আইডিআরএ-এর তথ্যের ছক নিয়ে বীমা খাতে বিভ্রান্তি: পরিশোধিত মূলধনের তথ্য তলব
- আপডেট এর সময় : ০৪:১৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 10
দেশের সরকারি-বেসরকারি লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধনের তথ্য চেয়ে সম্প্রতি পৃথক দুটি চিঠি জারি করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সংস্থাটির লাইফ ও নন-লাইফ অনুবিভাগ থেকে পাঠানো এই চিঠিতে মূলধনের অর্থ কোন ব্যাংকের কোন শাখায় বা কোন হিসাবে জমা রয়েছে, তা একটি নির্দিষ্ট ছকে দ্রুত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোকে তিন কার্যদিবস এবং নন-লাইফ কোম্পানিগুলোকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নন-লাইফ খাতের ক্ষেত্রে তথ্যের সপক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাংক প্রমাণকও চাওয়া হয়েছে। তবে মূলধন প্রদর্শনের জন্য আইডিআরএ-এর তৈরি করা এই ছকের বিভিন্ন খাত নিয়ে পুরো বীমা খাত জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিভ্রান্তি।
আইডিআরএ-এর পাঠানো ছকে মূলধনের টাকা প্রদর্শনের জন্য এফডিআর, সঞ্চয়ী হিসাব এবং ‘অন্যান্য’ নামে তিনটি কলাম রাখা হয়েছে। তবে বীমা আইন ২০১০-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, কোম্পানির অনুমোদনের সময় উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত ১৮ কোটি টাকার মূলধন অনুমোদিত ব্যাংকে দায়মুক্তভাবে জমা (এফডিআর) রাখতে হয় এবং ২৩ ধারা অনুযায়ী দেড় কোটি টাকার সংবিধিবদ্ধ জামানত ট্রেজারি বন্ড বা অনুমোদিত সিকিউরিটিজ আকারে আইডিআরএ-এর অনুকূলে লিয়েন রাখতে হয়। আইনের এই স্পষ্ট বিধানের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিশোধিত মূলধনের অর্থ সঞ্চয়ী বা অন্য কোনো চলতি হিসাবে জমা রাখার কোনো আইনি সুযোগ নেই। ফলে ছকে সঞ্চয়ী ও ‘অন্যান্য’ কলাম যুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অর্জিত মুনাফা বা রিটেইন্ড আর্নিংস থেকে বোনাস শেয়ার দিয়ে পরিশোধিত মূলধনের আকার বাড়িয়ে থাকে। বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে নতুন কোনো নগদ অর্থ প্রতিষ্ঠানে আসে না, বরং ক্যাপিটালাইজড হয়। সে কারণে এই মূলধন আলাদা করে কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে তা নির্দিষ্ট করা সম্ভব নয়। একটি লাইফ বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অনুমোদনের পর যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মূলধন বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ ও দৈনন্দিন পরিচালনা কাজে ব্যবহৃত হয়, যা কখনোই শুধু সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকে না। তাঁর মতে, ছকটি আইনানুযায়ী বিনয়োগের খাতভেদে তৈরি করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য হিসাব দেওয়া সহজ হতো।
তৈরি হওয়া এই বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরামর্শক (জনসংযোগ) সাদিক আরমান জানান, কোম্পানিগুলো তথ্য জমা দিতে গিয়ে যদি উল্লেখিত কলামগুলোতে কোনো পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজন মনে করে, তবে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, আইডিআরএ ও সিএসই-এর তথ্যানুসারে বিদেশি মালিকানাধীন মেটলাইফ ছাড়া বর্তমানে দেশের ৩৫টি লাইফ বীমা কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ২৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।



















