০৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩৬ সালে কি সত্যিই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে টাকা? ইলন মাস্কের অসীম প্রাচুর্যের স্বপ্ন ও বাস্তবতা

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০১:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 35

২০৩৬ সালে কি সত্যিই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে টাকা? ইলন মাস্কের অসীম প্রাচুর্যের স্বপ্ন ও বাস্তবতা

সম্প্রতি প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক বিশ্বে চরম বিতর্ক সৃষ্টি করেছে টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য। দ্য ইকোনমিস্ট-এর সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০৩৬ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রচলিত মুদ্রা বা টাকার আর কোনো গুরুত্বই থাকবে না। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবোটিক্স প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মাস্ক মানবজাতির ভবিষ্যতের এই চিত্র তুলে ধরেছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে পণ্য বা সেবার ‘ঘাটতি’ সামাল দিতেই বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে টাকা ব্যবহৃত হয়। তবে মাস্কের ধারণা, ২০৩৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট যুক্ত হবে, যা মানুষের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ দ্রুত গতিতে খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাবে। ফলে শ্রম ও মেধার খরচ শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির বদলে দেখা দেবে তীব্র ‘মূল্যসংকোচন’ বা ডিফ্লেশন। মানুষের কাজ হবে কেবল শখ পূরণের মাধ্যম, প্রথাগত চাকরির প্রয়োজন দূর হবে এবং অক্সিজেনের মতোই সব পণ্য ও সেবা বিনামূল্যে বা সহজলভ্য হয়ে উঠলে টাকার প্রয়োজনীয়তাও ফুরিয়ে যাবে।

তবে ইলন মাস্কের এই অতি-আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে প্রবল সংশয় প্রকাশ করেছেন শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এআই বা রোবট অসীম সেবা উৎপাদন করতে পারলেও জমি, প্রাকৃতিক শক্তি, খনিজ সম্পদ এবং মানবীয় মনোযোগের মতো মৌলিক বিষয়গুলো পৃথিবীতে সর্বদা সীমিতই থাকবে। আর এই সীমিত সম্পদগুলোর সুষম বণ্টন নির্ধারণে কোনো না কোনো আর্থিক মানদণ্ড বা মুদ্রার অস্তিত্ব অপরিহার্য। পাশাপাশি, মাস্ক অতীতেও বিভিন্ন প্রযুক্তির সময়সীমা নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী ছিলেন—যার বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হয়েছে। মরগান স্ট্যানলির একটি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড রোবট বাস্তবে রূপ নিতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তাছাড়া, প্রযুক্তির একক মালিকানা কতিপয় টেক-জায়ান্টের হাতে পুঞ্জীভূত হওয়া এবং সেই সম্পদ বিশ্বজুড়ে সমানভাবে বণ্টন করার পেছনে রাজনীতি, আইন ও সামাজিক কাঠামোর বড় বাধা রয়েছে।

যদিও ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০২৭ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত মাস্কের একটি নিখুঁত বছরভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর ক্যালেন্ডার ছড়িয়ে পড়েছে, মূলত তা ফোর্বস, দ্য ইকোনমিস্ট ও বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্মেলনে দেওয়া তাঁর নানা বক্তব্য একত্র করে তৈরি করা হয়েছে। মাস্কের মূল বক্তব্য ছিল—২০২৮ সালের মধ্যে সফটওয়্যার কোডিংয়ে মানুষের এআইয়ের কাছে পরাজয়, ২০২৯ সালের মধ্যে রোবট কর্তৃক নিখুঁত সার্জারি এবং ২০৩১ সালে এআইয়ের বুদ্ধি বিশ্ববাসীর সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া। সব মিলিয়ে, ২০৩৬ সালের মধ্যেই টাকা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে—এই দাবিটি কিছুটা অতিরঞ্জিত হলেও, এআই ও রোবোটিক্সের ফলে যে প্রথাগত চাকরি, উপার্জন ও সঞ্চয়ের সংজ্ঞা বদলে যাবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কোনো দ্বিধা নেই। সময়সীমা ২০৩৬ হোক কিংবা তার পরে, আসল প্রশ্ন হলো—যন্ত্রনির্ভর এই প্রাচুর্যের পৃথিবীর সামাজিক ও কৌশলগত রূপান্তরের জন্য মানবজাতি কতটা প্রস্তুত?

