নেত্রকোনায় প্রকল্পে লুটপাট
- আপডেট এর সময় : ০৫:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
- / 236
নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলায় টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। বেশীরভাগ প্রকল্পে একাংশের কাজ করে উত্তোলন করা হয়েছে পুরো টাকা। এমনকি প্রকল্পের কাজ না করেই উত্তোলন করা হয়েছে পুরো অর্থ।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনয়নে টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে ১ম ও ২য় পর্যায়ে মোট ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং ১২০ মেট্রিক টন চাল, ১২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয় সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে সকল প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন শেষে সমুদয় টাকা উত্তেলনের বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। জেলা প্রশাসক বরাবর দায়ের করা এক অভিযোগে উঠে আসে বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পে বিদ্যাবল্লভ ফারুকের বাড়ি থেকে আজিজুর মৌলানার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার ২ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দে এইচবিবি করণের কথা থাকলেও বিদ্যাবল্লভ সাখড়া রাস্তা থেকে ফারুকের বাড়ি পর্যন্ত গিয়েই কাজ শেষ করা হয়েছে, যা আজিজুল মৌলানার বাড়ি পর্যন্ত করার কথা ছিল। এছাড়া, সাখড়া উত্তর পাড়া জামে মসজিদ উন্নয়ন বাবদ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পেলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। ওয়াই দাখিল মাদ্রাসায় আসবাবপত্র ক্রয় ও মাদ্রাসার মাঠে মাটি ভরাট প্রকল্পে বরাদ্দ থাকলেও মাদ্রসার মাঠে মাটি ভরাট না করেই সমুদয় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
একই অর্থ বছরে কান্দিউড়া ইউনিয়নের দিঘলকুর্শা হারেছ মেম্বারের বাড়ি থেকে রব্বানী মুন্সির বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার এবং দিঘলকুর্শা গ্রামের দক্ষিণ পাশের কবরস্থানে মাটি ভরাটের কাজ না করেই সমুদয় টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের সভাপতির বিরুদ্ধে। এমনকি প্রকল্পের সভাপতি সাজিয়ে চেক প্রতারণার মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে, একাংশের কাজ বাকী রেখেই সমুদয় টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছেন প্রকল্পের সভাপতি গড়াডোবা ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান।
তবে, আরেকটি প্রকল্পের সভাপতি কান্দিউড়া ইউপি সদস্য শাপলা আক্তারের দাবি, মাটির অভাবে একাংশের কাজ বাকী রেখেই উত্তোলন করেছেন সমুদয় টাকা। আর অবশিষ্ট টাকা জমা রেখেছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছে। যদিও ইউনিয়ন প্রশাসক মোঃ হুমায়ুন মির্জা তা অস্বীকার করেন।
বিষয়টি নজরে আনলে জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, প্রকল্পে লুটপাট কোন ভাবেই মেনে নেয়া হবে না। নিয়মের বাইরে গিয়ে কোন কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস।










