১১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাস্টমস কর্মকর্তার নারী বিলাস; অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো সীমাহীন দুর্নীতি

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 139

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনার উপ-কমিশনার আলী রেজা হায়দার (যিনি বর্তমানে রয়েছেন ঢাকা কাস্টম হাউসে)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে ‘তিরস্কার’ দণ্ড প্রদান করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশে ২০২১ সালে দুটি বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান আলী রেজা হায়দার। ওই সময় তাকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে এক বছরেরও বেশি নিয়ে ২০২২ সালের ২ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এরপর এনবিআরের পক্ষ থেকে তাকে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, তাকে ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। বিভাগীয় শুনানিতে তিনি ক্ষমা চাইলেও তার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হয়নি।
সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জীবনেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নুরে হুমাইয়া অভি নামের এক নারী দাবি করেন, আলী রেজা হায়দার তার স্বামী এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আলী রেজা হায়দার তার সাথে সম্পর্কে জড়িত থাকার পরও, পরকীয়া করে আরেকজন নারীকে বিয়ে করেছেন এবং সেই নারীর সাথে অন্যত্র বসবাস করছেন।
এখানেই শেষ নয়, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
এনবিআরের তদন্তের পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আলী রেজা হায়দারের বিরুদ্ধে কাস্টমস ও ভ্যাট সংক্রান্ত তদন্তে গাফিলতির কারণ হিসেবে ঘুষ লেনদেনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কাস্টমস কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে অপ্রকাশিত সম্পদ গড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে ব্যাক্তি জীবনে যেমন বেপরোয়া আলী রেজা হায়দার, চাকরি জীবনেও তিনি তেমনই দুর্নীতিবাজ।
নিজেকে আলী রেজা হায়দারের স্ত্রী দাবি করা ওই নারীর কথাতেও উঠে আসে সাবেক এই উপ-কমিশনারের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য। তিনি জানান, দুর্নীতি করে যেমন দুহাতে টাকা উপার্জন করেছেন আলী রেজা, তেমনি অন্য নারীর প্রতি আসক্তি থেকে করেছেন বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
এ বিষয়ে আলী রেজা হায়দারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলী রেজা হায়দারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনের নয় বরং তার সরকারি দায়িত্ব ও নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং দুর্নীতির কারণে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। একইসাথে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নাগরিক সমাজের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলো যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে বলে মত সচেতন মহলের।

1 November 2026

কাস্টমস কর্মকর্তার নারী বিলাস; অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো সীমাহীন দুর্নীতি

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

কাস্টমস কর্মকর্তার নারী বিলাস; অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো সীমাহীন দুর্নীতি

আপডেট এর সময় : ০১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনার উপ-কমিশনার আলী রেজা হায়দার (যিনি বর্তমানে রয়েছেন ঢাকা কাস্টম হাউসে)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে ‘তিরস্কার’ দণ্ড প্রদান করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশে ২০২১ সালে দুটি বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান আলী রেজা হায়দার। ওই সময় তাকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে এক বছরেরও বেশি নিয়ে ২০২২ সালের ২ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এরপর এনবিআরের পক্ষ থেকে তাকে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, তাকে ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। বিভাগীয় শুনানিতে তিনি ক্ষমা চাইলেও তার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হয়নি।
সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জীবনেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নুরে হুমাইয়া অভি নামের এক নারী দাবি করেন, আলী রেজা হায়দার তার স্বামী এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আলী রেজা হায়দার তার সাথে সম্পর্কে জড়িত থাকার পরও, পরকীয়া করে আরেকজন নারীকে বিয়ে করেছেন এবং সেই নারীর সাথে অন্যত্র বসবাস করছেন।
এখানেই শেষ নয়, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
এনবিআরের তদন্তের পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আলী রেজা হায়দারের বিরুদ্ধে কাস্টমস ও ভ্যাট সংক্রান্ত তদন্তে গাফিলতির কারণ হিসেবে ঘুষ লেনদেনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কাস্টমস কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে অপ্রকাশিত সম্পদ গড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে ব্যাক্তি জীবনে যেমন বেপরোয়া আলী রেজা হায়দার, চাকরি জীবনেও তিনি তেমনই দুর্নীতিবাজ।
নিজেকে আলী রেজা হায়দারের স্ত্রী দাবি করা ওই নারীর কথাতেও উঠে আসে সাবেক এই উপ-কমিশনারের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য। তিনি জানান, দুর্নীতি করে যেমন দুহাতে টাকা উপার্জন করেছেন আলী রেজা, তেমনি অন্য নারীর প্রতি আসক্তি থেকে করেছেন বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
এ বিষয়ে আলী রেজা হায়দারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলী রেজা হায়দারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনের নয় বরং তার সরকারি দায়িত্ব ও নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং দুর্নীতির কারণে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। একইসাথে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নাগরিক সমাজের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলো যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে বলে মত সচেতন মহলের।

1 November 2026

কাস্টমস কর্মকর্তার নারী বিলাস; অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো সীমাহীন দুর্নীতি