যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপ: চরম উত্তেজনায় দুই মিত্রের বাণিজ্য সম্পর্ক
- আপডেট এর সময় : ০২:১২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 21
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পদক্ষেপে ঐতিhistorically ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ এখন চরম রূপ নিয়েছে। কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন জানান, মার্কিন শুল্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, ইলেকট্রনিকস, ওয়াশিং মেশিন ও হিমায়িত মাছসহ বিভিন্ন শিল্প ও ভোগ্যপণ্যে এই পাল্টা শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া শুল্কযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের সহায়তায় কানাডা সরকার ৭৫০ কোটি কানাডীয় ডলারের (৫৪০ কোটি মার্কিন ডলার) একটি বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
এই বাণিজ্য উত্তেজনার আবহ তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করার পর। শেষ মুহূর্তে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন এ সিদ্ধান্ত নেয়, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পণ্যেও কোনো ছাড় রাখা হয়নি। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডা আগে থেকে থাকা ২৫ শতাংশের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে কানাডার গাড়ির ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা হতে পারে। তিনি অন্টারিও লেকের নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার মন্তব্য এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ‘গভর্নর’ বলে অভিহিত করায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বাণিজ্যিক এই সংঘাতের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির বড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের হিসাব অনুযায়ী, নতুন শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার রপ্তানির ওপর কার্যকর গড় শুল্ক ৫.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬.৯ শতাংশে দাঁড়াবে, যা কুইবেক, নিউ ব্রান্সউইক ও অন্টারিও প্রদেশের উৎপাদন খাতকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। উল্লেখ্য, কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ কানাডীয় নাগরিক বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্নির সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।



















