দুর্নীতিবাজদের কড়া হুঁশিয়ারি বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের: বিশেষ সাক্ষাৎকার
- আপডেট এর সময় : ০১:২৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 187
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে বস্ত্র অধিদপ্তরে। প্রতিটি খাতেই ছিলো লুটপাটের ক্ষত। কেনাকাটা থেকে শুরু করে দেশের চালিকাশক্তি পোশাক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনসহ সবখানেই ছিলো ঘুষ বাণিজ্য। দক্ষজনবল সৃষ্টিতে গড়ে তোলা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটগুলোর বিভিন্ন প্রকল্পে যে যখনই দায়িত্ব পেয়েছেন, সেই হয়েছেন কোটিপতি। কেনাকাটায় হরিলুট, টেন্ডার জালিয়াতি, নিম্নমানের সামগ্রী ক্রয় থেকে শুরু করে দুর্নীতির রামরাজত্ব ছিলো এই দপ্তর। সঠিক তথ্য-প্রমাণের অভাবে এতোদিন বিষয়টি আড়ালেই ছিলো। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় সামনে আসে এই দপ্তরের নানান অপকর্মের চিত্র।
বিষয়টি নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিগত দিনে অনেকেই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেবাগ্রহিতাদের হয়রানির বিষয়টিও সবারই জানা। তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান তিনি।
বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, যেহেতু আমরা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটগুলো পরিচালনা করি। তাই সেখানে বিভিন্ন সময় কেনাকাটায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র জালিয়াতি ঠেকাতে ইজিপি পদ্ধতি চালু করেছি। বিগত দিনে ডিপিএম এর মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেয়া হতো। এখন আর সেই সুযোগ নেই।
আরেক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, পোশাকখাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের বিষয়টি দেখা হয় এই দপ্তর থেকেই। সেখানে সেবাগ্রহিতারা যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য আমরা সবকিছু অনলাইনে চালু করেছি। অফিসে এসে কাউকে আর আবেদন দিতে হবে না। ঘরে বসে সবকিছু এখন অনলাইনেই করা যাচ্ছে। যে কারণে ঘুষ নেয়ার কোন সুযোগ থাকে না।
মো. শহিদুল ইসলাম আরও জানান, বিগত দিনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন শিক্ষার্থীরা। সে বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কেনাকাটা প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ পেয়েছি। এনিয়ে কাজ চলছে। জালিয়াতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধে বেশকিছু পদক্ষেপ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নে একটু সময় প্রয়োজন। তবে কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে বিষয়টি সরাসরি তাকে জানানোর অনুরোধও করেন বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।




















