সেবার চেয়ে হয়রানিই বেশি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে
- আপডেট এর সময় : ১১:০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 108
দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি হৃদরোগ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। যেখানে প্রতিদিনই সারা দেশ থেকে আসেন রোগী। কিন্তু দুর্নীতির করাল গ্রাসে জর্জরিত এই সেবা কেন্দ্র। কিছু অসাধু কর্মচারীর ঘুষ-বাণিজ্য ও অনিয়মের কারণে সাধারণ রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেবা নিশ্চিত করার নামে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ব্যস্ত হাসপাতালেরই একটি চক্র। রোগীর স্বজনরা জানান, দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের জন্য সিট বরাদ্দ থাকলেও, তা পেতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ওয়ার্ড বয় রোগীদের কাছ থেকে সিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায় করেন। টাকা না দিলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হয় বা সিট না থাকার মিথ্যা অজুহাত দেখানো হয়। হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু কর্মচারী সুযোগ পেলেই রোগীদের কাছ থেকে অনৈতিক উপায়ে অর্থ আদায় করেন। এমনকি টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালটির প্রতিটি পরতে পরতে দুর্নীতি আর লুটপাটের চিত্র। নোংরা পরিবেশে বাধ্য হয়েই চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগী। তারা বলছেন, সুস্থ্য হতে এসে নোংরা পরিবেশে আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও হয়রানির শেষ নেই। হাসপাতালে সব পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও, রোগীদের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কৌশলে নিয়ে যান হাসপাতালেরই ওয়ার্ড বয়সহ দালাল চক্র। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যায় না হাসপাতালে। হাসপাতালের ২৩৪ নম্বর কক্ষে রিপোর্ট সংগ্রহ করতে গেলে অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে রোগীদের। ২৩৪ নম্বর কক্ষে কর্মরত মোঃ নোমান মিয়া পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেন এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এমন কোন সিস্টেম নাই। হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচতলায় পরিদর্শনে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চরম অভাব রয়েছে। কিছু টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যেগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়া, ভবনে অযত্ন ও অব্যবস্থাপনার কারণে কিছু জায়গায় কুকুর ঘুরতে দেখা গেছে। পিসিইউ বিভাগের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগী মো. করির হোসেন বলেন, “টয়লেট অপরিষ্কার থাকায় ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছি, সঙ্গে আমার মেয়ে রয়েছে, কিন্তু এখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা খুবই দুর্বল।” জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির এমন চিত্র দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। জনসাধারণের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে এসব অনিয়ম বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।










