কর্পোরেট কর ফাঁকি বন্ধে এনবিআরের কঠোর পদক্ষেপ: বাজার অংশীদারত্বের সাথে রাজস্বের সামঞ্জস্য যাচাই
- আপডেট এর সময় : ০৬:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 35
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি চিহ্নিত করতে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার পরিধির সঙ্গে তাদের পরিশোধিত রাজস্বের সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের নির্দেশে ভ্যাট বাস্তবায়নের সদস্য সৈয়দ মুসফিকুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি এই পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সিমেন্ট, সিগারেট, খাদ্য ও পানীয় এবং এমএস প্রোডাক্ট (রড ও ঢেউটিন)—এই চার শীর্ষ খাতের তথ্যাদি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে টয়লেট্রিজ ও জুয়েলারিসহ অন্যান্য শিল্প খাতকেও এই নজরদারির আওতায় আনা হবে। গত ১৬ আগস্ট আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) এক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও এনবিআরের এই কৌশলের সমর্থন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, খাতভিত্তিক বাজার অংশীদারত্ব হিসাব করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় রাজস্বের সঠিকতা নিরূপণ করা হবে।
গত ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোকে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্র্যান্ডের নাম, এইচএস কোড, ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং আমদানি ও স্থানীয় কাঁচামাল সংগ্রহের তথ্য ছক আকারে সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনবিআর মূলত ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কাঁচামাল আমদানি এবং পণ্য বিক্রির তথ্যের পার্থক্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ব্যবসার পরিমাণ বের করবে। বিশেষ করে সিমেন্ট খাতে প্রধান কাঁচামাল ‘ক্লিংকার’ আমদানির ওপর বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে; যেখানে গত তিন অর্থবছরের ক্লিংকার আমদানি ও পরিশোধিত ভ্যাটের অসামঞ্জস্য খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে সিগারেট খাতের উৎপাদন ও সরবরাহ, খাদ্য ও পানীয় খাতের চার ক্যাটাগরি (পানি, এনার্জি ড্রিংকস, কার্বনেটেড ও নন-কার্বনেটেড ড্রিংকস) এবং এমএস প্রোডাক্ট খাতের রড, ঢেউটিন ও প্রি-ফেব্রিকেটেড অবকাঠামো প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের প্রবাহ নজরদারিতে আনা হচ্ছে।
এনবিআরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও এটি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতি ও ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, এই উদ্যোগটি বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে, তবে তা যেন ব্যবসায়ীদের জন্য হয়রানির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। আবার তামাকবিরোধী সংস্থা ‘বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি’র সদস্য সুশান্ত সিনহা মনে করেন, সিগারেট উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহের তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ লুকানো রাজস্ব উদ্ধার সম্ভব। এনবিআরের কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে এটি সময়সাপেক্ষ কাজ, তবে সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তথ্যভিত্তিক এই নজরদারি দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ফাঁকি কমাবে এবং দেশে একটি সমতার ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।





















