১১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টেন্ডার জালিয়াতি নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০১:১৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 114

দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে নেত্রকোনা জেলার ১০ উপজেলায় ১৩টি প্যাকেজে এইচবিবি হেরিং বোন প্রকল্পে মোট ৯ কোটি ৩৯ লাখ ২ হাজার টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্রে নেত্রকোনা জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের ষ্টাফদের যোগসাজশে ড্রপিংকৃত সিডিউল চুরি, অতিরিক্ত সিডিউল বিক্রি, টেন্ডারে সিন্ডিকেট, জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি উদ্ধারকৃত সিডিউল পূনরায় ড্রপ করে সিএস লিস্টে নাম অন্তর্ভুক্তির পরও সড়ক ও জনপদের লাইসেন্সকে মানি রিসিট আখ্যা দিয়ে লটারিতে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার অভিযোগেউঠেছে মূল্যায়ন কমিটির বিরুদ্ধে।
ড্রপিংকৃত সিডিউল চুরি, চুরি হওয়া সিডিউল উদ্ধার, বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্বেও লটারি থেকে বাদ দেয়া ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স দিনার এন্টারপ্রাইজ ও এনএসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদাররা।
ভুক্তোভোগী ঠিকাদার মোঃ নিক্সনের দাবি, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও), অফিস সহকারী অভি ও হোসাইন মিলে জেলা জুড়ে টেন্ডার জালিয়াত সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। তাদের যোগশাসজেই টাকার বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী ঠিকাদার।
সিডিউল চুরির ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে আরেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লাকি জুয়েলার্স ও নদীবাংলার মালিক দিপুল বনিকের কথাতেও। তিনি জানান, অফিস সহকারী অভির টাকা বিনিময়ে সিডিউল বাইরে নিয়ে আসে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হোসাইনের বক্তব্যে উঠে আসে ডিআরও এর দুর্নীতির ভয়াবহ তথ্য। তিনি জানান, সিডিউল কারচুপির নেপথ্যের কারিগর ডিআরও’র অফিস সহকারী অভি। সেই সাথে জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও)’র অর্থ আত্নসাতের কথাও ফাঁস করেন হোসাইন।
মোহনগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মতর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ ফরিদ উদ্দিন তুলে ধরেন পুরো বিষয়টি। তিনি জানান, অভি ও হোসাইনের যোগসাজশে ঠিকাদারের সিডিউল কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। ওই দুজনে গভির রাত পর্যন্ত সিডিউল চুরি ও তথ্য ফাঁসের কাজ করেছেন বলেও জানান তিনি।
লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে আটপাড়া উপজেলা মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল মমিন দাবি করেন, বাতিল যাওয়া লাইসেন্স নেহায়েত মানি রিসিট। যদিও ভিন্ন কথা বলছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আলনূর সালেহীন। তিনি জানান, ওই ঠিকাদার দীর্ঘ দিন ধরে সড়ক বিভাগে এই লাইসেন্স দিয়েই কাজ করছেন।
এদিকে, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাস কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন উপজেলা পিআইওদের উপস্তিতিতে সড়ক ও জনপদের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি ভূল স্বীকার করেন। একই সঙ্গে ভভিষ্যতে এমন ভুল হবে না বলেও জানান। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় হোসাইন নামে একজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্ত করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, টেন্ডার জালিয়াতির তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এলে এলাকাজুড়ে শুরু হয় গুঞ্জন। বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাস কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন। তার দাবি ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। তাদের দাবি ডিআরও নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ ভুল প্রমাণের অপচেষ্টা চালোচ্ছেন। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানান তারা।

1 November 2026

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টেন্ডার জালিয়াতি নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টেন্ডার জালিয়াতি নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

আপডেট এর সময় : ০১:১৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে নেত্রকোনা জেলার ১০ উপজেলায় ১৩টি প্যাকেজে এইচবিবি হেরিং বোন প্রকল্পে মোট ৯ কোটি ৩৯ লাখ ২ হাজার টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্রে নেত্রকোনা জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের ষ্টাফদের যোগসাজশে ড্রপিংকৃত সিডিউল চুরি, অতিরিক্ত সিডিউল বিক্রি, টেন্ডারে সিন্ডিকেট, জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি উদ্ধারকৃত সিডিউল পূনরায় ড্রপ করে সিএস লিস্টে নাম অন্তর্ভুক্তির পরও সড়ক ও জনপদের লাইসেন্সকে মানি রিসিট আখ্যা দিয়ে লটারিতে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার অভিযোগেউঠেছে মূল্যায়ন কমিটির বিরুদ্ধে।
ড্রপিংকৃত সিডিউল চুরি, চুরি হওয়া সিডিউল উদ্ধার, বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্বেও লটারি থেকে বাদ দেয়া ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স দিনার এন্টারপ্রাইজ ও এনএসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদাররা।
ভুক্তোভোগী ঠিকাদার মোঃ নিক্সনের দাবি, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও), অফিস সহকারী অভি ও হোসাইন মিলে জেলা জুড়ে টেন্ডার জালিয়াত সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। তাদের যোগশাসজেই টাকার বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী ঠিকাদার।
সিডিউল চুরির ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে আরেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লাকি জুয়েলার্স ও নদীবাংলার মালিক দিপুল বনিকের কথাতেও। তিনি জানান, অফিস সহকারী অভির টাকা বিনিময়ে সিডিউল বাইরে নিয়ে আসে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হোসাইনের বক্তব্যে উঠে আসে ডিআরও এর দুর্নীতির ভয়াবহ তথ্য। তিনি জানান, সিডিউল কারচুপির নেপথ্যের কারিগর ডিআরও’র অফিস সহকারী অভি। সেই সাথে জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও)’র অর্থ আত্নসাতের কথাও ফাঁস করেন হোসাইন।
মোহনগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মতর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ ফরিদ উদ্দিন তুলে ধরেন পুরো বিষয়টি। তিনি জানান, অভি ও হোসাইনের যোগসাজশে ঠিকাদারের সিডিউল কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। ওই দুজনে গভির রাত পর্যন্ত সিডিউল চুরি ও তথ্য ফাঁসের কাজ করেছেন বলেও জানান তিনি।
লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে আটপাড়া উপজেলা মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল মমিন দাবি করেন, বাতিল যাওয়া লাইসেন্স নেহায়েত মানি রিসিট। যদিও ভিন্ন কথা বলছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আলনূর সালেহীন। তিনি জানান, ওই ঠিকাদার দীর্ঘ দিন ধরে সড়ক বিভাগে এই লাইসেন্স দিয়েই কাজ করছেন।
এদিকে, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাস কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন উপজেলা পিআইওদের উপস্তিতিতে সড়ক ও জনপদের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি ভূল স্বীকার করেন। একই সঙ্গে ভভিষ্যতে এমন ভুল হবে না বলেও জানান। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় হোসাইন নামে একজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্ত করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, টেন্ডার জালিয়াতির তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এলে এলাকাজুড়ে শুরু হয় গুঞ্জন। বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাস কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন। তার দাবি ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। তাদের দাবি ডিআরও নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ ভুল প্রমাণের অপচেষ্টা চালোচ্ছেন। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানান তারা।

1 November 2026

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টেন্ডার জালিয়াতি নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড