এলজিইডির বাচ্চু মিয়ার অপসারণ, এখনও জোরালো শাস্তির দাবি
- আপডেট এর সময় : ০৬:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 88
এলজিইডির ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়কে ঘুষ-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া। দরপত্র আহ্বান থেকে কাজ প্রদান বা অর্থ মঞ্জুরি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য করছেন তিনি। এমনকি রাজধানীর গাবতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ এখনও চলছে। কিন্তু ভবনটির কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বাচ্চু মিয়া ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একই কাজ করেছেন রাজধানীর মিরপুরের মানিকদি ক্যান্টনম্যান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ নিয়েও। এই কাজ পান নাসিদ এন্টারপ্রাইজ। তিনি এলজিইডি অফিসে ২য় তলা ভবনের ছাদ দেখিয়ে ঢাকা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: বাচ্চু মিয়ার সহযোগিতায় প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ।
এসব অভিযোগের পর দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান চালায় বাচ্চু মিয়ার অফিসে। সেখানেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের প্রামাণ মেলে দুর্নীতিবাজ এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। প্রাথমিক তদন্তে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ এবং পরিবারের সদস্যদের নামে গচ্ছিত বিপুল পরিমান সম্পদ ও টাকার সন্ধায় পায় দুদক।
এ ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত কানের খোল সরে মন্ত্রনালয়সহ কর্তা ব্যক্তিদের। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অপসারণ করা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়াকে।
বাচ্চু মিয়ার অপসারণের খবরে খুশিতে ফেটে পড়েন ঠিকাদাররা। বাচ্চু মিয়ার ছবিতে জুতা নিক্ষেপ ও মিষ্টি বিতরণ করে নিজেদের স্বস্তির খবর জানান দেন সবাইকে।
এসময় ঠিকাদাররা বলেন, বাচ্চু মিয়া ঢাকা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন কাজ দিতেন নিজের সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের। এছাড়া কাজ না করেই বিল উত্তল করে ভাগবাটোয়ারা করতেন তিনি।
ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা এসময় বেশকিছু টেন্ডারের কাগজ দেখান। যেখানে ফার্নিচারের একটা টেন্ডারে দেখা যায় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার না দিয়ে এগার (১১) নাম্বারে থাকা আরএফএল প্লাস্টিক লি.কে টেন্ডার দেয়া হয়েছে। আরেকটি টেন্ডারে দেখা যায় সর্বনিম্ন দরদাতার ক্রমানুসারে এক থেকে পাঁচে থাকা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে ৬ নাম্বারে থাকা প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাচ্চু।
এখানেই শেষ নয়, ঠিকাদাররা আরও জানান, দুদক মামলা করার পরও নিজ দপ্তরে অনেকটা জোর খাটিয়ে বহাল থাকেন বাচ্চু। সবার কাছে প্রতিটি কাজে ঘুষের রেট আরও বাড়িয়ে দেন। এমনকি বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে অগ্রীম টাকা গ্রহণ, টাকা না দিয়ে সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম-ফোন নম্বর তালিকা করে রাখতের তিনি।এনিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন সংবাদও প্রচার করে।এর কিছুদিন পরই বাচ্চু মিয়াকে অপসারণ করা হয়।
এছাড়া, নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ার পর নামে বেনামে লইসেন্স করে কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন বাচ্চু মিয়া নিজেই। তার আপন ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম সুমনের নামে করেছেন দুটি লাইসেন্স। কাজের নামে প্রায় কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয় সে প্রতিষ্ঠান দুটোকে। লাইসেন্সের ঠিকানা ধরে উত্তরার আকাশ প্লাজায় পুরো ভবন ঘুরেও মেলেনি মোহনা ও মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ নামের কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মানে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার আপন ছোট ভাই শহিদুল ইসলামকে।বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এতো কিছুর পর শুধু অপসারণ করে তাকে কি আড়াল করা হলো, নাকি সত্যি তার বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ নেবে সরকার, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। ঠিকাদারদের দাবি দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেয়া হোক কঠোর বব্যস্থা। যা ভবিষ্যতে উদাহরন হয়ে থাকবে সবার জন্য।










