সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতি অনুসন্ধান, প্রতিক্রিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট
- আপডেট এর সময় : ০৪:০২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নানা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই সংবাদ প্রকাশ্যে আসার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসিফ মাহমুদ লেখেন, “অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।”
দুদকে দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পালনকালে আসিফ মাহমুদ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্য, ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে আব্দুস সালামকে ১০ কোটি টাকা, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটির সিইও পদে আব্দুল লতিফ খানকে ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করে হেলিকপ্টার ভ্রমণ, ফাইভ স্টার হোটেলে যাতায়াত এবং অর্জিত অর্থ পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে পাচার করে ভিলা কেনা ও ব্যবসা করার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৪৫৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ নেওয়া এবং তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ঘনিষ্ঠজনদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অভিযোগে স্থান পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে প্রথমে যুব ও ক্রীড়া এবং পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ। পরবর্তীতে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন এবং বর্তমানে দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


















