১০০০ টাকার নোট বাতিল ও রিজার্ভ ছাড়া টাকা ছাপানো বন্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ
- আপডেট এর সময় : ০৪:১৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
দেশের অর্থনীতিকে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি থেকে রক্ষা করতে এবং ব্যাকআপ বা রিজার্ভ ছাড়া ইচ্ছেমতো নতুন টাকা ছাপানো বন্ধের দাবিতে সরকারকে এক আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও কালোটাকার দৌরাত্ম্য বন্ধে দেশে প্রচলিত ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে এতে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর এই নোটিশটি পাঠান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত সঞ্চয় বা রিজার্ভ না রেখেই বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রমাগত বাজার ও অর্থনীতিতে নতুন টাকা সরবরাহ করছে, যা অর্থনীতির সর্বজনীন নিয়মের পরিপন্থী। রিজার্ভ ছাড়া এভাবে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহের ফলে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ অনুযায়ী টাকার নিজস্ব মান ও ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে, যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং দেশজুড়ে দেখা দিচ্ছে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট।
নোটিশে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির ফলে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের মর্যাদাপূর্ণভাবে জীবনধারণের মৌলিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। পাশাপাশি ১০০০ টাকার উচ্চমূল্যের নোটের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে আইনজীবী বলেন, সাধারণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনে এই বড় নোটের বিশেষ কোনো প্রয়োজন হয় না। বরং দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ও কর ফাঁকিবাজরা অবৈধ অর্থ গোপনে জমা রাখতে ও ছায়া অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে এটি ব্যবহার করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ২০০২ টাকার নোট বাতিলের উদাহরণ টেনে বলা হয়, দেশে স্বচ্ছতা ফেরাতে ১০০০ টাকার নোটের লেনদেন বন্ধ করা আবশ্যক। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।




















