বেনাপোলে কাগজপত্রবিহীন ভারতীয় ট্রাক জব্দ
নিরাপত্তা প্রহরী ও চালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট এর সময় : ০৬:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 130
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ করার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি বাংলাদেশি ট্রাক ও তার চালককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বন্দরের আনসার সদস্য এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২ জনসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় এই মামলাটি দায়ের করে।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন রাত ৯টার দিকে ঝিকরগাছার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। নথিপত্র অনুযায়ী, ২৫ জুন ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের তথ্য দেখিয়ে বন্দর এলাকা ত্যাগ করার কথা ছিল। তবে অভিযোগ ওঠে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ ৫০ বস্তা পণ্য কৌশলে ৩২ নম্বর ইয়ার্ডে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে ভারতীয় ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করলে সেটিকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। ঘটনার পর ভারতীয় ট্রাকচালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশি ট্রাক ও এর চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে, পণ্য পাচারের সাথে জড়িত চক্রটি কৌশলে ‘মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেছে বলে জানা গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ঘটনার পর থেকে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতন জানান, অপরাধ দমনে বন্দর কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং প্রাথমিক তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় নিরাপত্তাকর্মী ও চালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও নাম এলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, বন্দরে প্রতিটি ট্রাকে বিজিবির তল্লাশি, কাস্টমস ও বন্দরের যৌথ ওজন পরীক্ষা, আধুনিক স্ক্যানিং এবং প্রায় ৩৭৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও অসাধু চক্র কীভাবে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য প্রবেশ করাচ্ছে, তা উদ্বেগের বিষয়। এর ফলে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বন্দরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, চলতি মাসে কাস্টমসের দায়ের করা আগের তিনটি পণ্য পাচার মামলায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে, বৈধ পথে আমদানিকৃত পণ্যের পাচার ও বন্দরে চলমান অনিয়ম রোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে।




















