০২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিগারেটের মূল্যস্তর পুনর্বিন্যাসে রাজস্বে ধস: উচ্চ করের চাপে বাড়ছে ‘ডাউনট্রেডিং’

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০২:২৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 167

সিগারেটের মূল্যস্তর পুনর্বিন্যাসে রাজস্বে ধস: উচ্চ করের চাপে বাড়ছে ‘ডাউনট্রেডিং’

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর থেকেই সরকারের রাজস্ব আদায়ে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্যবহার কমানো ও শুল্ক আয়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হলেও, নিম্ন স্তরের তুলনায় উচ্চ, মধ্যম ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানো হয়েছে। এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সিগারেট খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা—যা গত অর্থবছরের একই সময়ের (৩,৬৪০ কোটি টাকা) তুলনায় ১,৬০০ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫ শতাংশ কম।

রাজস্ব আদায়ে এই বড় ধরনের ধসের মূল কারণ হিসেবে খাতসংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদরা ভোক্তাদের ‘ডাউনট্রেডিং’ বা কম দামি সিগারেটের দিকে ঝুঁকে পড়াকে দায়ী করছেন। বাজেটে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ৩.৩ শতাংশ বাড়ানো হলেও মধ্যম স্তরে ১৫ শতাংশ, উচ্চ স্তরে ১৪.৩ শতাংশ এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৩.৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। এতে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের সিগারেটের ক্রেতারা ধূমপান ত্যাগ না করে সাশ্রয়ী মূল্যের নিম্ন স্তরের সিগারেটের দিকে চলে গেছেন। রাজধানীর গুলশান ও পল্টন এলাকার খুচরা বিক্রেতারা জানান, দাম বাড়ার পর থেকে উচ্চ স্তরের সিগারেটের বিক্রি কমলেও নিম্ন স্তরের সিগারেটের বিক্রি আগের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের সিগারেটের গড় মূল্য ১০ শলাকায় ১২৮ টাকা বাড়লেও তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরে বেড়েছে মাত্র ৫৬ টাকা। এর ফলে বিগত ১৫ বছরে বাজারে নিম্ন স্তরের সিগারেটের একক আধিপত্য ৮০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নিম্ন স্তরের সিগারেটে সরকারের করের পরিমাণ কম হওয়ায়, শলাকা বিক্রির সার্বিক পরিমাণ খুব বেশি না কমলেও প্রতি শলাকা থেকে আদায়যোগ্য রাজস্ব আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তামাক খাতের রাজস্বে এই ঘাটতি বজায় থাকলে সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি এবং ঋণনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তামাকের ব্যবহার হ্রাস এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে কেবল উচ্চ স্তরের ওপর কর না চাপিয়ে বিভিন্ন স্তরের মধ্যে মূল্যের বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে। একই সাথে বর্তমান মূল্যস্তর অবিলম্বে পুনর্বিন্যাস ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজস্ব ক্ষতি রোধ করতে বাজারে অবৈধ সিগারেটের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি বন্ধে তদারকি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

1 November 2026

সিগারেটের মূল্যস্তর পুনর্বিন্যাসে রাজস্বে ধস: উচ্চ করের চাপে বাড়ছে ‘ডাউনট্রেডিং’

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

সিগারেটের মূল্যস্তর পুনর্বিন্যাসে রাজস্বে ধস: উচ্চ করের চাপে বাড়ছে ‘ডাউনট্রেডিং’

আপডেট এর সময় : ০২:২৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর থেকেই সরকারের রাজস্ব আদায়ে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্যবহার কমানো ও শুল্ক আয়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হলেও, নিম্ন স্তরের তুলনায় উচ্চ, মধ্যম ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানো হয়েছে। এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সিগারেট খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা—যা গত অর্থবছরের একই সময়ের (৩,৬৪০ কোটি টাকা) তুলনায় ১,৬০০ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫ শতাংশ কম।

রাজস্ব আদায়ে এই বড় ধরনের ধসের মূল কারণ হিসেবে খাতসংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদরা ভোক্তাদের ‘ডাউনট্রেডিং’ বা কম দামি সিগারেটের দিকে ঝুঁকে পড়াকে দায়ী করছেন। বাজেটে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ৩.৩ শতাংশ বাড়ানো হলেও মধ্যম স্তরে ১৫ শতাংশ, উচ্চ স্তরে ১৪.৩ শতাংশ এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৩.৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। এতে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের সিগারেটের ক্রেতারা ধূমপান ত্যাগ না করে সাশ্রয়ী মূল্যের নিম্ন স্তরের সিগারেটের দিকে চলে গেছেন। রাজধানীর গুলশান ও পল্টন এলাকার খুচরা বিক্রেতারা জানান, দাম বাড়ার পর থেকে উচ্চ স্তরের সিগারেটের বিক্রি কমলেও নিম্ন স্তরের সিগারেটের বিক্রি আগের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের সিগারেটের গড় মূল্য ১০ শলাকায় ১২৮ টাকা বাড়লেও তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরে বেড়েছে মাত্র ৫৬ টাকা। এর ফলে বিগত ১৫ বছরে বাজারে নিম্ন স্তরের সিগারেটের একক আধিপত্য ৮০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নিম্ন স্তরের সিগারেটে সরকারের করের পরিমাণ কম হওয়ায়, শলাকা বিক্রির সার্বিক পরিমাণ খুব বেশি না কমলেও প্রতি শলাকা থেকে আদায়যোগ্য রাজস্ব আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তামাক খাতের রাজস্বে এই ঘাটতি বজায় থাকলে সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি এবং ঋণনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তামাকের ব্যবহার হ্রাস এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে কেবল উচ্চ স্তরের ওপর কর না চাপিয়ে বিভিন্ন স্তরের মধ্যে মূল্যের বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে। একই সাথে বর্তমান মূল্যস্তর অবিলম্বে পুনর্বিন্যাস ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজস্ব ক্ষতি রোধ করতে বাজারে অবৈধ সিগারেটের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি বন্ধে তদারকি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

1 November 2026

সিগারেটের মূল্যস্তর পুনর্বিন্যাসে রাজস্বে ধস: উচ্চ করের চাপে বাড়ছে ‘ডাউনট্রেডিং’