খেলাপি ঋণ আদায় ও সংস্কারে ইতিবাচক সুফল: ৯ মাসে এনপিএল কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ
- আপডেট এর সময় : ০৩:০৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 37
ব্যাংক খাতে ব্যাপক সংস্কার এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে নেওয়া জোরদার উদ্যোগের কারণে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) অনুপাত প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এনপিএল অনুপাত ছিল ৩৫.৭৩ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের জুন শেষে ৩২.৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এই ৯ মাসে অনুপাত কমেছে ২.৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।
ব্যাংক খাতের বর্তমান খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি
জুন ২০২৬: শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৩২.৭৮%)।
সেপ্টেম্বর ২০২৫: শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৩৫.৭৩%)।
মূল পরিবর্তন: মোট খেলাপি ঋণের অংক সামান্য বাড়লেও, মোট বিতরণকৃত ঋণের তুলনায় এর শতকরা অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে আগে লুকিয়ে রাখা বা বারবার পুনঃতফসিল করা অনেক ঋণ সামনে চলে এসেছে। খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি (Exit Policy) এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা চালু করা হয়েছে, যা সামনে আরও ইতিবাচক ফল দেবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছিল। ২০০৮ সালের ২২ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ২০২৪ সালে সরকারি হিসাবে ২ লাখ কোটি টাকা দেখানো হলেও শ্বেতপত্রে প্রকৃত ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণ উঠে এসেছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের এই সংস্কার নীতিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি ঋণ আদায়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংস্থান এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কঠোর হওয়ার তাগিদ দেন।
একইভাবে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উল্লেখ করেন, ব্যাংক খাত পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
টেকসই সংস্কারে বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শসমূহ
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রয়োগ: আইএফআরএস-৯ (IFRS-9) অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি (ECL) হিসাব চালু করে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করা।
আইনি ব্যবস্থা ও সুশাসন: ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
কাঠামোগত পরিবর্তন: শুধু পরিসংখ্যান কমানো নয়, বরং পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও কঠোর ঋণ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের আসল কারণগুলো দূর করা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এনপিএল কমার এই প্রবণতা ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি আশাব্যঞ্জক প্রাথমিক সংকেত। তবে এটি কতটা টেকসই হচ্ছে, তা স্পষ্ট হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকের ডেটা সামনে এলে। ধারাবাহিক উদ্যোগ বজায় থাকলে ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের আস্থা ও ঋণশৃঙ্খলা দ্রুত ফিরে আসবে।




















