হবিগঞ্জে পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪২৯২ লিটার কনডেনসেট চুরি, সাবেক ইউপি সদস্যসহ মামলা
- আপডেট এর সময় : ১২:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 28
হবিগঞ্জের মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের কনডেনসেটবাহী পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে সংঘবদ্ধ চক্রটি পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ স্থাপন করে ৪ হাজার ২৯২ লিটার কনডেনসেট চুরি করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯২০ টাকা।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর রাত ১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উত্তর নোয়াপাড়া এলাকার রতনপুর ডাক্তার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে জিটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মীরা চুরির বিষয়টি উদঘাটন করেন। এ সময় ৫-৬ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পাওয়া গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে যান। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে হোসপাইপের মাধ্যমে পাইপলাইন থেকে কনডেনসেট চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে।
জিটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মীদের সুপারভাইজার দুলাল মিয়া জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনকে (৫০) ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় এবং তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের সেখানে যেতে বাধা দেন। খবর পেয়ে মাধবপুর থানার এসআই সামসু উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তেল চুরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে। এছাড়া সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনের বাড়ির পুকুর ও আশপাশ থেকে তেল মজুদের কাজে ব্যবহৃত দুটি বড় পানির ট্যাংক এবং মাটির নিচে তেল সংরক্ষণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি দুটি গোপন গর্ত বা ট্যাংকের সন্ধান পাওয়া যায়।
জিটিসিএলের আশুগঞ্জ অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। উপব্যবস্থাপক মো. জায়েদ হোসেন জানান, চুরি হওয়া তেল মাটির নিচে তৈরি গোপন ট্যাংকে মজুদ করা হতো। উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম হাসান উল্লেখ করেন, এই চুরির ফলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও পরিবেশের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাধবপুর থানায় মামলা করেছে জিটিসিএল। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, জিটিসিএল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















