১১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় যত অব্যবস্থাপনা “কোন কাজের রেট কত সব জানে পাম্প অপারেটর মনোয়ার”

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০১:১১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 120

ঘুষ দুর্নীতি নতুন খবর নয়। চলছে তো চলছেই। জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে সেবাগ্রহিতারা যেন দালাল চক্রের হাতে জিম্মি। ঘুষ না দিলে ফাইল যেন নড়েই না। উৎকোচ পেলেই বিদ্যুৎ গতিতে চলে ফাইল। চাহিদা মত উৎকোচ না পেলে প্রতিটি ফাইলে কোয়ারি দিয়ে বছরকে বছর ঘোরানো হয় সেবাগ্রহিতাদেরকে। কর্মকর্তা-কর্মচারী-দালাল সিন্ডিকেটের জালে আটকে আছে পুরো প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ রয়েছে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেরাই জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রির সিন্ডিকেটের সাথে সরাসরি জড়িত। মাঠ পর্যায়ে অফিস সহায়ক, সুইপার, ড্রাইভার,পাম্প অপারেটর, সার্ভেয়ার থেকে শুরু করে কেরানী, ড্রাফটস ম্যান, এমনকি প্রকৌশলী পর্যন্ত জড়িয়ে পড়েছেন ঘুষ আর দুর্নীতিতে। জাগৃক অফিসের সর্বত্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির দালালী করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন কেউ কেউ। সম্প্রতি জাগৃক পাম্প অপারেটর মনোয়ার হোসেন রতনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। কাগজপত্রে সিল মেরে নিয়ে যাচ্ছেন এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে। অভিযোগ রয়েছে, মনোয়ার হোসেন রতন সেবাগ্রহিতাদের কাছে টাকা নিয়েও অনেক সময় কাজ করেন না। শুধু তাই নয়, মনোয়ারকে দিয়ে ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক-১ আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ ঘুষ লেনদেন করে থাকেন। এই পরিচালকের টেবিলের সব কাজ করে থাকেন এই পাম্প অপারেটর। পরিচালকের ক্যাশিয়ার হিসেবেও পরিচিত তিনি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে, একজন কর্মকর্তা জানান, শাহনেওয়াজ স্যার বদলি হওয়ার পরেও মোটা অংকের টাকা দিয়ে বদলি ঠেকিয়েছেন। তিনি কিছু দিন আগে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিরপুর-১৩ রাখাইন সিটিতে একই ফ্ল্যাট দুইবার সেল পারমিশন দিয়েছেন। তা নিয়ে এখনো মামলা চলমান রয়েছে। তিনি আরোও বলেন, স্যার অনেকের চেয়ে ভালো আছেন। টাকা নিলে সেই কাজ করে দেন। স্যারদের বিশ্বস্ত মনোয়ার হোসেন। তাই সব পরিচালক স্যার তাকে দিয়ে কাজ করান। পাম্প অপারেটর হলেও তিনি ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সবকিছুই জানেন। কোন কাজের রেট কত সব জানা তার। অভিযোগের বিষয় জানতে মনোয়ার হোসেনের মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, পরিচালক স্যারে আমাকে পাঠিয়েছেন একটি হাজিরা নেওয়ার জন্য। স্যারেরা আমাকে কাজ দিলে আমি কি করবো। আপনি স্যারদের সাথে কথা বলেন। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেউ যদি আমাকে খুশি মনে কিছু দেয় তাহলে আমি নিয়ে থাকি। তবে কারও কাছে কোনকিছু দাবি করি না। এ বিষয়ে উপ-পরিচালক-১ আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, আমাদের অফিসের সব স্যারেরা মনোয়ারকে কাজে লাগায়। পাম্প চালানোর পর তার কোন কাজ থাকে না। ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে নেয়া বা অন্যান্য কাজ তাকে দিয়ে করানো হয়। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু সবাই তাকে দিয়ে টুকটাক কাজ করিয়ে নেয়। এই সুযোগটা সে কাজে লাগাতে পারে। ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখায় এটা হওয়াটা স্বাভাবিক। তারপরও আমি আমার স্যারদের সাথে আলাপ করব, বিষয়টির তাদের নলেজে দেবো বলে দায় সারেন এই কর্মকর্তা। এরআগে, ভুমি ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে বদলি ঠেকাতে কর্মকর্তাদের তোড়জোড় নিয়ে সংবাদ প্রচার করে মানি লাইন। সেখানে বদলি ঠেকানো কর্মকর্তাদের তালিকায় উঠে আসে ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-পরিচালক-১ শাহনেওয়াজের নাম।

1 November 2026

ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় যত অব্যবস্থাপনা “কোন কাজের রেট কত সব জানে পাম্প অপারেটর মনোয়ার”

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় যত অব্যবস্থাপনা “কোন কাজের রেট কত সব জানে পাম্প অপারেটর মনোয়ার”

আপডেট এর সময় : ০১:১১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ঘুষ দুর্নীতি নতুন খবর নয়। চলছে তো চলছেই। জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে সেবাগ্রহিতারা যেন দালাল চক্রের হাতে জিম্মি। ঘুষ না দিলে ফাইল যেন নড়েই না। উৎকোচ পেলেই বিদ্যুৎ গতিতে চলে ফাইল। চাহিদা মত উৎকোচ না পেলে প্রতিটি ফাইলে কোয়ারি দিয়ে বছরকে বছর ঘোরানো হয় সেবাগ্রহিতাদেরকে। কর্মকর্তা-কর্মচারী-দালাল সিন্ডিকেটের জালে আটকে আছে পুরো প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ রয়েছে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেরাই জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রির সিন্ডিকেটের সাথে সরাসরি জড়িত। মাঠ পর্যায়ে অফিস সহায়ক, সুইপার, ড্রাইভার,পাম্প অপারেটর, সার্ভেয়ার থেকে শুরু করে কেরানী, ড্রাফটস ম্যান, এমনকি প্রকৌশলী পর্যন্ত জড়িয়ে পড়েছেন ঘুষ আর দুর্নীতিতে। জাগৃক অফিসের সর্বত্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির দালালী করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন কেউ কেউ। সম্প্রতি জাগৃক পাম্প অপারেটর মনোয়ার হোসেন রতনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। কাগজপত্রে সিল মেরে নিয়ে যাচ্ছেন এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে। অভিযোগ রয়েছে, মনোয়ার হোসেন রতন সেবাগ্রহিতাদের কাছে টাকা নিয়েও অনেক সময় কাজ করেন না। শুধু তাই নয়, মনোয়ারকে দিয়ে ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক-১ আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ ঘুষ লেনদেন করে থাকেন। এই পরিচালকের টেবিলের সব কাজ করে থাকেন এই পাম্প অপারেটর। পরিচালকের ক্যাশিয়ার হিসেবেও পরিচিত তিনি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে, একজন কর্মকর্তা জানান, শাহনেওয়াজ স্যার বদলি হওয়ার পরেও মোটা অংকের টাকা দিয়ে বদলি ঠেকিয়েছেন। তিনি কিছু দিন আগে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিরপুর-১৩ রাখাইন সিটিতে একই ফ্ল্যাট দুইবার সেল পারমিশন দিয়েছেন। তা নিয়ে এখনো মামলা চলমান রয়েছে। তিনি আরোও বলেন, স্যার অনেকের চেয়ে ভালো আছেন। টাকা নিলে সেই কাজ করে দেন। স্যারদের বিশ্বস্ত মনোয়ার হোসেন। তাই সব পরিচালক স্যার তাকে দিয়ে কাজ করান। পাম্প অপারেটর হলেও তিনি ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সবকিছুই জানেন। কোন কাজের রেট কত সব জানা তার। অভিযোগের বিষয় জানতে মনোয়ার হোসেনের মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, পরিচালক স্যারে আমাকে পাঠিয়েছেন একটি হাজিরা নেওয়ার জন্য। স্যারেরা আমাকে কাজ দিলে আমি কি করবো। আপনি স্যারদের সাথে কথা বলেন। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেউ যদি আমাকে খুশি মনে কিছু দেয় তাহলে আমি নিয়ে থাকি। তবে কারও কাছে কোনকিছু দাবি করি না। এ বিষয়ে উপ-পরিচালক-১ আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, আমাদের অফিসের সব স্যারেরা মনোয়ারকে কাজে লাগায়। পাম্প চালানোর পর তার কোন কাজ থাকে না। ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে নেয়া বা অন্যান্য কাজ তাকে দিয়ে করানো হয়। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু সবাই তাকে দিয়ে টুকটাক কাজ করিয়ে নেয়। এই সুযোগটা সে কাজে লাগাতে পারে। ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখায় এটা হওয়াটা স্বাভাবিক। তারপরও আমি আমার স্যারদের সাথে আলাপ করব, বিষয়টির তাদের নলেজে দেবো বলে দায় সারেন এই কর্মকর্তা। এরআগে, ভুমি ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে বদলি ঠেকাতে কর্মকর্তাদের তোড়জোড় নিয়ে সংবাদ প্রচার করে মানি লাইন। সেখানে বদলি ঠেকানো কর্মকর্তাদের তালিকায় উঠে আসে ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-পরিচালক-১ শাহনেওয়াজের নাম।

1 November 2026

ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় যত অব্যবস্থাপনা “কোন কাজের রেট কত সব জানে পাম্প অপারেটর মনোয়ার”