29 October 2026

২০৩৬ সালে কি সত্যিই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে টাকা? ইলন মাস্কের অসীম প্রাচুর্যের স্বপ্ন ও বাস্তবতা

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

২০৩৬ সালে কি সত্যিই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে টাকা? ইলন মাস্কের অসীম প্রাচুর্যের স্বপ্ন ও বাস্তবতা

আপডেট এর সময় : ০১:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক বিশ্বে চরম বিতর্ক সৃষ্টি করেছে টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য। দ্য ইকোনমিস্ট-এর সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০৩৬ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রচলিত মুদ্রা বা টাকার আর কোনো গুরুত্বই থাকবে না। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবোটিক্স প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মাস্ক মানবজাতির ভবিষ্যতের এই চিত্র তুলে ধরেছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে পণ্য বা সেবার ‘ঘাটতি’ সামাল দিতেই বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে টাকা ব্যবহৃত হয়। তবে মাস্কের ধারণা, ২০৩৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট যুক্ত হবে, যা মানুষের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ দ্রুত গতিতে খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাবে। ফলে শ্রম ও মেধার খরচ শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির বদলে দেখা দেবে তীব্র ‘মূল্যসংকোচন’ বা ডিফ্লেশন। মানুষের কাজ হবে কেবল শখ পূরণের মাধ্যম, প্রথাগত চাকরির প্রয়োজন দূর হবে এবং অক্সিজেনের মতোই সব পণ্য ও সেবা বিনামূল্যে বা সহজলভ্য হয়ে উঠলে টাকার প্রয়োজনীয়তাও ফুরিয়ে যাবে।

তবে ইলন মাস্কের এই অতি-আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে প্রবল সংশয় প্রকাশ করেছেন শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এআই বা রোবট অসীম সেবা উৎপাদন করতে পারলেও জমি, প্রাকৃতিক শক্তি, খনিজ সম্পদ এবং মানবীয় মনোযোগের মতো মৌলিক বিষয়গুলো পৃথিবীতে সর্বদা সীমিতই থাকবে। আর এই সীমিত সম্পদগুলোর সুষম বণ্টন নির্ধারণে কোনো না কোনো আর্থিক মানদণ্ড বা মুদ্রার অস্তিত্ব অপরিহার্য। পাশাপাশি, মাস্ক অতীতেও বিভিন্ন প্রযুক্তির সময়সীমা নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী ছিলেন—যার বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হয়েছে। মরগান স্ট্যানলির একটি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড রোবট বাস্তবে রূপ নিতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তাছাড়া, প্রযুক্তির একক মালিকানা কতিপয় টেক-জায়ান্টের হাতে পুঞ্জীভূত হওয়া এবং সেই সম্পদ বিশ্বজুড়ে সমানভাবে বণ্টন করার পেছনে রাজনীতি, আইন ও সামাজিক কাঠামোর বড় বাধা রয়েছে।

যদিও ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০২৭ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত মাস্কের একটি নিখুঁত বছরভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর ক্যালেন্ডার ছড়িয়ে পড়েছে, মূলত তা ফোর্বস, দ্য ইকোনমিস্ট ও বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্মেলনে দেওয়া তাঁর নানা বক্তব্য একত্র করে তৈরি করা হয়েছে। মাস্কের মূল বক্তব্য ছিল—২০২৮ সালের মধ্যে সফটওয়্যার কোডিংয়ে মানুষের এআইয়ের কাছে পরাজয়, ২০২৯ সালের মধ্যে রোবট কর্তৃক নিখুঁত সার্জারি এবং ২০৩১ সালে এআইয়ের বুদ্ধি বিশ্ববাসীর সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া। সব মিলিয়ে, ২০৩৬ সালের মধ্যেই টাকা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে—এই দাবিটি কিছুটা অতিরঞ্জিত হলেও, এআই ও রোবোটিক্সের ফলে যে প্রথাগত চাকরি, উপার্জন ও সঞ্চয়ের সংজ্ঞা বদলে যাবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কোনো দ্বিধা নেই। সময়সীমা ২০৩৬ হোক কিংবা তার পরে, আসল প্রশ্ন হলো—যন্ত্রনির্ভর এই প্রাচুর্যের পৃথিবীর সামাজিক ও কৌশলগত রূপান্তরের জন্য মানবজাতি কতটা প্রস্তুত?

29 October 2026

২০৩৬ সালে কি সত্যিই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে টাকা? ইলন মাস্কের অসীম প্রাচুর্যের স্বপ্ন ও বাস্তবতা