০২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের পরিবারের ২৫০ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০১:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 7

ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের পরিবারের ২৫০ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ নির্দেশ দেন। ক্রোক হওয়া এসব সম্পদের সরকারি দাপ্তরিক মূল্য প্রায় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা হলেও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ সূত্রে জানা গেছে, এগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকারও বেশি। আসামিরা যাতে সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা বিক্রি করতে না পারেন, সে জন্য ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও পটুয়াখালীর জেলা রেজিস্ট্রারদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে নজরুল ইসলামের নামে ২০টি দলিলে ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকার সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার গুলশানে ১০ কোটি টাকা মূল্যের আট কাঠা জমি ও বাড়ি, কুয়াকাটায় ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ৬.১৮ একর জমি এবং উত্তরায় ২১.২১ কাঠা জমিসহ ভালুকা, রূপগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ২২টি দলিলে ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে জমি, আবাসিক প্লট, ফ্ল্যাট ও ভবন রয়েছে। সব মিলিয়ে দাপ্তরিক হিসাবে তাঁদের মোট ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণের আওতায় আনা হয়েছে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের তহবিল থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের অভিযোগ মতে, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলাম এবং সাবেক পরিচালক এম এ খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জমি ক্রয় ও এমটিডিআর বন্ধক রেখে ভুয়া ঋণের নামে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর আগে ২০২০ সালে গোড়ান-চটবাড়ি এলাকায় জমি কেনার নামে ১১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের সংবাদ প্রকাশের পর বিএসইসি-র তদন্তেও অনিয়মের তথ্য প্রমাণ মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং নজরুল ইসলাম ও সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্লাহ কারাগারে যান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে এসব অঘোষিত সম্পদের সন্ধান পায় দুদক।

বীমা খাতের এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের প্রভাব পড়েছে সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের ওপর। আইডিআরএর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও এখনও প্রায় ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকার দাবি বকেয়া পড়ে আছে। এর ফলে দীর্ঘ দিন ধরে বিমা গ্রাহকরা চরম ভোগান্ত পোহাচ্ছেন। এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে নজরুল ইসলামের যুক্তরাষ্ট্রেও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সে দেশে থাকা তাঁর বাড়ি, অন্যান্য সম্পদ ও লেনদেনের বিস্তারিত জানতে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ (এমএলএআর) পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সম্পদ ক্রোকের সিদ্ধান্ত বীমা খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

14 September 2026

ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের পরিবারের ২৫০ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

abc

ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের পরিবারের ২৫০ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

আপডেট এর সময় : ০১:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ নির্দেশ দেন। ক্রোক হওয়া এসব সম্পদের সরকারি দাপ্তরিক মূল্য প্রায় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা হলেও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ সূত্রে জানা গেছে, এগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকারও বেশি। আসামিরা যাতে সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা বিক্রি করতে না পারেন, সে জন্য ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও পটুয়াখালীর জেলা রেজিস্ট্রারদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে নজরুল ইসলামের নামে ২০টি দলিলে ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকার সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার গুলশানে ১০ কোটি টাকা মূল্যের আট কাঠা জমি ও বাড়ি, কুয়াকাটায় ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ৬.১৮ একর জমি এবং উত্তরায় ২১.২১ কাঠা জমিসহ ভালুকা, রূপগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ২২টি দলিলে ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে জমি, আবাসিক প্লট, ফ্ল্যাট ও ভবন রয়েছে। সব মিলিয়ে দাপ্তরিক হিসাবে তাঁদের মোট ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণের আওতায় আনা হয়েছে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের তহবিল থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের অভিযোগ মতে, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলাম এবং সাবেক পরিচালক এম এ খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জমি ক্রয় ও এমটিডিআর বন্ধক রেখে ভুয়া ঋণের নামে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর আগে ২০২০ সালে গোড়ান-চটবাড়ি এলাকায় জমি কেনার নামে ১১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের সংবাদ প্রকাশের পর বিএসইসি-র তদন্তেও অনিয়মের তথ্য প্রমাণ মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং নজরুল ইসলাম ও সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্লাহ কারাগারে যান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে এসব অঘোষিত সম্পদের সন্ধান পায় দুদক।

বীমা খাতের এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের প্রভাব পড়েছে সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের ওপর। আইডিআরএর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও এখনও প্রায় ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকার দাবি বকেয়া পড়ে আছে। এর ফলে দীর্ঘ দিন ধরে বিমা গ্রাহকরা চরম ভোগান্ত পোহাচ্ছেন। এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে নজরুল ইসলামের যুক্তরাষ্ট্রেও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সে দেশে থাকা তাঁর বাড়ি, অন্যান্য সম্পদ ও লেনদেনের বিস্তারিত জানতে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ (এমএলএআর) পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সম্পদ ক্রোকের সিদ্ধান্ত বীমা খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

14 September 2026

ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের পরিবারের ২৫০ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