প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদার: অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ
- আপডেট এর সময় : ১২:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 27
দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে সম্প্রতি জনসমাগম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ পুরো সচিবালয় প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনসহ অন্যান্য ভবনে অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার যাচাই ও নিয়ন্ত্রণে পৃথক ‘অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে এই ভবনভিত্তিক অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
গত ৪ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। সচিবালয়ের গাড়ি ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখতে বিশেষ ধরনের স্টিকার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; অনুমোদিত স্টিকারবিহীন কোনো গাড়ি সেখানে পার্কিং বা অবস্থান করতে পারবে না। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি না এবং আগত দর্শনার্থীদের কার্যক্রম কেমন, তা নিয়মিত মনিটরিং করবে পুলিশ। পাশাপাশি, সচিবালয়ে রাতে অবস্থান করা নিয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে—কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া রাতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অননুমোদিত ব্যক্তি সেখানে অবস্থান করতে পারবেন না।
দর্শনার্থী প্রবেশ সুনির্দিষ্ট ও সীমিত করতে পাসের সংখ্যায় নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দর্শনার্থীরা দুপুর ১২টার আগে সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীগণ দৈনিক সর্বোচ্চ ১০টি দর্শনার্থী পাস দিতে পারবেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্যসচিব ও সচিবগণ সর্বোচ্চ ৫টি, অতিরিক্ত সচিবগণ সর্বোচ্চ ৩টি এবং যুগ্মসচিবগণ সর্বোচ্চ ২টি পাস ইস্যু করতে পারবেন। বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য চালু করা হচ্ছে পৃথক নিবন্ধন ব্যবস্থা, যেখানে তাদের পরিচয়, আগমনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়েও কঠোরতা আনা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার ৭ দিন পর তার নামে ইস্যুকৃত স্থায়ী প্রবেশ পাসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। অন্যদিকে, সংসদ সদস্যগণ তাঁদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও গাড়িচালক সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি পাবেন, তবে তা যথাযথ পরিচয় ও অনুমোদন যাচাই সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হবে।




















