উপদেষ্টার দুর্নীতির খগড় সচিবের ঘাড়ে
- আপডেট এর সময় : ০৭:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / 85
কথায় আসে কান টানলে মাথা আসে। তাইতো উপদেষ্টার দুর্নীতি খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে সচিবের নানান অপকর্ম। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমদু সজিব ভুইয়াকে নিয়ে চলছে বেশ সমালোচনা। ঘুষ-দুর্নীতির নানান গুঞ্জন এখন তাকে ঘিরে। কিন্তু তার একার পক্ষেতো আর এসব কর্মযজ্ঞ চালানো সম্বভ হয়নি। সহযোগিতা করেছেন অনেকে। সেই তালিকায় শুরুর দিকেই রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। গত ১ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে।
এই সচিবের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকান্ড বেশ সমালোচনা সৃষ্টি করেছিলো। তার মধ্যে অন্যতম নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের পূর্বেই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ স্বীয় ক্ষমতাবলে অধীনস্থ অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব এর উপর চাপ প্রয়োগ করে ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখের ব্যাক ডেট দিয়ে ৬০ নং অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়নের দায়িত্ব প্রধান প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে ন্যস্ত করেন।
Rules of Business -১৯৯৬ অনুযায়ী ক্যাডারের ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষমতা প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের। তবে বিশেষ প্রয়োজনে সাময়িকভাবে বদলি/পদায়নের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী/উপদেষ্টার সম্মতিক্রমে অধিদপ্তর প্রধান যদি ১ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা হন তবে তার হাতে অর্পণ করা যায়। জনস্বাস্থ্যের প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্বে বর্তমান যিনি আছেন তার মূল পদ ৫ম গ্রেড। ৫ম গ্রেডের ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন এর ক্ষমতা প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তাকে দেয়ায় বর্তমানে সরকারের প্রশাসনিক কাজের মূল দলিল Rules of Business-১৯৯৬ এর ব্যত্যয় হবে, নাকি দেয়া যাবে- সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু, বিগত ১১ মাসে সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যে বদলি বাণিজ্য হয়েছে তা আড়াল করতে গিয়ে Rules of Business-১৯৯৬ এর বিধি ৪(রী)(ভ) অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা ভুলে যান।
এরআগে, নিজ এলাকায় পারিবারিক করস্থান উন্নয়নে জেলা পরিষদের ২৪ লাখ টাকার ৮ প্রকল্প বরাদ্দ নিয়ে বেশ সামালোচিত হন এই সচিব। যদিও যে সময় তিনি দাবি করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন। তাকে এই বিষয়ে কোন নির্দশনা দেয়া হয়নি বলেও জানান এই সচিব। উল্লেখ বর্তমানে চাঁদপুরে কর্মরত কবির হোসেন সরদার ময়মনসিংহে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালজালিয়াতির কারণে তাকে বদলি করা হয়।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের নিজ আটাবর গ্রামের সন্তান জাহেদী ১৩ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৪ সালে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে সুনামগঞ্জ জেলায় যোগদান করেন।২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর অতিরিক্ত সচিব থেকে পদোন্নতি পেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব হন। এরপর আসিফ মাহমুদ সচিব ভুঁইয়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর তারই অধীনস্থ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্বস্ত সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীকে ৭ এপ্রিল ২০২৫ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়ে আসেন। আওয়ামী লীগ আমলে এই জাহেদী আইসিটি মন্ত্রণালয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলকেরও বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন।



















