জুলাই-আগস্টের রাজস্বের তথ্য প্রকাশে বিলম্ব এনবিআরের: নীতি নির্ধারণে জটিলতার আশঙ্কা
- আপডেট এর সময় : ০৫:২০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস (জুলাই ও আগস্ট) পার হলেও রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সাধারণত অর্থবছরের শুরু থেকেই আদায়ের অগ্রগতি প্রকাশ করা হলেও এবার তথ্য না পাওয়ায় সরকারের রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চলতি বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে এনবিআরের মাধ্যমে রেকর্ড ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, যা অর্জন করতে হলে গত বছরের (৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা) তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। এমন বিশাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে শুরুতেই তথ্য প্রকাশে বিলম্ব অর্থনীতিবিদদের মতে সরকারের নীতি নির্ধারণ ও আর্থিক পরিকল্পনায় বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এনবিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়মে পরিবর্তনের কারণেই প্রধানত এ বিলম্ব ও প্রভাব তৈরি হয়েছে। আগে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও চলতি অর্থবছর থেকে তা ত্রৈমাসিক (তিন মাস পর পর) দাখিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা সাময়িক তারল্য সুবিধার কারণে মাসিক রিটার্ন জমা দেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন এবং এনবিআরের মোট রাজস্বের মূল উৎস এই ভ্যাট আদায়ে জুলাই মাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুই বা তিন মাসের তথ্য একসঙ্গে প্রকাশের চিন্তাভাবনা করছে এনবিআর, যা আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে।
প্রতি তিন মাসে একবার রিটার্ন জমা দেওয়ায় মাসভিত্তিক আদায়ের হিসাব পর্যবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়েও আলোচনা হয়েছে। এনবিআর কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠকে পূর্বের মাসিক রিটার্ন ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার নীতিগত সমর্থন পেলেও তিন মাসের রিটার্ন পর্যালোচনা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান মনে করেন, ভ্যাট রিটার্নের নিয়ম পরিবর্তন রাজস্ব কম বা বেশি হওয়ার ব্যাখ্যা হতে পারে, কিন্তু তথ্য গোপন বা বিলম্বের কারণ হতে পারে না। তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে সরকারের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত ভুল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় বলে তিনি দ্রুত নিরপেক্ষ তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।



















