১১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৌ-পরিবহনে আওয়ামী দোসরদের নিয়োগ কারসাজি, কোটি টাকা আত্মসাৎ

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ১০:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 125

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামে প্ররিচালিত প্রি-সী স্পেশাল ব্যাচে ২০২৩ এর নাবিকদের নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জন ওঠার পর বেরিয়ে আসছে একে পর এক অনিয়ম আর দুর্নীতির চিত্র। প্রমাণ মিলেছে অযোগ্য ব্যাক্তিদের নিয়োগ দিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাতের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ স্পেশাল ব্যাচে ১৭৭ জন নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে ১২৯ জন এসএসসি পাশের সঠিক তথ্য পাওয়া গেলেও ৪৮ জনের সনদ নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও হয়। ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর নৌ-পরিবহনের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছিলো ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ সভায় জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণরত ১৭৭ জনের মধ্যে ১২৯ জনের এসএসসির সনদ সঠিক। বাকি ৪৮ জনের সনদ সঠিক নয় বলেও অবহিত করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে টাকার বিনিময়ে ওই ব্যাচের অযোগ্যদেরকে সদন প্রদান করা হয়। আর এই অযোগ্য ব্যাক্তিদের নিয়োগের জন্য সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান লিখিত সুপারিশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের যোগ্যতার সনদ দিতে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর ও সাবেক নৌমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক নৌ সচিব সুপারিশ করেন। টাকার বিনিময়ে প্রি-সী স্পেশাল ব্যাচে নিয়োগের প্রমাণ মেলে এক ব্যাক্তির উকিল নোটিশেও। প্রি-সী স্পেশাল ব্যাচে নিয়োগের কথা বলে ৬ জনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায়, ওই টাকা ফেরত চেয়ে জেব্রা শিপিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী পারভিনকে উকিল নোটিশ দেন পাবনা জেলার বাসিন্দা মো. বদর উদ্দিন নামের এক ব্যাক্তি। এখানেই শেষ নয়, ওই ব্যাচে প্রশিক্ষণ বিতর্ক গড়িয়েছে আদালতেও। ২০২৩ ব্যাচের সিডিসি পেতে আদালতে রিট করেন ভুক্তোভোগীরা। এসব ঘটনার বড় একটা অংশ জুড়েই রয়েছে নৌ-পরিবহনের চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদের নাম। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে শেখ পরিবার ও আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ছিলো তার বেশ সক্ষতা। এছাড়া সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে প্রভাব খাটিয়েছেন সবখানেই। দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে ২০১২ সালে নটিক্যাল সার্ভেয়ার এন্ড এক্সামিনার পদ হাতিয়ে নেন গিয়াস উদ্দিন। অভ্যন্তরীণ কোস্টাল, ফিশারিজ ও বিদেশগামী জাহাজের বিভিন্ন গ্রেডে চাকুরীরত মাস্টার, নাবিকদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, অবৈধ নিয়োগ, ভুয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করে গড়েছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। এছাড়া পনামা সিডিসি ইস্যুতে ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রামানও দেয়া হয়েছে অভিযোগের সঙ্গে। সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ও মাগুরার সাবেক সাংসদ সাইফুজ্জামান শিখর, নৌমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী ও সাবেক নৌ সচিবকে নিয়ে সিন্ডিকেট গেড়ে সিডিসি স্পেশাল ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের জনপ্রতি অগ্রীম ৫ লাখ টাকা হিসেবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোপাট করেছিলেন গিয়াস উদ্দিন। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। যেখানে গিয়াস ছাড়াও এই প্রতারণায় ওঠে আসে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের দপ্তরি নজরুল,অফিস সহকারী আজিজ, অফিস সহায়ক আসাদ এবং স্বপ্ন ইসলামের নাম। স্বৈাচার ও দুর্নীতিবাজ আওয়ামী সরকারের আমলে তদন্তের অগ্রগতি না হলেও, নতুন করে গিয়াসের বিরুদ্ধে তদন্তের পালে লেগেছে হাওয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে খোদ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে থেকে নৌ-পরিবহনের চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে তদন্ত। এনিয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে একাধিকবার তার অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

1 November 2026

নৌ-পরিবহনে আওয়ামী দোসরদের নিয়োগ কারসাজি, কোটি টাকা আত্মসাৎ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

নৌ-পরিবহনে আওয়ামী দোসরদের নিয়োগ কারসাজি, কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট এর সময় : ১০:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামে প্ররিচালিত প্রি-সী স্পেশাল ব্যাচে ২০২৩ এর নাবিকদের নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জন ওঠার পর বেরিয়ে আসছে একে পর এক অনিয়ম আর দুর্নীতির চিত্র। প্রমাণ মিলেছে অযোগ্য ব্যাক্তিদের নিয়োগ দিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাতের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ স্পেশাল ব্যাচে ১৭৭ জন নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে ১২৯ জন এসএসসি পাশের সঠিক তথ্য পাওয়া গেলেও ৪৮ জনের সনদ নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও হয়। ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর নৌ-পরিবহনের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছিলো ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ সভায় জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণরত ১৭৭ জনের মধ্যে ১২৯ জনের এসএসসির সনদ সঠিক। বাকি ৪৮ জনের সনদ সঠিক নয় বলেও অবহিত করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে টাকার বিনিময়ে ওই ব্যাচের অযোগ্যদেরকে সদন প্রদান করা হয়। আর এই অযোগ্য ব্যাক্তিদের নিয়োগের জন্য সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান লিখিত সুপারিশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের যোগ্যতার সনদ দিতে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর ও সাবেক নৌমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক নৌ সচিব সুপারিশ করেন। টাকার বিনিময়ে প্রি-সী স্পেশাল ব্যাচে নিয়োগের প্রমাণ মেলে এক ব্যাক্তির উকিল নোটিশেও। প্রি-সী স্পেশাল ব্যাচে নিয়োগের কথা বলে ৬ জনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায়, ওই টাকা ফেরত চেয়ে জেব্রা শিপিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী পারভিনকে উকিল নোটিশ দেন পাবনা জেলার বাসিন্দা মো. বদর উদ্দিন নামের এক ব্যাক্তি। এখানেই শেষ নয়, ওই ব্যাচে প্রশিক্ষণ বিতর্ক গড়িয়েছে আদালতেও। ২০২৩ ব্যাচের সিডিসি পেতে আদালতে রিট করেন ভুক্তোভোগীরা। এসব ঘটনার বড় একটা অংশ জুড়েই রয়েছে নৌ-পরিবহনের চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদের নাম। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে শেখ পরিবার ও আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ছিলো তার বেশ সক্ষতা। এছাড়া সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে প্রভাব খাটিয়েছেন সবখানেই। দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে ২০১২ সালে নটিক্যাল সার্ভেয়ার এন্ড এক্সামিনার পদ হাতিয়ে নেন গিয়াস উদ্দিন। অভ্যন্তরীণ কোস্টাল, ফিশারিজ ও বিদেশগামী জাহাজের বিভিন্ন গ্রেডে চাকুরীরত মাস্টার, নাবিকদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, অবৈধ নিয়োগ, ভুয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করে গড়েছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। এছাড়া পনামা সিডিসি ইস্যুতে ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রামানও দেয়া হয়েছে অভিযোগের সঙ্গে। সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ও মাগুরার সাবেক সাংসদ সাইফুজ্জামান শিখর, নৌমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী ও সাবেক নৌ সচিবকে নিয়ে সিন্ডিকেট গেড়ে সিডিসি স্পেশাল ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের জনপ্রতি অগ্রীম ৫ লাখ টাকা হিসেবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোপাট করেছিলেন গিয়াস উদ্দিন। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। যেখানে গিয়াস ছাড়াও এই প্রতারণায় ওঠে আসে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের দপ্তরি নজরুল,অফিস সহকারী আজিজ, অফিস সহায়ক আসাদ এবং স্বপ্ন ইসলামের নাম। স্বৈাচার ও দুর্নীতিবাজ আওয়ামী সরকারের আমলে তদন্তের অগ্রগতি না হলেও, নতুন করে গিয়াসের বিরুদ্ধে তদন্তের পালে লেগেছে হাওয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে খোদ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে থেকে নৌ-পরিবহনের চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে তদন্ত। এনিয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে একাধিকবার তার অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

1 November 2026

নৌ-পরিবহনে আওয়ামী দোসরদের নিয়োগ কারসাজি, কোটি টাকা আত্মসাৎ