০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড: আগস্টে প্রবৃদ্ধি ২৫.৬৫ শতাংশ

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০২:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 35

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড: আগস্টে প্রবৃদ্ধি ২৫.৬৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড: আগস্টে প্রবৃদ্ধি ২৫.৬৫ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে একক মাস হিসেবে সর্বকালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আগস্টে পোশাক রপ্তানি ২৫.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানির মূল উপাত্ত ও হিসাব

আগস্ট মাসের আয়: চলতি অর্থবছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই মাসে ছিল ৬৫০.৩৪ মিলিয়ন ডলার।

দুই মাসের যৌথ আয়: চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) মোট ১.৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১.৪২ শতাংশ বেশি।

মাসিক গড় রপ্তানি: জুলাই-আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬.৪৬ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক গড় ছিল ৬৪৫.৩৮ মিলিয়ন ডলার।

একক বাজারের ভূমিকা: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলার (যা দেশের মোট ৪৮ বিলিয়ন ডলার আয় থেকে প্রাপ্ত)। এর মধ্যে কেবল তৈরি পোশাক খাত থেকেই এসেছে ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি বৃদ্ধির কারণ ও খাতের চিত্র

শীতকালীন অর্ডারের প্রভাব: এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তা মো. ফজলুল হক জানান, আগস্টে শীতকালীন পোশাকের ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করার শেষ সময় হওয়ায় শিপমেন্ট বা সরবরাহ বেড়েছে। তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈশ্বিক সুযোগ ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা: বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তৈরি সুযোগ দেশের উদ্যোক্তারা কাজে লাগাচ্ছেন। তবে এটি বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও টেকসই নীতি সহায়তা প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের সিইও মহিউদ্দিন রুবেল জানান, রপ্তানির বর্তমান গতি বজায় থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৯ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে।

পোশাকের বাইরে সম্ভাবনা ও উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে তৈরি পোশাকের বাইরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, ওষুধ ও হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি থেকে প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার আয় আসছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ওষুধ, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং আইসিটি খাতকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করা এবং হাই-ভ্যালু ও বৈচিত্র্যময় পণ্যে মনোযোগ দিলে এই বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

1 November 2026

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড: আগস্টে প্রবৃদ্ধি ২৫.৬৫ শতাংশ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড: আগস্টে প্রবৃদ্ধি ২৫.৬৫ শতাংশ

আপডেট এর সময় : ০২:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে একক মাস হিসেবে সর্বকালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আগস্টে পোশাক রপ্তানি ২৫.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানির মূল উপাত্ত ও হিসাব

আগস্ট মাসের আয়: চলতি অর্থবছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই মাসে ছিল ৬৫০.৩৪ মিলিয়ন ডলার।

দুই মাসের যৌথ আয়: চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) মোট ১.৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১.৪২ শতাংশ বেশি।

মাসিক গড় রপ্তানি: জুলাই-আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬.৪৬ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক গড় ছিল ৬৪৫.৩৮ মিলিয়ন ডলার।

একক বাজারের ভূমিকা: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলার (যা দেশের মোট ৪৮ বিলিয়ন ডলার আয় থেকে প্রাপ্ত)। এর মধ্যে কেবল তৈরি পোশাক খাত থেকেই এসেছে ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি বৃদ্ধির কারণ ও খাতের চিত্র

শীতকালীন অর্ডারের প্রভাব: এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তা মো. ফজলুল হক জানান, আগস্টে শীতকালীন পোশাকের ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করার শেষ সময় হওয়ায় শিপমেন্ট বা সরবরাহ বেড়েছে। তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈশ্বিক সুযোগ ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা: বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তৈরি সুযোগ দেশের উদ্যোক্তারা কাজে লাগাচ্ছেন। তবে এটি বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও টেকসই নীতি সহায়তা প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের সিইও মহিউদ্দিন রুবেল জানান, রপ্তানির বর্তমান গতি বজায় থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৯ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে।

পোশাকের বাইরে সম্ভাবনা ও উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে তৈরি পোশাকের বাইরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, ওষুধ ও হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি থেকে প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার আয় আসছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ওষুধ, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং আইসিটি খাতকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করা এবং হাই-ভ্যালু ও বৈচিত্র্যময় পণ্যে মনোযোগ দিলে এই বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

1 November 2026

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড: আগস্টে প্রবৃদ্ধি ২৫.৬৫ শতাংশ