০৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকিতে আখ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৪:১৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 22

দুমকিতে আখ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

সারা ক্ষেত জুড়ে সোনালী রঙের মন জুড়ানো আখের উপর শরতের দুপুরের ভ্যাপসা গরম হাওয়ায় দুলে যেন জানান দিচ্ছে আমি পরিপুষ্ট হয়েছি, আমাকে আহরন করো।
‎
‎আখ বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় রসালো, মুখরোচক ও মিষ্টি ঘাস জাতীয় অর্থকারী ফসল যা সব বয়সের মানুষের কাছে আখ খুব প্রিয়। তাই আখের মৌসুমে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার ও অলি গলিতে বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়।
‎
‎খাল পাড়ের অনাবাদি পরিত্যক্ত জমিতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে আখ চাষ করে ভালো লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ক্যাচক্যাচিয়া খাল পাড়ের বাসিন্দা আব্দুল খালেক হাওলাদার।
‎
‎রবিবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আব্দুল খালেক হাওলাদার অন্যের পরিত্যক্ত প্রায় পঁচিশ শতাংশ জমিতে আখে চাষ করেছেন।
‎
‎দেশি জাতের লাল সুন্দরী আখ চাষ করেছেন তিনি আখের ফলন বেশ ভালো ফলন হয়েছে। ৯থেকে ১৩ ফুট লম্বা এসব আঁখ ইতিমধ্যে পরিপক্ক হয়ে বিক্রয়ের উপযোগী হয়েছে।
‎
‎আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, খাল পাড়ের জমিতে কোন ফসল ভালো হয় না। অনাবাদি অবস্থায় পরিত্যক্ত ছিল। গত বছর অগ্রাহায়ন মাসে আখ চাষে পরিকল্পনা করে ২৫ শতাংশ জমি প্রস্তুত করি। পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে চারা কিনে প্রথমে আলাদা বিজতলা তৈরি করে পাতরা দেই। পরে কন্দ‌ ও শিকর গজালে সে চারা তুলে জমিতে রোপন করি।
‎
‎জমি চাষাবাদ চারা ক্রয় ও সার ঔষুধ বাবদ প্রায় ৬০হাজার টাকা খরচ হয়। ১১মাস নিয়মিত আখ ক্ষেতে পরিচর্যা করি। বর্তমানে আখ বেশ ভালো হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই বাজারজাত শুরু করেছি। বর্তমানে প্রতি পিচ ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আশা করি খরচ বাদে এক লাখ টাকা লাভ হবে।
‎
‎অপর এক কৃষক জাকির হাওলাদার জানান, চলতি বছর অল্প জমিতে আখ চাষ করে ভালো লাভবান হয়ছি। আগামীতে আরো বেশি জমিতে আখ চাষের আশা আছে।
‎
‎এছাড়াও আখ চাষ একটি লাভজনক রসালো ফসল হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু কৃষকদের মাঝে মধ্যে চাষাবাদ করতে দেখা যায়। তবে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী, কৃষকদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় উৎসাহ ও প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হলে আখের ব্যাপক চাহিদা মেটানো যেতে পারে বলে অভিজ্ঞদের ধারণা।
‎
‎এব্যাপারে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন জানান, দুমকি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩হেক্টর মতো আখ চাষ হয়েছে। বাংলাদেশ চর এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় আখ চাষ সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরে চরবয়ড়া গ্রামে ১ টি আখের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছিল। আখ অত্যন্ত লাভজনক ফসল। আখের জীবনকাল দীর্ঘ হওয়ায় আখের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে অন‍্য ফসল চাষ করে আর্থিক আয় করা যায়।

28 October 2026

দুমকিতে আখ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

দুমকিতে আখ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

আপডেট এর সময় : ০৪:১৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সারা ক্ষেত জুড়ে সোনালী রঙের মন জুড়ানো আখের উপর শরতের দুপুরের ভ্যাপসা গরম হাওয়ায় দুলে যেন জানান দিচ্ছে আমি পরিপুষ্ট হয়েছি, আমাকে আহরন করো।
‎
‎আখ বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় রসালো, মুখরোচক ও মিষ্টি ঘাস জাতীয় অর্থকারী ফসল যা সব বয়সের মানুষের কাছে আখ খুব প্রিয়। তাই আখের মৌসুমে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার ও অলি গলিতে বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়।
‎
‎খাল পাড়ের অনাবাদি পরিত্যক্ত জমিতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে আখ চাষ করে ভালো লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ক্যাচক্যাচিয়া খাল পাড়ের বাসিন্দা আব্দুল খালেক হাওলাদার।
‎
‎রবিবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আব্দুল খালেক হাওলাদার অন্যের পরিত্যক্ত প্রায় পঁচিশ শতাংশ জমিতে আখে চাষ করেছেন।
‎
‎দেশি জাতের লাল সুন্দরী আখ চাষ করেছেন তিনি আখের ফলন বেশ ভালো ফলন হয়েছে। ৯থেকে ১৩ ফুট লম্বা এসব আঁখ ইতিমধ্যে পরিপক্ক হয়ে বিক্রয়ের উপযোগী হয়েছে।
‎
‎আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, খাল পাড়ের জমিতে কোন ফসল ভালো হয় না। অনাবাদি অবস্থায় পরিত্যক্ত ছিল। গত বছর অগ্রাহায়ন মাসে আখ চাষে পরিকল্পনা করে ২৫ শতাংশ জমি প্রস্তুত করি। পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে চারা কিনে প্রথমে আলাদা বিজতলা তৈরি করে পাতরা দেই। পরে কন্দ‌ ও শিকর গজালে সে চারা তুলে জমিতে রোপন করি।
‎
‎জমি চাষাবাদ চারা ক্রয় ও সার ঔষুধ বাবদ প্রায় ৬০হাজার টাকা খরচ হয়। ১১মাস নিয়মিত আখ ক্ষেতে পরিচর্যা করি। বর্তমানে আখ বেশ ভালো হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই বাজারজাত শুরু করেছি। বর্তমানে প্রতি পিচ ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আশা করি খরচ বাদে এক লাখ টাকা লাভ হবে।
‎
‎অপর এক কৃষক জাকির হাওলাদার জানান, চলতি বছর অল্প জমিতে আখ চাষ করে ভালো লাভবান হয়ছি। আগামীতে আরো বেশি জমিতে আখ চাষের আশা আছে।
‎
‎এছাড়াও আখ চাষ একটি লাভজনক রসালো ফসল হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু কৃষকদের মাঝে মধ্যে চাষাবাদ করতে দেখা যায়। তবে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী, কৃষকদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় উৎসাহ ও প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হলে আখের ব্যাপক চাহিদা মেটানো যেতে পারে বলে অভিজ্ঞদের ধারণা।
‎
‎এব্যাপারে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন জানান, দুমকি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩হেক্টর মতো আখ চাষ হয়েছে। বাংলাদেশ চর এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় আখ চাষ সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরে চরবয়ড়া গ্রামে ১ টি আখের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছিল। আখ অত্যন্ত লাভজনক ফসল। আখের জীবনকাল দীর্ঘ হওয়ায় আখের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে অন‍্য ফসল চাষ করে আর্থিক আয় করা যায়।

28 October 2026

দুমকিতে আখ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন