্যার স্থাপন করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএসই, সিডিবিএল, বিএসইসি ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা একীভূত করার পাশাপাশি বিনোয়োগকারীদের পূর্ণাঙ্গ কেওয়াইসি (KYC) তথ্য, রিয়েল-টাইম ডেটা, শক্তিশালী অবকাঠামো এবং দক্ষ জনবল প্রয়োজন। বিশেষ করে, একাধিক সন্দেহজনক হিসাবের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ রয়েছে কি না তা অনুসন্ধানে কেওয়াইসি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তিভিত্তিক এই উদ্যোগে কিছু চ্যালেঞ্জের বিষয়ও রয়েছে। এআই ব্যবস্থার ভুয়া সংকেত বা ভুল ধারণার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না, কারণ কোনো শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়লেই তা সবসময় কারসাজি না-ও হতে পারে। তাই এআই সন্দেহজনক বিষয়গুলো চিহ্নিত করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে মানুষের বুদ্ধি ও পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, এআই মূলত বাজার বিশ্লেষকদের দক্ষ সহকারী হিসেবে কাজ করবে, তাদের বিকল্প হবে না। সঠিক তথ্য সংযোজন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করাই এখন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ।




















